পরিবারের বিরুদ্ধে ৯০ ছুঁই ছুঁই বৃদ্ধা পুলিশে দ্বারস্থ




নদিয়া, ৪জুলাই: মানব শরীরে গুরুর্তপুর্ন অঙ্গ গুলির মধ্যে চোখ অন্যতম।চোখে ঠিক মতো দেখতে পান না, চলতেও পাড়েন না ঠিকঠাক ৷ শরীরে শক্তি আর পায় না ঠিকঠাক।শুধুমাত্র মনের জোরে চলাফেরা।রক্তের পরিমাপ প্রায় শূন্যই এসে ঠেকেছে ৷ বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায় এটা বলাইবাহুল্য। বয়স যে নব্বই ছুয় ছুয়, চোখের জল বেড়েছে বরং কমেনি৷ সূর্যদয় কিংবা সূর্যাস্ত সবই অন্ধকার মনে হয় নব্বই বছর বয়সী শান্তিপুরের বিমলা সাহার কাছে৷ চারদেওয়ালের মাঝে বন্ধ ঘরেই তাকে অাবদ্ধ হয়ে থাকতে হয় প্রতিদিন ৷ নদীয়ার শান্তিপুরের রামকৃষ্ণ কলোনীর সাহা পরিবারের এই ঘটনা ৷ জানা যায় বিমলা সাহার স্বামী কেশব সাহা দীর্ঘদিন অাগেই পরলোক গমন করেছেন ৷ কেশব সাহার দুই ছেলে কৃষ্ণ সাহা এবং কমল সাহা ৷ বড় ছেলে কৃষ্ণ সাহার কেবল অপারেটিং এর ব্যাবসা করেন এবং ছোট ছেলে কমল সাহার দশকর্মার দোকান অাছে ৷




বিমলা দেবীর দুই ছেলেই অর্থনৈতিকভাবে মোটা অংকের টাকা রোজকার করেন ৷ স্থানীয় প্রতিবেশী সূত্রের খবর বিলাশ বহুল ভাবেই চলে তাদের সংসার ৷ বিমলা সাহা অভিযোগ করেন দীর্ঘদিন ধরেই অত্যাচার চালানো হয় তার ওপর ৷ কার্যত বেশীর ভাগ দিনগুলিতে তাকে ঘর বন্দী করে রাখা হয় ৷ শুধু তাই নয় এই বয়সে তাকে নিজেকেই রান্না করে খেতে হয় ৷ এর পাশাপশি প্রতিদিনই গালাগালি সহ্য করতে হয় পরিবারের তরফ থেকে৷ এমনকি ঘর থেকে বের করে দেওয়ারও অভিযোগ তোলেন তিনি ৷

অবশেষে অত্যাচার এতটাই চরমে ওঠে বিমলা সাহা গুটি গুটি পায়ে পুলিশের দ্ধারস্থ হন ৷ শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন পরিবারের বিরুদ্ধে ৷ যদিও ওই এলাকার ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিশ্বব্রত ঘোষ বিষয়টি নিয়ে বারবার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।কিন্তু তাতে কোন ফল হয় নি। তবে বিমলা সাহার তোলা অভিযোগ অস্বীকার করছেন তার বড় বৌমা চৈতালী সাহা ৷ তিনি বলেন শ্বাশুরীর তোলা অভিযোগ পুরোটাই মন গড়া ৷ তিনি বলেন বিমলা সাহা কে যথেষ্ট যত্ন করা হয় পরিবারের তরফ থেকে ৷ অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ যায় থাকুক। প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে মানুষের মানবিকতার পরিচয় নিয়ে ৷

শুধুমাত্র বেচে থাকার লড়াই, দুমোঠো পেট ভরে খাওয়া।মা যখন তার সন্তানকে এই পৃথিবীর আলো দেখিয়েছিল তাকে স্নেহ দিয়ে লালন পালন করে বড় করে তুলেছিল।তারপরও কি ওই সন্তান মাকে একটা জঞ্জাল মনে করে দূরে সরিয়ে রাখছে।এ কোন সমাজ? আমরা কি এখনো সেই অন্ধকার সমাজে বাস করছি।নির্মম ওই বৃদ্ধা এখন মাথা গোজার জায়গাতো দুরের কথা বেচে থাকা দুষ্কর হয়ে দাড়িয়েছে। এখন প্রশাসনের উপর ভরসা রেখে তার একমাত্র বেচে থাকার পথ।সেই আশায় পথ চেয়ে বসে ওই বৃদ্ধা।




You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!