“জঙ্গলে আলোর দিশা “




হুগলি, ১৮জুলাই:আমরা সবাই জানি, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বেশ কিছু অঞ্চল আছে যেখানে সভ্যতার আলো আজও ঠিক ঠাক পৌঁছাইনি, যা “জঙ্গল মহল” নামে পরিচিত, গহীন ঘন জঙ্গল এ আজও মানুষ বাস করে আদিম প্রকৃতির ন্যায়। যেখানে জল, খাদ্য, বাসস্থান ও বস্ত্রের জন্য নিত্য লড়াই সর্বদা সঙ্গী , নেই কোনো স্বাস্থ্য কেন্দ্র। একসময় এখানে মাওবাদী প্রভাবে উড়ে গিয়েছে স্কুল, কলেজ, স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও প্রশাসনিক কেন্দ্র, যেমন থানা, আই পি এস বাংলো ইত্যাদি . এখন রাস্তা ঘাট নতুন তৈরি হয়েছে কিন্তু দারিদ্রতা নিত্য সঙ্গী, নেই পাশাপাশি কোনো ভালো স্বাস্থ্যকেন্দ্র, নেই তেমন কোনো পরিবহণ ব্যবস্থা,তেমনই এক জায়গা বাঁকুড়া জেলার রানীবাঁধ থানার অন্তর্গত খাতাম গ্রাম, যেখানে পৌঁছে গিয়েছিল কলকাতা থেকে ডাঃ ফারুক হোসেন গাজী এর নেতৃত্বে ১৪-১৫ জনের “নব দিগন্ত” টিম!




নব দিগন্ত সমাজসেবা প্রতিষ্ঠান টি ৫ বছর ধরে জাতির সেবায় নিয়োজিত, যারা পশ্চিমবঙ্গ কে ৫টি জোন এ ভাগ করে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা পরিষেবা এর পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজ কল্যাণ মূলক পরিষেবা দিয়ে আসছে যেমন খাদ্য বিতরণ, বস্ত্র বিতরণ, বন্যার ত্রাণ ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ ইত্যাদি। বাঁকুড়া জেলার খাতাম এ তারা কলকাতা থেকে ১৫ ই জুলাই, সকাল ১০ টায় পৌঁছায়, পৌঁছে ২০০ জন এর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়, সবাই কে ওষুধ দেওয়া হয় ও পরামর্শ দেওয়া হয়, ১৫০ জনের বেশি অসহায় কে নতুন বস্ত্র প্রদান করা হয়, ২৪ ছাত্র ছাত্রীকে স্কুল ব্যাগ দেওয়া হয়, ডাক্তার জুলেখা মল্লিক গ্রামের মেয়ে ও শিশু দের স্বাস্থ্য সচেতন করতে একটি হেলথ টক দেন, এই কাজে স্থানীয় সংস্থা ‘সংকল্প’ ও ক্লাব ‘নবোদ্যোয়’ খুবই সাহায্য করে।

যাদের ডাকে নব দিগন্ত টিম সুদূর কলকাতা থেকে ছুটে আসে। সব শেষে একটি আলোচনা সভা হয় যেখানে সিদ্ধান্ত হয় এই পরিষেবা নিয়মিত দেওয়া হবে, যেখানে নব দিগন্ত এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক ডাঃ ফারুক হোসেন গাজী সহ অনেকে এলাকার সমস্যা এর উপর আলোকপাত করেন ও সমাধান এর পথ খোঁজেন।

এই কাজে স্থানীয় ক্লাব নবোদ্যোয় ক্লাবের অন্যতম সদস্য জগন্নাথ মন্ডল ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে গিয়ে জানান,” আমরা নব দিগন্তে এর সাথে কাজ করে খুব খুশি,ভবিষ্যতে এমন আরও কাজ যাতে করা যায়, তার অনুরোধ করেন।”

নব দিগন্ত টিম মোট ৩ দিন জঙ্গলে কাটান সেখানের মানুষের সমস্যা খুঁটিয়ে দেখার জন্য, তারপর তারা সোমবার ভোরে আবার কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন,এই এলাকায় নিয়মিত কাজের সংকল্প নিয়ে। দেবমিতা ঘোষ বলেন “এই ৩ দিন জঙ্গলে কাটিয়ে বুঝলাম, মানুষ সত্যি জঙ্গলে কি অসহায়, আমাদের উচিত ওদের নূন্যতম চাহিদা পূরণ এর ব্যবস্থা করা”




You May Also Like

error: Content is protected !!