ফের ভিন রাজ্যে মৃত মালদার ২ শ্রমিক




মালদা, ৪জুলাই: আবারও ভিনরাজ্যে মৃত মালদার শ্রমিক। পরিবারের অর্থ যোগানে ভিনরাজ্যে পারি দিয়ে বাড়ি ফিরল মালদার দুই শ্রমিকের নিথর দেহ। ভিনরাজ্যের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ওই দুই শ্রমিকের। বুধবার ভোর রাতে মৃতদেহ ঘিরে মালদার ইংরেজবাজার থানার সাতঘরিয়া গ্রামে প্রবল উত্তেজনা ছড়ায়। ক্ষিপ্ত জনতা ঠিকাদারের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এমনকি ঠিকাদারের লোকেরাও গ্রামবাসীর উপর চড়াও হয়। ঘটনাকে ঘিরে কিছুক্ষণের জন্য অবরুদ্ধ হয় মালদা-পুখুরিয়া রাজ্য সড়ক। যদিও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।




জানাগেছে, প্রায় মাস তিনেক আগে এলাকার শ্রমিকদের সাথে টাওয়ারের কাজ করতে পুণায় যান ইংরেজবাজারের বুধিয়া গ্রামের বাসিন্দা এক্রামুল হক (৩২) ও পুরাতন মালদার রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা মোফাজুল শেখ (২২)।স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে,গত ১ জুলাই পুণায় একটি ট্র্যাক্টরে চেপে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। মাঝরাস্তায় কোনও কারণে উলটে যায় ট্র্যাক্টরটি। মৃত্যু হয় এক্রামুল ও মোফাজুলের। গুরুতর আহত হন আরও ৪ জন। তাঁরা এখনও পুণার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখানেই মৃতদেহ দুটির ময়নাতদন্ত হয়। তারপর দেহ দুটিকে মালদার উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

বুধবার ভোর রাতে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে এক্রামুল ও মোফাজুলের দেহ মালদায় এসে পৌঁছোয়। অ্যাম্বুলেন্স প্রথমে যায় বুধিয়া গ্রামে।এক্রামুলের দেহ নিতে যান তাঁর পরিবারের লোকজন। তখনই ধরা পড়ে বিপত্তি। দেখা যায়, কোনও মৃতদেহেরই নথিপত্র নেই। নেই মৃত্যুর শংসাপত্র, ময়নাতদন্তের কাগজপত্র, বিমার নথি কিংবা যে কোম্পানির অধীনে তাঁরা কাজ করছিলেন, সেই কোম্পানির কোনও কাগজ। সমস্যায় পড়ে যান দুই পরিবারের লোকজন।এই নিয়ে বাড়তে থাকে উত্তেজনাও। উত্তেজিত জনতা এরপর দেহ সহ অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে সাতঘরিয়া গ্রামের শ্রমিক পাঠানোর ঠিকাদারের বাড়ি চলে যান।

ঘটনাচক্রে সেই ঠিকাদারের নামও এক্রামুল। তিনি আবার স্থানীয় তৃণমূল নেতা। এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনেও নরহাট্টা গ্রাম পঞ্চায়েতে শাসকদলের প্রার্থী ছিলেন তিনি। সাতসকালে হাজার খানেক উত্তেজিত মানুষ দেখে তিনি ভয় পেয়ে যান। বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি।এদিকে ঠিকাদারকে না পাওয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। সেইসময় ঠিকাদারের বাড়িতে হামলা চালায় উত্তেজিত পরিজন। ঠিকাদারের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। তখনই ঠিকাদারের লোকজন সেখানে উপস্থিত বুধিয়া ও রাজাপুর গ্রামের লোকজনের দিকে লাঠি, বাঁশ, হাঁসুয়া নিয়ে তাড়া করে। প্রাণ বাঁচাতে এলাকা ছেড়ে পালাতে থাকেন সবাই। পালিয়ে বাঁচতে হয় সংবাদমাধ্যমকেও।

গোটা ঘটনার প্রতিবাদে বুধিয়া স্ট্যান্ডে পথ অবরোধ করে ক্ষিপ্ত জনতা। খবর পেয়ে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুলিশই মৃতদেহ দুটির সমস্ত নথিপত্রের ব্যবস্থা করছে।সাথে দেহ দুটিকে শেষ কৃত করার ব্যবস্থা শুরু করেছে গ্রামবাসী।




You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!