গঙ্গারামপুরের তৃণমূল কর্মীকে খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১ যুবক







গঙ্গারামপুর, ১৩ মার্চ: গঙ্গারামপুর ব্লকের নন্দনপুর এলাকার তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতের নাম অসিত সরকার(৩০)। বাড়ি নন্দনপুরের বিকইর এলাকায়। গতকাল গভীর রাতে অসিতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ধৃতকে গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। আদালতের কাছে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের আর্জি চাওয়া হলে বিচারক ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় ও আর্মস অ্যাক্টে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।





 

প্রসঙ্গত, গত রবিবার রাতে বিকইর এলাকায় স্থানীয় একটি ক্লাবে পিকনিক চলছিল। সেই পিকনিকে হাজির ছিলেন তৃণমূল কর্মী দিলীপ সরকারও। পিকনিক চলাকালীন দিলীপকে লক্ষ করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানেই তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে চিকিৎসক। এদিকে ঘটনার পর দিলীপ বাবুর দু’জন বন্ধু, যারা একসঙ্গে পিকনিক করছিল, তারা পালিয়ে যায়।




স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পিকনিক চলাকালীন বচসা বাধে তাদের মধ্যে। সেই সময় কেউ দিলীপকে লক্ষ করে গুলি চালায়। গুলি লাগে তার বুকের বাঁ দিকে। তৃণমূল কর্মী হওয়ায় ঘটনার পিছনে গোষ্ঠী কোন্দল রয়েছে বলে অভিমত রাজনৈতিক মহল থেকে বিরোধীদের। যদিও এই ঘটনায় তৃণমূলের কোন গোষ্ঠী কোন্দলের ব্যাপার নেই বলে জানিয়েছেন জেলা নেতৃত্ব।




খুনের ঘটনায় মৃতার স্ত্রী গঙ্গারামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানায়। অভিযোগ পেয়েই গতকাল গভীর রাতে নন্দনপুর এলাকা থেকেই অসিতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার তাকে আদালতে তোলা হয়েছে। ধৃতকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।




অন্যদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,ধৃত অসিতের সম্পর্কে দাদু হয় দিলীপ সরকার। পিকনিকের দিন পিস্তল দেখাতে গিয়ে হঠাৎ-ই গুলি চলে যায়। সেই গুলিতেই মৃত্যু হয় দিলীপবাবুর। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা’ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।




এবিষয়ে গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারক বিপুল ব্যানার্জী জানান, “অভিযোগ পেয়ে গতকাল গভীর রাতে ওই এলাকায় হানা দিয়ে অসিত সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে তোলা হলে বিচারক ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।”