শ্যালক -ভগ্নিপতি এখন কলকাতা হিরো




কলকাতা,১০ আগস্টঃ বিগত কয়েকদিন ধরেই মহানগরী কলকাতাতে এটিএম জালিয়াতদের প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। যাদের ধরতে তিনটি শহরের পুলিশ নাকাল হয়েছে কিন্তু শেষমেশ তাদের ধরতে পারেনি। এই অসাধ্য সাধন করেছেন সইফিউদ্দিন শেখ ও মফিজুউদ্দিনযারা সম্পর্কে শ্যালক ও ভগ্নিপতি। কয়েকদিন থেকেই শরীর খারাপ নিয়েও ডিউটি করছিলেন শইফুদ্দিন। এই দিন শরীর বেশি খারাপ হওয়ার জন্য একই সংস্থায় কর্মরত নিজের শ্যালক মফিজুদ্দিনকে ডেকে এনেছিলেন তার পরিবর্তে পাহারা দেবার জন্য।




উভয়ই কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাংকের নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করেন। কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার সময় তারা দেখেন তিন জন যুবক ATM এর কাছে আসে ও এক জন দাড়িওয়ালা যুবক ভিতরে যায়। অন্য দু’জন পাহারা দিচ্ছে বলে তাদের সন্দেহ হয় ,যেহেতু গ্রাহকদের ওপর সরাসরি চার্জ করা যায় না তাই তারা পর্যবেক্ষণ করেন। ভিতরে থাকা যুবকটি অনেকক্ষণ বেরিয়ে না আসায় তাদের সন্দেহ আরো গাঢ় হয় এবং তারা ব্যাংক ও ভবানীপুর থানায় খবর দেন। মফিজুদ্দিন এর কথায়, বাইরের দুই যুবক বুঝতে পারে যে তাদের ওপর সন্দেহ করা হচ্ছে ও তাদের জালিয়াতি ধরা পড়ে গেছে।

এই কারণে তারা ভিতরে থাকা যুবকটিকে তাড়াতাড়ি বাইরে বেরিয়ে আসতে বলে। ইতিমধ্যে ভিতর ঢাকা যুবকটি বাইরে বেরালে দুই নিরাপত্তারক্ষী তাকে জাপটে ধরে এবং অপর দু’জন পালাবার চেষ্টা করে। শরীর খারাপ নিয়ে মফিজদ্দিন তাদের দুজনের পিছনে ছুটলও একজন পালিয়ে যায়। ভিতরে যে ছিল তার নাম রোহিত এবং রোহিতের কাছ থেকেই বাকি দুজনের ছবি পাওয়া যায় ও পরে পুলিশের কাছে বাকিরা ধরা পড়ে। গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান প্রবীন ত্রিপাঠী বলেন, “এরা তিনজনেই কলকাতা, পুনে ও মুম্বাই এটিএম জালিয়াতির ঘটনায় অভিযুক্ত।

রোমানীয় গ্যাং-এর হয়ে তারা কলকাতা চারটি এটিএম স্কিমার লাগানোর চেষ্টা করে। শহরের পুলিশ এদের খুঁজছিল।” পুলিশ কমিশনার রাজীব এই দুই নিরাপত্তারক্ষীর সাহসের প্রশংসা করেছেন ও পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার প্রদান করেছেন। এদের জন্যই আজ এত বড় চক্রের হদিশ মিলল। পুলিশ ও সাধারণ মানুষ শ্যালক ও ভগ্নিপতির এই কৃতকর্মের জন্য তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!