ফের উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে দালাল সন্দেহে গ্রেফতার ২




শিলিগুড়ি, ২১ জুলাইঃ ফের উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বর থেকে দালাল সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শনিবার সকালে হাসপাতাল চত্বরে আচমকা অভিযান চালিয়ে এই দুইজনকে গ্রেফতার করে মেডিক্যাল ফাঁড়ির পুলিশ। গত ৩ দিনে অভিযান চালিয়ে পুলিশ দালাল সন্দেহে ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে। তবে হাসপাতালে দালালচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠায় উদ্বিগ্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগি কল্যাণ সমিতি। জানা গিয়েছে, বিভিন্ন বিভাগ মিলিয়ে পঞ্চাশ জনেরও বেশি দালালরা হাসপাতাল চত্বরে সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছে।




পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ওই দুই দালালের নাম দিলীপ মল্লিক ও বিকাশ সিংহ। দিলীপ মল্লিকের বাড়ি মেডিক্যাল কলেজের গ্রুপ ডি ক্যাম্পাস ও বিকাশের বাড়ি কাওয়াখালি। ধৃত দিলীপ মেডিক্যাল কলেজেরই গ্রুপ ডি’র কর্মী ছিলেন। কিন্তু তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

হাসপাতাল সুত্রে জানা গিয়েছে,কর্ত্যবে গাফিলতির কারনেই দিলীপ মল্লিককে বরখাস্ত করেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে কর্মরত থাকাকালীন তার কাজকর্মে চরম গাফিলতি ধরা পরে। এরপর স্বাস্থ্য দফতরের অনুমোদনে আটমাস আগে ময়নাগুড়ি ব্লক হাসপাতালে বদলি করা হয়। কিন্তু সেখানে গিয়েও তিনি মাঝে মধ্যেই ফাঁকি মারতেন। এরপরই তাঁকে বরখাস্ত করে স্বাস্থ্য দফতর। বরখাস্ত হওয়ার পর থেকেই মেডিক্যাল চত্বরেই ঘোরাঘুরি করতেন তিনি। মেডিক্যালে বাইরে বেসরকারি ল্যাবেরটারির সাথে আটঘাট পেতে দালালি করতে নামেন বলে অভিযোগ। তার মূল কাজই ছিল, মেডিক্যালের ল্যাবে পরীক্ষা করাতে আসা রোগীকে ভুল বুঝিয়ে বেসরকারি ল্যাবে নিয়ে যাওয়া। বেসরকারি ল্যাবে মেডিক্যালের কোনও পরীক্ষা করাতে নিয়ে যেতে পারলে ল্যাবের মালিকের থেকে কমিশন পেতেন।

এদিনও ফাঁসিদেওয়া থেকে মেডিক্যালের আউটডোরে চিকিৎসা করাতে আসে এক পরিবার। চিকিৎসক তাদের মেডিক্যালের ল্যাবের থেকেই রক্ত পরীক্ষা করার জন্য পাঠিয়ে দেন। সেই সময় থেকেই পরিবারের পিছু নেয় দিলীপ। ল্যাবের সামনে রোগীর পরিবারকে ভুল বোঝাতে শুরু করে। একই জায়গায় আরেক রোগীর পরিবারকে একইভাবে বাইরের ল্যাবের থেকে খুব কম টাকায় রক্ত পরীক্ষা করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভুল বোঝাচ্ছিল বিকাশ। ঠিক সেসময় মেডিক্যাল ফাঁড়ির ওসি সুদীপ দত্ত পুলিশ কর্মীদের নিয়ে অভিযানে বেড়িয়েছিলেন। ল্যাবের সামনে পৌছাতেই পুলিশকে দেখে পালানোর চেষ্টা করে দালালরা। পিছনে ধাওয়া করে দুজনকে ধরে ফেলে সুদীপবাবু ও তার দল। যদিও ঘটনাস্থল থেকে আরও তিনজন পালাতে সক্ষম হয়েছে। ধৃতদের জেরা করে জড়িতদের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ।

মেডিক্যাল কলেজের রোগি কল্যান সমিতির চেয়ারম্যান রুদ্রনাথ ভট্টাচার্য বলেন, “পুলিশ খুব ভাল কাজ করছে। কোনও দালালরাজ বরদাস্ত করা হবে না।”

পুলিস কমিশনারেটের ডিসিপি তরুন হালদার বলেন,“দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা দেখা হচ্ছে।”




You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!