“বড়ো আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তারা” দাবি চাকরী প্রার্থীদের




এই মুহূর্তে,২৮ ফেব্রুয়ারি:পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় ক্রমাগত হয়ে চলা ব্যাপক দুর্নীতির বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন কমিশন ভবনের সামনে চাকরি প্রার্থীরা। সমস্ত প্রকার প্রাকৃতিক ও প্রশাসনিক বাঁধাকে উপেক্ষা করেই এইদিন দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে তাদের এই বিক্ষোভ কর্মসূচী। এমনকি বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের সাথে ধ্বস্তাধস্তি সময় পুলিশের লাঠি চার্জের গুরুতর ভাবে জখম হয় একজন। তাকে হাসপাতালেও চিকিৎসাধীন থাকতে হয়। এদিন পিএসসি দুর্নীতির আখড়া বলেও সোচ্চার হয়। ক্ষণে ক্ষণে স্লোগান ওঠে “চোর পিএসসি হায় হায় “, ঘেরাও হয় পিএসসি দপ্তর। তারা জানান, ” অনেক খেটে পড়াশোনা করে এই সব চাকরির পরীক্ষায় বসি আমরা। বহু গরীব ঘরের ছেলেমেয়েরা অনেক কষ্ট করে তৈরি হয় এই পরীক্ষার জন্য। সেখানে নম্বর বিকৃত করে শাসক দলের মনোনীতদের চাকরি দেওয়ার মানে আমাদের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়া। ধ্বিক্কার এই সরকারকে ধ্বিক্কার পিএসসি কর্তৃপক্ষকে।’




 

এমনকি ২০১৬ সালের হওয়া ডব্লুউবিসিএস পরীক্ষা সহ আরো কয়েকটিতে কারচুপি করে নিয়োগ করা হয়েছে, বাড়িয়ে দওয়া হয়েছে নম্বর। পিএসসি – র অন্যান্ন পরীক্ষা গুলিতেও হয়েছে এই ধরনের ব্যাপক কারচুপি। এই সকল যাবতীয় আভিযোগের ভিত্তিতেই ঘেরাও করা হয় পিএসসির দপ্তর। পুলিশ এসে বারংবার এই সকল বিক্ষোভকারীদের ছএভঙ্গ করার চেষ্টা করলে মুহূর্তের মধ্যে উত্তাল হয়ে ওঠে বিক্ষভকারীদের বিক্ষোভ। তুমুল বৃষ্টির মধ্যই চলতে থাকে তাদের বিক্ষোভ। এদিন, মূলত তাঁদের দাবি ছিল ২০১৭ সালের ডাব্লিউবিসিএস পরীক্ষার সমস্ত উত্তরপএ হাইকোর্টের তত্ত্ববধানে পূর্নমূল্যায়ণ করতে হবে । শুধু তাই নয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত চেয়ে দোষীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে, এমন দাবি তুললেন চাকরিপ্রার্থীরা। এছাড়াও তাদের দাবি রাজ্যপালকে এই অন্যায় হস্তক্ষেপ করতে হবে। অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে পিএসসি চেয়ারম্যানকে।

 

পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ডব্লিউবিসিএস , ফুড সাব – ইন্সপেক্টর , ফায়ার সার্ভিস – সহ বিভিন্ন পরীক্ষা গুলিতে বেশকিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ছে সাম্প্রতিক সময়ে । চাকরীপ্রার্থীদের অভিযোগ , অযোগ্য প্রার্থীদের নম্বর বাড়িয়ে চাকরি দেওয়া হচ্ছে । বঞ্চিত করা হচ্ছে যোগ্য প্রার্থীদের। বেলা ১টা নাগাদ তারা প্রথমে মেইন গেটের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যই পুলিশ সেই জায়গাটিকে পুরো ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেললে এরপর পরীক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা ওই স্থানে বসেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ক্রমাগত স্লোগান উঠতে থাকে দূর্নীতিগ্রস্ত পিএসসি -র বিরুদ্ধে। ন্যায্য পাওনার দাবিতে বিক্ষোভরত চাকরিপ্রার্থীদের রুখতে আপ্রাণ সচেষ্ট পুলিশদের সাথে ধ্বস্তাধস্তির সময়েই পুলিশের লাঠিচার্জ চলাকালীন মাথা ফেটে জখম হওয়া এক চাকরিপ্রার্থীকে সাথে সাথেই নিয়ে যাওয়া হয় বাঙ্গুর হাসপাতালে। ২০১৭ সালের ডাব্লুউবিসিএস পরীক্ষায় ওয়েমার শিটে ১১৪ নাম্বার পাওয়ার পর তা বদলে দিয়ে করা হয় ৬৮৪। ১১৮ পাওয়া পরীক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বর বদলে হয় ৬৬৯। কি করে এমন ভাবে নম্বর পাল্টে যায় তার জবাব চায় পরীক্ষার্থীরা। কিভাবে শূন্য থেকে হয়ে যায় ১৬২। অথবা ১৮ বেমালুম পাল্টে হয়ে যায় ১৬৮। কিভাবেই বা ফুড সাবইনেস্পেক্টর ও ফায়ার সার্ভিসের পরীক্ষায় এতো অসঙ্গতি তাও জানতে চান তারা।

 

ডব্লিউবিসিএস -এর ১২০০ পরীক্ষায় ৮০০ নাম্বার প্রাপ্ত ওয়েমার শিট গুলিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় একটি সংস্হায়। তারা স্ক্যান করে তা পাঠিয়ে দেয় পিএসসিতে। পিএসসি দপ্তররে নম্বরগুলি লিখে রাখা হয়৷ এর ভিওিতেই ইন্টারভিউ তে ডাকা হয়। কিন্তু গোটা ব্যাবস্থার মধ্যে রয়ে যায় এক বিস্তর গলদ। দূর্নীতি অভিযুক্ত পিএসসির কনফিডেনশিয়াল সেলের কর্মচারী কৌশিক ভট্টাচার্যকে সাসপেন্ড করা করে কর্তৃপক্ষ পিএসসি – র চেয়ারম্যানের কাছে এদিন প্রথম ডেপুটেশন দিতে যান তারা। কিন্তু, চেয়ারম্যান মানতেই চান না যে পরীক্ষায় ব্যাপক দূর্নীতি হচ্ছে। শেষ প্রর্যন্ত পিএসসি কর্তৃপক্ষ মৌখিক ভাবে হলেও মানতে বাধ্য হয়। মৌখিক ভাবে সচিব ডাব্লিউবিসিএস পরীক্ষার তদন্তের আশ্বাস দেন। ফায়ার সার্ভিস পরীক্ষা বাতিল করা হবে। গ্রুপ ‘সি ‘ ও’ ডি’ এর পরীক্ষা আাবার পুনরায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিক্ষোভ কারীদের বক্তব্য , এরপরেও যদি কোনো সুরাহা না হয় তাহলে আরোও বড়ো আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তারা।

 




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!