পুলিশ ছুটিতে গেলে অনুব্রত কত উন্নয়ন আছে দেখে নেব




রামপুরহাট,২৩ আগস্টঃ “পনেরো দিন বীরভূম জেলা থেকে পুলিশ প্রশাসনকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হোক। অনুব্রত মণ্ডলের কত উন্নয়ন আছে দেখে নেব”। বৃহস্পতিবার অনুব্রত মণ্ডলকে এভাবেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন বিজেপির কিষাণ মোর্চার রাজ্য সভাপতি রামকৃষ্ণ পাল।




বুধবার থেকে বীরভূমের রামপুরহাটে শুরু হয়েছে ভারতীয় জনতা কিষাণ মোর্চার রাজ্য সম্মেলন। সেই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সর্বভারতীয় সহসভাপতি, বীরভূমের পর্যবেক্ষক মহেশ্বর সাহু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, সহ পর্যবেক্ষক বিনয় সিং ও সুন্দর জৈন, সংগঠনের জেলা সভাপতি শান্তনু মণ্ডল। সম্মেলনে ১১৩ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বৃহস্পতিবার ছিল সম্মেলনের শেষ দিন। দুদিনের সম্মেলনে একাধিক আন্দোলনের কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর প্রতিটি জেলা শাসকের দফতরে বিক্ষোভ কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। মূলত কৃষকদের নাহ্যমূল্যে ধান কেনার দাবিতে এই কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান সংগঠনের রাজ্য সভাপতি রামকৃষ্ণ পাল। সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মিলিত হন তিনি। সেখানেই পঞ্চায়েত নির্বাচনে অনুব্রতর উন্নয়ন নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছোঁড়েন। বলেন, “পুলিশ প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন অনুব্রত। আমরা উনার সুরে কথা বলতে চায় না। বলছিও না।

তবে দায়িত্ব নিয়ে বলছি বীরভূম জেলা থেকে ১৫ দিনের জন্য সমস্ত পুলিশকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হোক। জেলায় কোথাও কোন পুলিশ থাকবে না। অনুব্রত মণ্ডলের কত উন্নয়ন আছে দেখে নেব। এটা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলছি”। এরপরেই বীরভূম জেলায় সংগঠনের দুর্বলার কথা মেনে নেন রামকৃষ্ণ পাল। তিনি বলেন, “সংগঠন শক্তিশালী করার জন্য জোর দেওয়া হয়েছে। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতার হিসাব বেশি এজেলায়। এখানে নির্বাচন রাজ্যের নিরিখে হলে বিজেপির সব থেকে ভালো ফল হত। তা হয়নি। তার কারণ উন্নয়ন দাঁড়িয়ে ছিল রাস্তার প্রতিটা মোড়ে। এখানে আমাদের অনেক কার্যকর্তা আছেন। কিন্তু তারা একটু ভয়ের মধ্যে আছেন। সেই জন্যই আমরা বীরভূমে সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এখানে সভা করার ফলে কার্যকর্তারা কিছুটা সাহস ফিরে পাবেন। তাছাড়া বীরভূম কৃষিপ্রধান জেলা। এখানে শিল্প নেই বললেই চলে। সেই কারনেও এখানে সভা করা হয়েছে। অনুব্রতর সন্ত্রাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আগামী লোকসভা নির্বাচন কি রকম হবে তা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দেখতে পাবেন। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আমাদের বিশ্বাস। নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা না নিলে ২০১১ সালে বাম শাসনের পতন ঘটত না। বীরভূমের মানুষ বিজেপির পক্ষে রয়েছে।

আর আগামী দিনে সন্ত্রাস করার জন্য তৃণমূল কোন লোক খুঁজে পাবে না। তবে তাদের এই সন্ত্রাস বীরভূম জেলাতেই সীমাবদ্ধ নয়। সারা রাজ্যে। এজেলায় অনুব্রত সংবাদ মাধ্যমের সামনে লম্বা চওড়া কথা বলেন। অসাংবিধানিক কথা বার্তা বলেন। সেটা সংবাদ মাধ্যমে প্রাধান্য পাই। সেই জন্য মনে হয় অনুব্রত মণ্ডল বিশাল কিছু। কিন্তু কাজের যে পদ্ধতি তা সারা রাজ্যেই চলছে। মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও খারাপ কথা বলে। অভদ্র কথা বলেন”। নির্বাচিত সদস্যদের তৃণমূলে যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচিত সদস্যদের বাড়ি বাড়ি পুলিশ গিয়ে ডাকাতির মামলায় ভরে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। বাম জমানায় দল ভাঙার খেলা এত বেশি ছিল না। একটা পঞ্চায়েত সদস্যর সামান্য ক্ষমতা তাদেরও এরা ভাঙাচ্ছে। বিধায়কদের ভাঙিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কোথাও ভয় দেখিয়ে কোথাও প্রলভন দেখিয়ে। সিপিএম বিধায়করা ও গিয়েছে। তবে এই খেলা বেশি দিন চলবে না”।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!