নম্বর প্লেটবিহীন টোটো’র বিরুদ্ধে সরব বালুরঘাটের লাইসেন্সপ্রাপ্ত টোটো চালকরা




বালুরঘাট, ১৪ জুন: নম্বর প্লেটবিহীন বহু টোটো চলছে বালুরঘাট শহরের রাস্তায়। প্রশাসনকে একরকম বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শহরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই সব টোটো। ফলে ছোট শহর বালুরঘাটে নতুন টোটো বেড়ে চলায় পৌরসভার ভূমিকা নিয়েও নানান প্রশ্ন তুলছেন নম্বরযুক্ত টোটো চালকরা।




 

অনিয়ন্ত্রিত টোটো চলাচল করা এবং নিত্য নতুন টোটো’র সংখ্যা বাড়তে থাকার পেছনে মদত রয়েছে পৌরসভার কাউন্সিলারদের বলেই অভিযোগ উঠছে। এছাড়াও টোটোর ইউনিয়ন করার জন্য কাউন্সিলারকে সামনে রেখে তোলাবাজি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে টোটো চালকেরা নতুন টোটোদের চলতে বাধা দেয়। অন্যদিকে, নতুন করে টোটো’র লাইসেন্স দেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়েছেন পৌরসভার চেয়ারম্যান রাজেন শীল।

বিগত কয়েক বছরে বালুরঘাট শহরে টোটো’র সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। বছর দেড়েক আগে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরের টোটো ও গ্রামীণ টোটো ভাগ করে দেওয়া হয়। শহরের টোটো’র জন্য করে দেওয়া হয় নীল রঙ। গ্রামীণ বা নম্বর ছাড়া টোটো শহরে ঘুরছে ধরতে পারলেই জরিমানা করে পুলিশ।

অভিযোগ, কিছুদিন না যেতেই সব যেই কার সেই হয়ে গিয়েছে। শহরে ঢুকে পড়েছে গ্রামীণ ও নম্বর প্লেট ছাড়া বহু টোটো। আর তাতে পৌরসভা বা প্রশাসনের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে। জানা গিয়েছে, বালুরঘাটে এই মূহুর্তে ১২০০ খানেক টোটো চলাচলের লাইসেন্স দেওয়া আছে সরকারিভাবে। এর মধ্যে শহরের ৬১৫ এবং গ্রামীণ টোটো ৫৭০ টি। তবে লাইসেন্সহীন অবস্থায় প্রায় আড়াই হাজারের অধিক টোটো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বালুরঘাটে।

সম্প্রতি শহরের বুকে বেশকিছু নতুন নম্বরের টোটো চলাচল শুরু করেছে। বিষয়টি নজরে আসতেই তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের টোটো শাখার সদস্যরা খোঁজ খবর শুরু করেছিল। আচমকা নতুন নম্বর পাওয়া টোটো চালকদের কাছ থেকে তারা জানতে পারে, তৃণমূল সমর্থিত টোটো অনার্স এসোসিয়েশন নামে আর একটি সংগঠন এই লাইসেন্স প্রদান করছে। তারা পরিচয় পত্র এবং নম্বর প্লেটের জন্য টাকাও নিচ্ছে। এরপরেই বুধবার রাতে বালুরঘাট বিশ্বাসপাড়া এলাকায় টোটো অনার্স এসোসিয়েশনের কয়েকজনকে আটকে বিক্ষোভ উত্তেজনা শুরু করে তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের টোটো শাখা তথা আরেক পক্ষের চালক বা সদস্যরা। হাতাহাতির শুরুতেই বালুরঘাট থানার পুলিশ যায় সেখানে। এরপরে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। গতকালের পর এদিন সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন জায়গায় নতুন টোটো চলতে বাঁধা দেওয়া হয়।

এবিষয়ে তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের টোটো শাখার সভাপতি প্রনব ওরাও, নেতা নন্তু মহন্ত, খোকন সরকার বলেন, পুরসভার অনুমতি বা মদত না থাকলে কীভাবে একটি সংগঠন লাইসেন্স প্রদান করছে। টোটো অনার্স এসোসিয়েশন কীভাবে পুরসভার কাজটি নিজেরা করছে। পরিচয়পত্র বাবদ ৩০০ এবং নম্বর প্লেট বাবদ ২৫০ টাকা করে নিতে বলা হয়েছে তাদের। কিন্তু দেখা যাচ্ছে নতুন লাইসেন্স দেওয়ার জন্য অনেক বেশি অর্থ নেওয়া হচ্ছে। অথচ টাকা নেওয়া তো দূরের কথা সরকারি পরিচয় পত্র ও নম্বর প্লেট কোনও শ্রমিক সংগঠন নিজেরা করে দিতে পারে না। এই ব্যাপারে তারা প্রতিবাদে নেমেছেন। এমনিতেই শহরের বুকে অগনিত টোটো চলছে। মানুষ হয়রান হচ্ছে। এই মূহুর্তে নতুন লাইসেন্সের বিরুদ্ধে তারা।

এবিষয়ে বালুরঘাট পৌরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলের সদস্য তথা পুরপরিবহণের দায়িত্বে থাকা শংকর দত্ত স্বীকার করেছেন টোটো অনার্স এসোসিয়েশনের ভূমিকার কথা। তিনি বলেন, পুরসভা নয়, তিনি উপর পক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী টোটো ওনার্সকে দিয়ে লাইসেন্স বিতরণের কাজ করাচ্ছিলেন। তবে পরিচয় পত্র বা নম্বর প্লেটের জন্য টাকা তাদের নেওয়ার কথা নয়। এটা পুরসভা সরাসরি করবে।

অন্যদিকে এবিষয়ে বালুরঘাট পৌরসভার চেয়ারম্যান রাজেন শীল এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রথমে বিষয়টি তারাই দেখছিলেন। পরে পরিবহন দপ্তর সরাসরি দায়িত্ব নেয়। কিন্তু জেলা পরিবহণ নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। তারা কোনও উদ্যোগ নেয় না বলেই পুরসভা নিজে এই বিষয়টি দেখভাল করছে ফের। চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল শংকর দত্তকে দায়িত্ব দেওয়া রয়েছে পৌরসভার পক্ষে। কিন্তু শংকরবাবু তাকে এই ব্যাপারে কিছুই জানাননি। এই কাজটা সরাসরি পৌরসভা বা প্রশাসনের। সেখানে একটা ইউনিয়ন এই কাজটি করতে পারে না। এই মুহুর্তে পৌরসভা কাউকে কোনো প্রকার লাইসেন্স দিচ্ছে না। তাদের পুরানো তালিকায় রয়েছে, এমন ৮৮ জনকে পৃথকভাবে লাইসেন্স দেবে পুরসভা। তবে এখানে কী হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেউ পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে বদনাম করার চেষ্টা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সাফ জানিয়েছেন রাজেনবাবু।





You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!