কাদরির প্রেম কাহিনী মমতাজের তাজমহলকে হার মানালো




উত্তরপ্রদেশ: শাহজাহান-মমতাজ এর তাজমহলের কথা সবাই শুনেছেন, তবে আরো একটা তাজমহল আছে উত্তর প্রদেশের বুলন্দ শহরে । সেটা তাজমহলের থেকেও সুন্দর বলা যায়। এজন্যই যে, কোনো সম্রাটের টাকায় নয় বরং গরীব বৃদ্ধ নিজের সারা জীবনের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে , নিজের প্রেম কাহিনী অমর রাখতে পথের ভিখারি হয়েছেন এই মহল নির্মান করতে । ৮১ বছরের অবসর প্রাপ্ত পোষ্টমাষ্টার ফয়জুল হাসান কাদরির স্ত্রী তাজাম্মুন বেগম ২০১১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। সন্তানহীনা স্ত্রীর দুঃখ ছিলো, তারাদের মৃত্যুর পর তাদের স্মরণ করার মতো আর কেউ থাকবেনা।




মৃত্যু শয্যায় শায়িত তাজাম্মুনকে কাদরি কথা দিয়েছিলেন, তার মৃত্যুর পর তার স্মৃতি ধরে রাখতে কবরের উপর সৌধ বানাবেন । তাজাম্মুনের মৃত্যুর পর নিজের সমস্ত সম্পত্তি, জায়গা-জমি , গহনা বিক্রি করে ও পেনশনের টাকা থেকে প্রথমে ৬ লক্ষ টাকা দিয়ে জমি কেনেন ফইজুল কাদরি। তারপর স্ত্রীর কবরের উপর তাজমহলের আদলে এক স্মৃতিসৌধ নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু টাকার অভাবে ২০১৫ সালে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায় । উত্তর প্রদেশের ততকালীন মূখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব অসম্পূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কাদরি রাজি হননি বরং মূখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন পাশে একটা স্কুল বানিয়ে দিতে।

স্কুলের কাজ সম্পন্ন হয়েছে আগেই, বর্তমানে স্কুলটি চালু রয়েছে। কিন্তু এখনো হাল ছাড়েননি কাদরি, দৈনিক আট ঘন্টা পরিশ্রমের পাশাপাশি প্রতি বছর প্রায় এক লক্ষ টাকার কাছাকাছি খরচা করেন তার ভালবাসার স্মৃতিসৌধের রক্ষণাবেক্ষণে । তিনি বলেন যে করেই হোক তাদের প্রেমের তাজমহলের একদিন সম্পূর্ণ রূপ দেবেন। বহু মানুষ সাহায্য করতে চেয়েছেন কিন্তু কাদরি নিতে নারাজ । সাহায্য নয় বরং সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন কাদরি যেনো মৃত্যুর আগে স্মৃতিসৌধের বাকি কাজ সম্পূর্ণ করতে পারেন এবং মৃত্যুর পর উনি ওনার প্রিয়তমার পাশে চির নিদ্রাই যেতে পারেন।




You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!