অশান্তির দায় চাপছে তাই জম্মু ও কাশ্মীরে সমর্থন প্রত্যাহার : রাহুল সিনহা




মালদা, ২০ জুন : মেহেবুবা সরকার ও রাজনৈতিক কারণেই জম্মু কাশ্মীরে অশান্তি। তারই দায় চাপছে BJP-র উপর। তাই সমর্থন প্রত্যাহার ছাড়া আর কোনও রাস্তা ছিল না। সেকারণে রাজ্য সরকার থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত। বুধবার মালদা জেলায় আসে একথা বললেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা।




এদিন মালদাতেও অন্যান্য জেলার মতো BJP-র জেলা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও কর্মসূচি রয়েছে। দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতেই এদিন সকালে মালদায় আসেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। মালদা টাউন স্টেশনে পা রেখেই সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। প্রথমে জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন,“দীর্ঘদিন যাবত জম্মু ও কাশ্মীরের পরস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছে। মাঝে পাথর মারার ঘটনা এবং আততায়ীর আক্রমণের ঘটনা কিছুটা কমেছিল। কিন্তু ক্রমাগত ঘটনা বাড়ছে। আর সেটা রাজ্য সরকার বা রাজনৈতিক কারণেই বাড়ছে। সেই দায় ভারতীয় জনতা পার্টির উপর চেপে আসছে। এই অবস্থায় সেই রাজ্য সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার ছাড়া দলের কাছে অন্য কোনও রাস্তা ছিল না। তাই সেখানকার সেই সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করা হয়েছে। যাতে উগ্রপন্থা ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জোরদার লড়াই করা যায়। মেহবুবা মুফতি সরকারের জন্যই কাশ্মীরে উগ্রপন্থা আবার ফিরে এসেছে। উগ্রপন্থীদের মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছেন সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী। যতটা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন ছিল তা তিনি নেননি। আর সেই দায় এসে পড়ছে BJP-র কাঁধে। উগ্রপন্থীদের নির্মূল করার বিশ্বাস নিয়েই আমরা সমর্থন প্রত্যাহার করেছি। গণতন্ত্রের আবহাওয়া ফিরে এলে সেখানে ফের গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।

রাহুলবাবু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেডারেল ফ্রন্ট নিয়েও তাঁকে কটাক্ষ করেন রাহুল সিন‌হা। তিনি বলেন, “মমতা ব্যানার্জিকে বলব, আগে নিজের রাজ্যটাকে বাঁচান। নিজের রাজ্যটাই চলে যাবে। আর দিল্লি দখলের স্বপ্ন তাঁর কাছে স্বপ্নই থেকে যাবে”।

তিনি আরও বলেন, “পঞ্চায়েত নির্বাচন দেখে যদি হিসেব করেন তাহলে ভুল হিসেব হবে। যে রাজ্যে ২০ হাজার আসনে বিরোধীরা প্রার্থীই দিতে পারেনি, যে রাজ্যে নির্বাচনের পর এখনও ওই ২০ হাজার আসনের ফল আদালতে বিচারাধীন, যেখানে বন্দুকের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মানুষকে মনোনয়ন জমা দিতে হয়, যেখানে গণনাকেন্দ্র পযন্ত শাসকদল ও পুলিশ জোর করে শংসাপত্র গ্রহণ করে, সেখানে ভোট হয়েছে বলা যাবে কী করে ! মানুষ শান্তিতে ভোট দিতে পারবে, সেদিন আর এই রাজ্যে তৃণমূলের সরকার থাকবে না। এখানে বিজেপির সরকার থাকবে। লোকসভায় আমরা এই রাজ্যে আমরা বড়ো ফল করবো, সেটা তৃণমূল বুঝে গেছে। আর সেই ভয়েই তৃণমূল কংগ্রেস নানারকম ভুল ভ্রান্তি মিথ্যা প্রচার বিজেপির বিরুদ্ধে করার চেষ্টা করছে।”




You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!