স্কুল শিক্ষকের অস্বাভাবিক মৃত্যু, আটক দুই বোন ও বাবা




রামপুরহাট,৩ সেপ্টেম্বর:পুড়ে অস্বাভাবিক মৃত্যু হল এক স্কুল শিক্ষকের। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের ময়ূরেশ্বর থানার ব্রাহ্মণবহড়া গ্রামে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মৃত শিক্ষকের দুই বোন এবং বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। মৃত শিক্ষকের নাম বৃন্দাবন মন্ডল (৩০)। তিনি বীরভূমের মুরারই থানার মাকোয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। তারা দুই বোন এক ভাই ছিলেন। বৃন্দাবন বাড়ির বড় ছিল। বাবা প্রভাত মণ্ডল গ্রামে গ্রামে গান করে বেরান।




ওই পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়দের সম্পর্ক যেমন ছিল না তেমনি প্রতিবেশীরাও তাদের সঙ্গে মিশতেন না। রবিবার প্রভাত মণ্ডল ভিন গ্রামে মনসা মঙ্গলের গান গাইতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি দেখেন বাড়ির ভিতর আগুন জ্বলছে। প্রথমে তিনি ভাই রহিত মণ্ডলকে ডাকেন। রহিতবাবু বাড়িতে ঢোকার আগেই চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। ঘরে তখন আগুন জ্বলছে। গ্রামবাসীরাই নিজেদের উদ্যোগে আগুন নিভিয়ে দেয়। ঘরের ভিতর তখন রক্তে ভেসে যাচ্ছে।

দুই অবিবাহিত বোন মেঝের মধ্যে পড়ে আছে। তাদের হাতের শিরা কাটা। দাদা ঘরের ভিতরে দগ্ধ হয়ে মৃত অবস্থায় পড়ে। কিন্তু কিভাবে তার মৃত্যু হল সে নিয়ে সন্দেহ দানা বেধেছে। কারন রাত্রেই ময়ূরেশ্বর থানার পুলিশ দুই বোনকে উদ্ধার করে সাঁইথিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। বাবাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। ঘরটি তালাবন্ধ করে দেয় পুয়লিস। ফলে ঘরে কিভাবে আগুন লাগ্ল তা জানা যায়নি।

প্রতিবেশীরা জানায় ঘরের কিছুটা অংশ আগুনে পুড়েছে। জানালা দিয়ে কিছুটা হালকা দেখা গিয়েছে। গ্রামবাসীরা রাত্রেই সেটি নিভিয়ে ফেলে। কিন্তু অগ্নিদ্বগ্ধ অবস্থায় যেখানে দাদার মৃত্যু হল সেখানে বোনেরা বাঁচল কি করে? কেই বা তাদের হাতের শিরা কাটল। গভীর রাতে যখন ঘটনাটি ঘটে সে সময় তাদের বাবা কোথায় ছিলেন? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

মৃত বৃন্দাবনের কাকা রহিত মণ্ডল বলেন, “দুই বোনের বিয়ে নিয়ে বাড়িতে একটা অশান্তি ছিল। আমরা তেমন মিস্তাম না। রাত্রে দাদার ডাকে ছুটে গিয়েছিলাম। কিন্তু ভাইজি বনেশ্বরী দাদাকে ভিরতরে ঢুকিয়ে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। ফলে কিভাবে ঘটনা ঘটল তা বুঝতে পারছি না”।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!