একমাত্র শিক্ষক শয্যাশায়ী, বন্ধ স্কুল




রামপুরহাট, ১০ আগস্টঃ একমাত্র শিক্ষক মাসখানেক থেকে অনুপস্থিত। ফলে বন্ধ পঠন পাঠন। পঠনপাঠন বন্ধ থাকায় অন্ধকারে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ। দিশাহারা অভিভাবকরা। এমনই ছবি ধরা পড়েছে বীরভূমের রাজগ্রাম জুনিয়ার হাইস্কুলে।




জানা গিয়েছে, ২০১১-১২ সালে মুরারই থানার রাজগ্রাম ভিলেজ জুনিয়ার হাইস্কুল অনুমদান লাভ করে। বর্তমানে স্কুলের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১৭৩ জন। শিক্ষক মাত্র একজন। এভাবেই জোড়াতালি দিয়ে চলছিল স্কুল। কিন্তু মাসখানেক আগে একমাত্র শিক্ষক অনির্বাণ চৌধুরী দুর্ঘটনায় পায়ে গুরুতর চোট পান। তারপর থেকেই তিনি দুর্গাপুরের বাড়িতে শয্যাশায়ী। ফলে বন্ধ স্কুলের পঠনপাঠন। দীর্ঘ দিন থেকে স্কুলের পঠনপাঠন বন্ধ থাকায় চেয়ার টেবিল কে বা কারা ভেঙে ফেলেছে।

ক্লাস ঘরে জমেছে ধুলো। স্কুল ঘর মাকড়সার দখলে। স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ইরফান শেখ, একই ক্লাসের ছাত্রী আরিনা খাতুনরা বলেন, “একজন শিক্ষক। এমনই ঠিকঠাক পড়াশোনা হত না। ক্লাসের অভাব রয়েছে। তার উপর একমাত্র শিক্ষকের দুর্ঘটনায় পা ভেঙে যাওয়ায় স্কুল বন্ধ। ফলে আমরা বাড়িতেই পড়াশোনা করছি। স্কুল বন্ধ থাকায় পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। সামনে পরীক্ষা। কিভাবে পরীক্ষায় বসব বুঝতে পারছি না”। অভিভাবক নুরনেহার বিবি বলেন, “মাসখানেক ধরে স্কুল বন্ধ। ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করছে না। গৃহশিক্ষকের কাছে গিয়ে পড়াশোনা করছে। প্রয়োজন মতো গৃহশিক্ষক দিতে পারছি না। ফলে স্কুল বন্ধ থাকায় অনেক ক্ষতি হচ্ছে”।

স্কুলের একমাত্র শিক্ষক অনির্বাণ চৌধুরী বলেন, “চলতি বছরের ১৭ জুলাই স্কুলে যাওয়ার পথে আমি পড়ে গিয়ে পায়ে আঘাত পাই। ওই দিনই মুরারইয়ে চিকিৎসক দেখায়। সেদিন স্কুলে না গিয়ে দুর্গাপুরের বাড়িতে ফিরে আসি। দুর্গাপুরে চিকিৎসক জানিয়ে দেন পায়ের আঘাত গুরুতর। কিছু দিন চলাফেরা করা যাবে না। সেই মতো বাড়িতেই শয্যাশায়ী। বিষয়টি স্কুল পরিদর্শককে জানিয়েছি। তবে খারাপ লাগছে দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারি ছাত্রছাত্রীদের জন্য মিড-ডে মিলের কথা ভেবে। কিন্তু এমন কেউ নেই যে তাকে দায়িত্ব দিয়ে আসব”।

মুরারই ব্লক স্কুল পরিদর্শক সেলিম দফাদার বলেন, “আমাকে মৌখিক ভাবে জানিয়েছে। লিখিত জানায়নি। আমরা গেস্ট শিক্ষক চেয়ে আবেদন করেছি। এখনো পায়নি। অধিকাংশ জুনিয়ার স্কুলেই শিক্ষকের সমস্যা রয়েছে”। জেলা ভারপ্রাপ্ত স্কুলে পরিদর্শক “সঙ্ঘমিত্র মাকুড় বলেন, “ওই স্কুল কেন বন্ধ তা বলতে পারব না। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। গেস্ট শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আমরা সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছি”।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!