বালুরঘাটে নাগরিক কনভেনশন ঘিরে টোটো চালকদের পথ অবরোধ







বালুরঘাট, ৭ নভেম্বর: পথ আটকানোর পর এবার অম্বিকেশ মহাপাত্র, বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যদের সভা বাঞ্চাল করার চেষ্টার অভিযোগ উঠল টোটো চালকদের বিরুদ্ধে। সভাস্থল ও লজের সামনে কয়েকশো টোটো দিয়ে পথ অবরোধ করে রাখা হয়েছে। ফলে সভাস্থলে এখনও ঢুকতে পারেনি মাইক ও মঞ্চ তৈরির জন্য প্যান্ডেলের সামগ্রী। এদিকে বিকেল চারটেয় রয়েছে নাগরিক কনভেনশন। অন্য দিকে বাক্‌ স্বাধীনতার পক্ষে বক্তব্য রাখতে আসা অম্বিকেশ মহাপাত্র থেকে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য সাফ জানিয়েছেন তাদের ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না। প্রয়োজন পড়লে মঞ্চ ও মাইক ছাড়া তারা সভা করবেন।







প্রসঙ্গত, পুজোর সময় বালুরঘাট শহরে বিকেল চারটে থেকে ভোর চারটে পর্যন্ত গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। শুধু টোটোয় করে ঠাকুর দেখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে হয়রানি হতে হয় সাধারণ মানুষকে। আর তার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন কিছু মানুষ। সেই পোস্ট ভাইরাল হতেই শুরু হয় পুলিশি হেনস্থা। পোস্ট যারা করেছিলেন এবং শেয়ার করেছিলেন তাঁদের থানায় ডেকে হেনস্থা করার অভিযোগ ওঠে। দু’জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। পরে অবশ্য তাঁরা জামিন পান। এরপর পুলিশের ভূমিকার প্রতিবাদ ও স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার নিয়ে আন্দোলনে নামা মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন অম্বিকেশ মহাপাত্র। সেই কারণে আজ বালুরঘাটে একটি নাগরিক কনভেনশনের ডাক দেওয়া হয়েছে। বালুরঘাট আদালতের আইজীবীদের একাংশের ডাকা এই কনভেনশনে যোগ দিতে বিকেল চারটেয় বালুরঘাট নাট্যমন্দিরে উপস্থিত থাকার কথা অম্বিকেশবাবুর। এছাড়া আসছেন বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, কবি মন্দাক্রান্তা সেন, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যক্ষ দিলীপ দে সরকার সহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী। আজকের কনভেনশনের আলোচনার বিষয়বস্তু মানুষের মত প্রকাশের এবং স্বাধীনতার অধিকারের দাবি। কনভেনশনে যোগ দিতে আজ সকালে বালুরঘাটে আসেন অম্বিকেশবাবু। বুনিয়াদপুর পর্যন্ত ট্রেনে আসেন। এরপর সড়ক পথে বালুরঘাট আসছিলেন অম্বিকেশবাবু ও আমরা আক্রান্তর সদস্যরা। সেসময় বালুরঘাট শহরের প্রবেশদ্বার রঘুনাথপুর এলাকায় আটকানো হয় গাড়ি। টোটো রেখে রাস্তা অবরোধ করা হয়। কালো পতাকা দেখিয়ে গো ব্যাক স্লোগান দেওয়া হয়। পুলিশ এলাকায় পৌঁছায়। ৪০ মিনিট পর অবরোধ ওঠে। তারপর তারা সভাস্থলের পাশেই একটি লজে গিয়ে ওঠেন। এদিকে লজ ও সভাস্থলের চারপাশ কয়েকশো টোটো দিয়ে ঘিরে রাখা হয়। সভাস্থল নাট্য মন্দিরের মূল গেটের সামনের টোটো দিয়ে পুরো বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সভা বাঞ্চাল করার সব রকম চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে শহরের প্রাণ কেন্দ্র পুরো অবরুদ্ধ করে রাখা হলেও দেখা মেলেনি পুলিশ প্রশাসনের। সমস্যায় পড়েছে পথ চলতি মানুষরা। অন্য দিকে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় এই সভা বাঞ্চাল করার সব রকম চেষ্টা করা হচ্ছে। ভুল বুঝিয়ে টোটো চালকদের দিয়ে এই কাজ করানো হচ্ছে বলে অম্বিকেশ মহাপাত্র জানিয়েছেন। পথ অবরুদ্ধ করে রাখায় তাদের সভাস্থলে মাইক ও মঞ্চ তৈরির অন্যান্য সামগ্রী আসতে পারেনি। যেখানে মৌন মিছিল করার কোন অনুমতি দেয় না পুলিশ। সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথ অবরোধ করে রাখা হয়েছে আশ্চার্য্যের বিষয় হল পুলিশ এই ব্যাপারে নিশ্চুপ। তবে তারা প্রয়োজন পড়লে মাইক ও মঞ্চ ছাড়ায় সভা করবেন।





বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, তাদেরকে ভয় দেখিয়ে কোন লাভ হবে না। তারা বাক্‌ স্বাধীনতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এসেছেন এবং সেই নিয়ে সভা করবেন। গণতন্ত্রের কণ্ঠ রোধ করার জন্য একদল লোক চেষ্টা চালাছেন। আমরা এখানে সভা করতে এসেছি। যতই ওরা বাধা দিক আমরা সভা করবই। তাদের এখন চেষ্টা করতে আমাদের যে মৌলিক অধিকার তা রক্ষা করার দায়িত্ব নিতে সরকার বা রাষ্ট্র বাধ্য হয়। মোদির রাজ্যেই হোক বা দিদির রাজ্যেই। তাদের ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না।




পাশাপাশি এই ঘটনায় তীব্র ধিক্কার জানিয়েছেন ফেসবুক ইস্যুতে গ্রেফতার হওয়া দেবজিৎ রায়ের স্ত্রী প্রিয়দর্শনী রায়। প্রশাসন এখন ভয় পাচ্ছে তাই এমন কাজ করছে।




জেলা পুলিশ সুপার প্রসূন ব্যানার্জী জানান, সকালে একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে আইসি গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। তবে এই ঘটনায় তার কাছে কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি।








You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!