তারাপীঠ মন্দির চত্বর এবারের কৌশিকী অমাবস্যায় এই প্রথম দুই রাত্রিই খোলা থাকছে




তারাপীঠ,৮ সেপ্টেম্বর:আর কয়েক ঘন্টা পর শুরু হচ্ছে অমাবস্যা তিথি (আজ রাত্রি ১টা ৫‍১মিনিট থেকে আগামিকাল রাত্রি ১১টা ৪০ অবধি)। এই অমাবস্যা কৌশকি অমাবস্যা নামে পরিচিত কারণ এই অমাবস্যা তিথিতে মা তারা তার পরম প্রিয় ভক্ত আটলা গ্রামের নিবাসী সাধক বামাক্ষ্যাপাকে তারাপীঠ মহাশশ্মানের শ্বেতশিমূল গাছের তলায় ১২৭৪ বঙ্গাব্দে দেখা দেন ও বামা সিদ্ধি লাভ করেন। তাই সেই সুপ্রাচীন কাল থেকেই মা তারাকে পুজো দিয়ে পুণ্যলাভ ও নিজের মনবাসনা পূর্ণ করার জন্য ভক্তরা দূর-দূরান্ত থেকে তারাপীঠে ছুটে আসেন এই তিথিতে। গতকাল বিকেল থেকেই পূণ্যার্থীরা নানান হোটেলে চলে আসতে শুরু করেছেন।




হোটেল থেকে মায়ের মন্দির সর্বত্রই সাজো সাজো রব সুন্দর রঙিন আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে তারাপীঠকে। পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে প্রতিটি ট্রেনে বগির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, চালানো হচ্ছে একজোড়া বিশেষ লোকাল ট্রেন, রামপুরহাট স্টেশনে খোলা হয়েছে একটি বিশেষ টিকিট কাউন্টার। সাধারণত যে রাস্তায় তারাপীঠ যাওয়া হয় সেই রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, অটোগুলিকে আটলা হয়ে যেতে হচ্ছে। অটোগুলি যাতে পূণ্যার্থীদের কাছে বেশি ভাড়া নিতে না পারে সেই জন্য ভাড়া লিস্টও টাঙানো হয়েছে অটো ইউনিয়নের পক্ষ থেকে।

ভক্তনার্থীদের সুবিধার্থে রামপুরহাট মনসুবা মোড় থেকে তারাপীঠ অবধি রাস্তার দুই ধারে আলোর ব্যাবস্থা করা হচ্ছে। তারাপীঠ মন্দির ঢোকার পূর্বে তোরন(গেট) রঙিন আলোয় সুন্দরভাবে সজ্জিত করা হয়েছে। তারাপীঠ মন্দির কমিটি, তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের,তারাপীঠ থানার যৌথ উদ্যোগে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা তারাপীঠকে। নজরদারিতে পুলিশ ছাড়াও থাকছে সিভিক ভলেন্টিয়ার, সাদা পোশাকের পুলিশ, বিশেষ ট্রেনিং প্রাপ্ত মহিলা পুলিশ। নজরদারিতে থাকছে সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার। তারাপীঠে মদের দোকানগুলি গতকাল থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এবারের কৌশিকী অমাবস্যায় এই প্রথম দুই রাত্রিই খোলা থাকছে তারাপীঠ মন্দির চত্বর, ভক্তরা যাতে সুস্থ ভাবে লাইনে দাড়িয়ে পুজো দিতে পারেন তার সমস্ত ব্যবস্থা করেছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। তবে এবার মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে চালু করা হয়েছে কিছু নিয়ম যেমন ভক্তরা মূল গর্ভগৃহের ভিতর প্রবেশ করে মাকে ছুঁয়ে পুজো দিতে পারবেন না বাইরে থেকেই পুজো দিয়ে সন্তষ্ট হতে হবে ভক্তনার্থীদের। মন্দিরের ভিতর কোনো রকম সেলফি তোলা যাবে না। অনলাইনে পুজো নিয়ে যে সমস্ত সাইটগুলি পুজো করাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে সরব মন্দিরের সেবাইতেরা তারা জানান এরকম কোনো নিয়ম নেই অনলাইনে পুজো দেবার এটা মানুষকে সম্পূর্নরুপে বোকা বানাচ্ছে।

অমাবস্যা উপলক্ষে মহাশশ্মানে ভিড়ের আনাগোনা তান্ত্রিক থেকে সাধুবাদের। পাশেই দ্বারকা নদী সেখানেও কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য নজর রাখছে তারাপীঠ থানা। অন্যদিকে ভক্তনার্থীদের সুবিধার্থে নানান স্থানে খোলা হয়েছে অস্থায়ী মেডিকাল ক্যাম্প ও হেল্প সেন্টার, তৈরি করা হয়েছে কুইক রেসপন্স টিমও। তারামা মন্দির কমিটির আন্দাজ এবছর প্রায় ১০লক্ষ ভক্তের সমাগম হতে চলেছে তারাপীঠে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!