প্রশাসনিক ভবন চত্বরে থাকা অবৈধ দোকান উচ্ছেদ শুরু করল জেলা প্রশাসন




বালুরঘাট, ১০ ডিসেম্বর: বালুরঘাট জেলা শাসক চত্বরে অবৈধ ভাবে থাকা সমস্ত দোকান উচ্ছেদ শুরু করল প্রশাসন। শনিবার সকালে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে জবর দখল করে থাকা সমস্ত দোকান ভেঙে দেওয়া হয়। এমনকি অবৈধ ভাবে আর যাতে দোকান তৈরি করতে না পারে তার জন্য পুরো এলাকা বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। এদিকে উচ্ছেদ হওয়ায় সমস্যায় পড়েছে দোকান মালিকরা। তাদের অন্যত্র দোকান দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক বলে দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্য দিকে দোকান মালিকদের বলা হয়েছিল তারা স্ব-ইচ্ছায় দোকান সরিয়ে নিয়ে গেছেন বলে সদর মহকুমা শাসক ঈশা মুখার্জী জানিয়েছেন।





প্রসঙ্গত, বালুরঘাটে রয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসনিক ভবন। এই ভবনের ভেতরে অবৈধ ভাবে বহু দোকান রয়েছে। যারা দীর্ঘ দিন ধরে সরকারি জায়গা জবর দখল করে রয়েছে। এর আগেও একবার জেলা প্রশাসনিক ভবন চত্বরে অবৈধ ভাবে থাকা দোকান পাট উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়। তার পরে ফের ধীরে ধীরে গজিয়ে ওঠে অবৈধ দোকান। কিছু দিন আগে অবৈধ ভাবে থাকা একটি হোটেলের গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগে। অল্পের জন্য বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায় স্থানীয়রা। এরপরই নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন। অবশেষে এদিন সকাল থেকে জেলা প্রশাসনিক চত্বরে অবৈধ ভাবে থাকা সব দোকান উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়। অতিরিক্ত জেলা শাসক কৃত্তিবাস নায়েক ও সদর মহকুমা শাসক ঈশা মুখার্জী নিজে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেন। জেলা প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে ছোটো বড় মিলিয়ে ৪০-৫০ টি দোকান ছিল। সবগুলি তুলে দেওয়া হয়। এমনকি রাস্তার দু’পাশে পুরো এলাকা বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, উচ্ছেদ হওয়া দোকানদারদের পুনর্বাসন এর বিষয়টি চিন্তা ভাবনা করছেন জেলা প্রশাসন।



এবিষয়ে উচ্ছেদ হওয়া দোকান মালিক সুমিত্রা মহন্ত জানান, তাদের দোকান বহু দিন আগে একবার তুলে দেওয়া হয়েছিল। তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল অস্থায়ী ভাবে দোকান দিতে পারবে তারা। তার পর থেকে তারা ঠ্যালা গাড়িতে দোকান দিত। এই দোকানের উপর তাদের চার পাঁচজনের সংসার চলে। এখন তাদের পঠে বসতে হবে। প্রশাসন কিছু ব্যবস্থা করুক তাদের জন্য যাতে তারা বাঁচতে পারে।

অন্য দিকে সদর মহকুমা শাসক ঈশা মুখার্জী জানান, সরকারি জায়গায় তো কেউ দোকান দিতে পারে না। প্রশাসন ভবনের ফাকা জায়গায় গাড়ি রাখার জায়গা ও অন্যান্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তাই দোকানদারদের অন্যত্র সরে যেতে বলা হয়। সেই মত দোকনদাররা স্বেচ্ছায় নিজেদের দোকান তুলে নেন। অন্য দিকে দোকানদারদের পুনর্বাসনের জন্য পৌরসভার সঙ্গে কথা হয়েছে বলে ঈশাদেবী জানিয়েছেন।





You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!