গৃহশিক্ষকদের আন্দোলনের চাপে চাকদার টিউশনরত স্কুল শিক্ষকেরা




নদিয়া,২৬ সেপ্টেম্বর:-নদীয়ার চাকদায় গৃহশিক্ষকদের আন্দোলনের চাপে চাকদার টিউশনরত স্কুল শিক্ষকেরা। শিক্ষকরা মাসে প্রচুর টাকা বাড়তি আয়ের টিউশনি ব্যবসা হারানোর ভয়তে চাকদার শাসকদলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছে কৌশলে গার্জিয়ানদের দিয়ে নালিশ করান। তাই টিউটরদের কাছে বিধায়কের পক্ষ থেকে আলোচনায় বসার অনুরোধ আসে।




চাকদার বিধায়ক রত্না ঘোষ কর এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আজ সকাল 10:00 টায় পশ্চিম বঙ্গ গৃহশিক্ষক কল্যান সমিতি ‘র চাকদা ইউনিটের নেতৃত্বে চাকদায় শাসক দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সাথে বৈঠকে বসেন গৃহশিক্ষকদের প্রতিনিধি দল। গৃহশিক্ষকদের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন চাকদা শহর ইউনিটএর 20 জন টিউটর, বিষ্ণুপুর ইউনিটের গোপাল সরকার,দরাপপুর ইউনিটের জসিউদ্দিন সহ 25 জন।‍ বিধায়কের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন চাকদার তৃনমূল যুব নেতা সাধন বিশ্বাস। উপস্থিত ছিলেন দেউলী গ্রামপঞ্চায়েতের তৃনমূল সভাপতি প্রবীর মজুমদার , তৃনমূল নেতা অশোক রায় ও ইমরাউল মন্ডল।

আলোচনার ফলাফল সম্পর্কে দরাপপুর ইউনিটের জসিমুদ্দিনের বাবু জানান আলোচনা সুন্দর পরিবেশে হয়েছে। সাধন বিশ্বাস বলেন, তিনি সবই জানেন। কিছু স্কুল টীচার প্রচুর কালো টাকা আয় করছেন।তিনি গৃহশিক্ষকদের এই আন্দোলনের সম্পূর্ন সমর্থন করেন। টিউটররা যদি আর কোনো হুমকি পান তাহলে যেন তাকে জানানো হয়। তিনি এও বলেন যে গৃহশিক্ষক দের আন্দোলন ঠিক ঠিক পথেই এগোচ্ছে। তিনি এরপর থেকে নির্ভয়ে টিউটরিদের মিটিং বা আন্দোলন কর্মসূচী চালাতে সাহস দেন।

পরিশেষে তিনি গৃহশিক্ষকদের অনুরোধ করেন যে, এই শেসনে V-IX নভেম্বর পর্যন্ত্য , X-XII ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত্য যেন স্কুলশিক্ষকদের টিউশনিতে বাধা না দেওয়া হয়। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন , এরপর কোন স্কুলশিক্ষক চাকদা ব্লকে নতুন শেসনে নতুন ব্যাচ পড়ানো শুরু করলে তিনি নিজে টিউটরদেরকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে সেই স্কুলটীচারের বেআইনী প্রাইভেট টিউশন বন্ধ করে দিয়ে আসবেন।

আলোচনার ফলাফল প্রসঙ্গে চাকদা ইউনিটের মুখপাত্র বলেন আজ সকাল ১০ টায় পূর্ব নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী “চাকদহ টাউন নেতৃত্ব ” মাননীয় সভাপতি শ্রী সাধন বিশ্বাস মহাশয়ের সাথে “প্রাইভেট টিউটরস ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন চাকদা ইউনিট” এর সাক্ষাৎকার অত্যন্ত সদর্থক ও আশারঞ্জক হয়েছে। তিনি আমাদের সঙ্গে অত্যন্ত সৌজন্য দেখিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।আন্দোলনের প্রতি তিনি পূর্ণ সমর্থন দেখিয়ে সরকারের সদিচ্ছার প্রসঙ্গ টিও উল্লেখ করেছেন। অভিভাবকদের আস্হা ও ভরসা অর্জনের পরামর্শ দিয়েছেন। পরস্পর ভুল বোঝাবুঝির অবসানের পাশাপাশি আন্দোলনের সাফল্য কামনা করেছেন। স্বল্প সময়ের হলেও সাক্ষাতকার আমাদের যথেষ্ট ভরসা যুগিয়েছে।তিনি ইউনিটের কাছে মাত্র দুটি অনুরোধ রেখেছেন-

১. স্কুল শিক্ষকরা যে সমস্ত স্টুডেন্ট দের বিনা বেতনে টিউশন দিতেন, সেই সকল ছাত্রদের দায়িত্ব গৃহ শিক্ষকদের নিতে হবে। যাতে তারা কোনো নতুন সমস্যায় না পড়ে….
২. চলতি বছরের পরীক্ষা শেষ হওয়া না পর্যন্ত স্কুল শিক্ষকদের কোচিং এর সরাসরি বিরোধিতা না করা,এতে আখেরে পড়ুয়াদের ক্ষতি হবে। আমরাও যেহেতু শিক্ষক তাই আমাদেরও কিছু নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!