ছেলের খোঁজ পেলেও কাছে ফেরাতে অপারগ বাবা-মা, বাধা আর্থিক সংকট







আলিপুরদুয়ার, ২৮ মার্চ: ছেলের খোঁজ পেলেও তাকে নিজেদের কাছে ফিরিয়ে নিতে পারছেন না বাবা-মা। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, এমনই ঘটনা ঘটেছে আলিপুরদুয়ার জেলার এথেলবাড়ি এলাকায়। হারানো ছেলের খোঁজ পেলেও তাকে কাছে পেতে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্থিক সংকট। জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়া সংলগ্ন এথেলবাড়ি চা বাগানের বাসিন্দা রুবিন ওরাওঁ গত মাস ছয়েক থেকে নিখোঁজ। যদিও মাস দেড়েক আগে তার খোঁজ মিলে সুদূর গুজরাটের আমেদাবাদে। কিন্তু ১৯ বছর বয়সী এই ছেলের সন্ধান মিললেও তাকে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্থিক সংকট।




বাবা বলিরাম ওঁরাও ও মা চৈতি ওঁরাও দুজনেই চা বাগান শ্রমিক। যতটুকু টাকা পায় তা দিয়ে সংসার চালানো খুব কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তাছাড়া এত দূরে গুজরাটে কোথায় গিয়ে কী করবে, কোথায় গেলে তাদের ছেলেকে পাবে, কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না তারা। ফলে ছেলের খোঁজ পেয়েও দিশেহারা অসহায় বাবা-মা।


 

রুবিনের পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, ডিমডিমার সমাজকর্মী সাজু তালুকদার মারফত ছেলের সন্ধান পান তারা। সাজু বাবু বলেন, বীরপাড়া থানা থেকে নিখোঁজ রুবিন ওরাওঁ এর খোঁজ পেয়েছেন তিনি। তারপর এথেলবাড়ি এলাকায় রুবিনের ছবি দেখাতেই রুবিনের বাবা-মা’কে পেয়ে যান তিনি। তবে আর্থিক সমস্যার জন্য ছেলেকে বাড়ি নিয়ে যেতে পারছেন না।




তারপর সমাজকর্মী সাজুবাবু আলিপুরদুয়ারের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসারকে বিষয়টি জানানো হলে তারা চেষ্টা করেও কোন সুরাহা করতে পারেননি। কারণ ছেলেটি নাবালক নয় এবং যেহেতু তার বয়স আঠারো পেরিয়ে ঊনিশে পড়েছে, সেহেতু চাইল্ড প্রোটেকশন ইউনিট থেকেও কিছু করা সম্ভব নয়।




এমনকি গুজরাট থেকেও নেওয়া হচ্ছে না কোনও উদ্যোগ। ফলে ছেলেটির বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে এখন অনিশ্চয়তার কালো মেঘ সৃষ্টি হয়েছে তার পরিবারে। তবে এখনও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিট অফিস কর্তৃপক্ষ।




এদিকে রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে রুবিনের মা-বাবার। এখন শুধু একটাই চিন্তা কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে কবে ছেলেকে হাতের কাছে পাবে, বুকে জড়িয়ে ধরবে। কিন্তু আর্থিক অনটন সেই ইচ্ছেকে ক্রমাগত দমিয়ে দিচ্ছে।




রুবিনের বাবা-মা সকলের কাছে আবেদন করেছেন যেন সরকারি অথবা বেসরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা করে তাদের ছেলেকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। গুজরাটে যাওয়ার জন্য লোক তৈরি থাকলেও টাকা না থাকায় কিছুই করতে পারছেন না এই অসহায় বাবা-মা।




রুবিন বর্তমানে গুজরাটের আমেদাবাদে একটি হোমে রয়েছে। হোম কর্তৃপক্ষ বারবার ফোনে বলছে তাকে নিয়ে যেতে কিন্তু প্রশ্ন একটাই টাকা কোথা থেকে আসবে!








error: Content is protected !!