বাবা মায়ের নিত্য বচসা, কীটনাশক খেয়ে বালুরঘাট হাসপাতালে বসেই মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে মেয়ে







বালুরঘাট, ১৩ মার্চ: বাবা মায়ের মধ্যে রোজ দিনই নানান কারণে বচসা লেগেই থাকত। নিত্য দিনের বচসা গণ্ডগোল সহ্য করতে না পেরে অবশেষে পরীক্ষার ঠিক আগের দিন অর্থাৎ রবিবার দুপুরে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করলো এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। ওই দিনই আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ভরতি করা হয় বালুরঘাট হাসপাতালে। একটু সুস্থ হলে সে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা জানায় পরিবারকে। সেই মত বিষয়টি স্কুলকে জানানো হয়। জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর হাসপাতালে থেকেই পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালের বেডে বসেই পরীক্ষা দিচ্ছে সে।





 

বালুরঘাট ব্লকের জলঘর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাঁশিয়াডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা রানী ওরাও(পরিবর্তিত নাম)। সে স্থানীয় কাঁশিয়াডাঙ্গা হাই স্কুলে ক্লাস টেনে পড়ে। বাবা পেশায় দিনমজুর। তাই অভাব তার নিত্য সঙ্গী। সংসারে অভাব অনটন থাকলেও পড়াশোনা করে বরাবরই বড় হওয়ায় স্বপ্ন দেখেছে রাণী।




জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতিও ভালই নিয়েছিল সে। এদিকে সংসারে অভাব অনটন থাকায় বাবা মায়ের মধ্যে প্রায়শই বচসা গন্ডগোল লেগেই থাকত। গত ১১ তারিখ অর্থাৎ রবিবার ফের বাবা মায়ের মধ্যে বচসা বাঁধে। সামনে পরীক্ষা তার মধ্যে রোজ রোজ এমন অশান্তি ভাল লাগত না একরতি মেয়েটির। তাই বাবা মার বচসা সহ্য করতে না পেরে গত রবিবার কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করে সে। বিষয়টি জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে তাকে বালুরঘাট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সে বালুরঘাট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে আগের থেকে অনেকটাই সুস্থ রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।




এদিকে একটু সুস্থ হতেই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে চায় সে বলে পরিবারকে জানায়। হাসপাতাল ও পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় স্কুলে। জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে অবশেষে পরীক্ষায় বসেছে রাণী। হাসপাতালের বেডে বসেই পরীক্ষা দেয় সে। পরীক্ষা দেওয়ার সব রকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। রয়েছে পরীক্ষক থেকে হাসপাতাল কর্মীরা। শেষ পর্যন্ত জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় বসতে পেরে খুশি রাণী। খুশি হাসপাতাল কর্মীরা থেকে পরিবারের লোকজনও।




এবিষয়ে রাণীর বাবা জীবন ওরাও জানান, রান্না করা নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। সেটা শুনে ফেলে তার মেয়ে। এরপরই ঘরের মধ্যে ধানে দেওয়ার জন্য আনা কীটনাশক খেয়ে ফেলে সে। বিষয়টি জানতে পেরে তাকে বালুরঘাট হাসপাতালে ভরতি করানো হয়। হাসপাতালে বসেই তার পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।








You May Also Like

error: Content is protected !!