অস্ত্রোপচারই সার, নাইজেরীয় মহিলার দেহ আর উদ্ধার হল না মাদক




কলকাতা, ১০জুলাই: কলকাতা বিমানবন্দরে সোমবার রাতে মাদক সহ আটক হয় এক মহিলা। মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত নাইজেরীয় মহিলার নাম ডেভিড ব্লেসিং(৩০)। তার জরায়ু থেকে থেকে উদ্ধার হয়েছে ১২ গ্রাম কোকেন ও ২০ পিস এল এস ডি ব্লট মাদক। তার গোপনাঙ্গে মাদক লোকানো রয়েছে মাদক সন্দেহ করা হয়। তার বের করে আনার জন্য তাকে চিনারপার্কের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর নতুন কিছুই পাওয়া যায়নি দাবী নারকোটিক কন্ট্রোল ব্যুরোর।




 

নারকোটিক কন্ট্রোল ব্যুরোর ও সিআইএসএফ সুত্রে জানা গেছে, ধৃত মহিলা জেট এয়ারওয়েজের বিমানে মুম্বাই থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে আসেন। কলকাতা বিমানবন্দরে নামার পর তার গতিবিধি দেখে সন্দেহ হওয়ায় তাকে আটক করা হয়। নারকোটিক কন্ট্রোল ব্যুরোর আধিকারিকরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত হয় ১২ গ্রাম কোকেন ও ২০ পিস এল এস ডি ব্লট পেপার।

 

আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদে মহিলা জানায়, তার কাছে আরও মাদক রয়েছে। এর পর তার শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষায় অবাক করা তথ্য উঠে আসে। আল্ট্রোসোনোগ্রাফ্রির রিপোর্টে উঠে আসে ডেভিডের গোপনাঙ্গে লুকানো রয়েছে আরও মাদক। সেই মাদক উদ্ধারের জন্য তাকে চিনারপার্কের এক বেসরকারী হাসপাতালে ভরতি করা হয়। যদিও অস্ত্রপচারের পর ডিভিড ব্লেসিংয়ের দেহ থেকে আর উদ্ধার হয়নি কোনও মাদক। অস্ত্রোপচারের পর উদ্ধার হয় শুধুই কাগজ ও টেপ দাবী নারকোটিক কন্ট্রোল ব্যুরোর।

 

নারকোটিক কন্ট্রোল বিউরোর পুর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা দিলীপ শ্রীবাস্তব বলেন, ওই মহিলা ধরা পড়ার পর থেকেই তার পেটে বারংবার চাপ দিচ্ছিল। হয়তো সেই চাপেই মাদক তার শরীরের মধ্যেই গলে গিয়েছে। এই ধরনের কেস কলকাতায় প্রথম যেখানে কোন মহিলার জরায়ুতে মাদক লুকানো ছিল। ফলে যতটা সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত ছিল তা আমরা করতে পারিনি। সেই কারণেই হয়তো অস্ত্রোপচারের পর কিছু উদ্ধার হয়নি।

 

বিউরো সুত্রে খবর, ওই মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে জানুয়ারি মাসে যেই দল নারকোটিক কন্ট্রোল ব্যুরোর হাতে ধরা পড়েছিল সেই দলের সদস্য এই ডেভিড ব্লেসিং। ব্যুরোর দাবী তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। আগে থেকেই খবর ছিল ডেভিড কলকাতায় আসবে। সেই মত তাকে ধরা হয় এবং তার ভিসা এবং পাসপোর্ট খতিয়ে দেখার পরেই নিশ্চিত হয় এই নাইজেরিয়া মহিলার কাছে ড্রাগস রয়েছে। তার পরে মহিলা কনস্টেবলের মাধ্যমে তার শরীর পরীক্ষা করানো হয়। রাতেই জরায়ু থেকে একটি ক্যাপসুল এবং কাগজের টুকরো বার করে ডেভিড। সেই ক্যাপসুল থেকে উদ্ধার হয় ১২ গ্রাম কোকেন এবং কাগজ থেকে উদ্ধার হয় কুড়ি পিস এল এস ডি ব্লট পেপার। যার বাজার দর ২ লক্ষ টাকা।

 

ব্যুরোর দাবী ইউএসজি ও এক্সরে করার সময় অবধি সন্দেহজনক বস্তুর সন্ধান পাওয়া গেছিল। এমনকি যে ওয়ার্ডে তাকে রাখা হয়েছিল সেই ওয়ার্ডে যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা মজুত করা হয়েছিল। কিন্তু অপারেশন করার আগেই কোন ভাবে ডেভিড শরীরের মধ্যে নষ্ট করে দেয় ওই মাদক। সে যাতে লুকিয়ে মাদক কোথাও ফেলে না দিতে পারে তারজন্য তাঁকে বাথরুমেও যেতে দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও মাদক উদ্ধার না হওয়ায় নারকোটিক কন্ট্রোল ব্যুরোর দক্ষতা নিয়ে উঠল প্রশ্ন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!