শ্বেতপত্র প্রকাশ করলেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র,অশোক ভট্টাচার্য




শিলিগুড়ি, ২০ জুলাই:তৃণমূল কাউন্সিলরদের পুরনিগমের বিরুদ্ধে হাউজিং ফর অল নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তোলার চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই শ্বেতপত্র প্রকাশ করলেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র অশোক ভট্টাচার্যের। শুধুতাই নয়, পুরনিগমের বিরুদ্ধে তৃণমূল কাউন্সিলরদের তোলা দূর্নীতির অভিযোগকে সমর্থন করে সরব হওয়ার কথা জানিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপি কাউন্সিলররা। পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই শিলিগুড়ি কর্পোরেশনকে ‘চোর্পোরেশন’ বলে কটাক্ষ করেছেন শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এসজেডিএ) চেয়ারম্যান সৌরভ চক্রবর্তী। শুক্রবার শিলিগুড়ি পুর ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন মেয়র অশোক ভট্টাচার্য সহ ডেপুটি মেয়র রামভজন মাহাত, পারিষদ নুরুল ইসলাম, জয় চক্রবর্তী, পরিমল মিত্র। এদিন শ্বেতপত্র প্রকাশের করে দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন মেয়র। শুধুতাই নয়, তৃণমূল কাউন্সিলররা সিবিআই তদন্তের পরিবর্তে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা দিয়েও তদন্ত করতে পারে বলে জানিয়েছেন। কিন্তু তৃণমূল কাউন্সিলরদের সাথে গলা মিলিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপি কাউন্সিলররা একইভাবে পুরনিগমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলায় রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।




বিজেপি কাউন্সিলর খুশবু মিত্তল বলেন, “হাউজিং ফর অল প্রকল্পটি কেন্দ্র সরকারের। সেটাতে কোনও দুর্নীতি হোক টা কখনই মেনে নেব না। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। মাসিক অধিবেশনে এবিষয়ে আমরা প্রশ্ন তুলবই।” কংগ্রেস কাউন্সিলর সুজয় ঘটক বলেন, “অবশ্যই দূর্নীতি হচ্ছে। এর আগেও মেয়রকে এবিষয়ে বিশেষ নজর দিতে বলেছিলাম। কিন্তু তিনি দেননি। তালিকা তোইরির ক্ষেত্রেই দুর্নীতি করা হচ্ছে। সরকারি জমিতে এই প্রকল্পের টাকা দেওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে।

সব থেকে সরকারি জমি অধ্যুষিত ওয়ার্ডগুলি বাম কাউন্সিলরদের দখলে। ফলে সব থেকে বেশি দুর্নীতি হয়েছে তাদের ওয়ার্ডেই। বোর্ড সভায় এর হেস্থনেস্ত করা হবে।” এসজেডিএ চেয়ারম্যান বলেন, “কাজ করেন না। টাকা খুঁজে বেড়ান মেয়র। অপদার্থ এই মেয়র কর্পোরেশনকে চর্পোরেশন বানিয়ে দিচ্ছেন। কাউন্সিলররাই দুর্নীতির অভিযোগ তুলছেন। এরপরে মেয়রের পদে থাকার যোগ্য নন তিনি।” মেয়র বলেন, “একটাকাও দুর্নীতি করা হয়নি। সব নাম কাউন্সিলররাই দিয়েছে। তালিকা আমরা তৈরি করিনি। আর সব থেকে বেশি অযোগ্য ও কম গুরুত্বপূর্ণ নাম তৃণমূলের কাউন্সিলররাই দিয়েছে।”

পুরসভা সুত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্র সরকার শিলিগুড়ি পুরনিগমকে হাউজিং ফর অল খাতে সাড়ে ছ’কোটি দিয়েছে। ১০৩৫জনের তালিকা তৈরি করে নিগম। যার মধ্যে তদন্ত করে ২৫২টি অযোগ্য ও কম গুরুত্বপূর্ণ নাম ধরা পরে। শ্বেতপত্র থেকে জানা গিয়েছে এরকম ১২টি ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলররা ১৫৪টি, ১১টি ওয়ার্ডের বাম কাউন্সিলর ৮৭টি ও ৪টি ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলররা ১১টি নাম জমা করেছিল। যার মধ্যে ১১১ জনের টাকা বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু ১৪২জন কম গুরুত্বপূর্ণ বেনিফিসারি এই টাকা পেয়েছেন। যা তাদের পরে পাওয়ার কথা ছিল, সেটা তারা আগে পেয়েছেন।




You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!