পাঁচ বছরের শিশু কন্যার সাক্ষ্যপ্রমাণে বছর ঘুরতেই যাবজ্জীবন ঠাকুরমা ঠাকুরদা সহ পিসির




হুগলি,৩ অক্টোবর:পাঁচ বছরের শিশু কন্যার সাক্ষ্যপ্রমাণে বছর ঘুরতেই যাবজ্জীবন ঠাকুরমা ঠাকুরদা সহ পিসির। শ্বশুরবাড়ি চাহিদামতো ৬০ হাজার টাকা নগদ চার ভরি সোনার গহনা খাট-বিছানা আলমারি ড্রেসিং টেবিল দিয়েও মেয়েকে শেষ রক্ষা করতে পারেনি বাবা। প্রসঙ্গত ২০১১ সালে দাদপুর থানার অন্তর্গত পোপাই গ্রামের বাসিন্দা শেখ মুক্তার আলীর সঙ্গে বিয়ে হয় রেশমা বেগম এর।




শ্বশুরবাড়ি চাহিদামতো সব যৌতুক দিলেও বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই আরও এক লক্ষ টাকা দাবি করে ছেলের পরিবার। আর সেই এক লক্ষ টাকা দিতে না পারায় শুরু হয় শারীরিক থেকে মানসিক অত্যাচার। এরপর রেশমা একটি কন্যা এবং একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়। তারপর তার ওপর আরো অত্যাচার বাড়তে থাকে। ২০১১ সালের ৩১ এ মে দুপুরবেলায় রেশমার বাপের বাড়িতে ফোন করে জানানো হয় রেশমা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এরপরে রেশমার বাবার সন্দেহ হওয়ায় তিনি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত নেবে পুলিশ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে। এরপর পোসমাডাম রিপোর্ট এও পরিষ্কার হয়ে যায় রেশমাকে শ্বাসরোধ করেই খুন করা হয়েছে।

এই ঘটনায় চুঁচুড়া জেলা আদালতে অ্যাডিশনাল দিস্ট্রাইক্ট কাম ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে মহামান্য বিচারপতি শুভেন্দু সাহার এজলাসে তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আজ মহামান্য আদালত শশুর ওমর আলী, শাশুড়ি মাজেদা বিবি এবং অবিবাহিত ননদ পারভিন সুলতানাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেকে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানার নির্দেশ দিলেন। এই জরিমানার টাকা রেশমার নাবালক কন্যা এবং সন্তানের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এই মামলায় সরকার পক্ষের আইনজীবী ছিলেন চণ্ডীচরণ ব্যানার্জি। এবিষয়ে মৃত গৃহবধুর বাবা সেখ মোসলেম আলি খুশি।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!