অধিকার নিয়ে প্রশাসনিক টানাপোড়েন, হেনস্থার শিকার মা ও ছেলে




শিলিগুড়ি, ৬ জুন: অধিকার নিয়ে প্রশাসনিক টানাপোড়েন। নাবালককে উদ্ধার করতে এসে ঠাঠা রোদের মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখা হল গৃহবন্দি মা ও ছেলেকে। বুধবার এমন অমানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকল শিলিগুড়ি। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই নিন্দার ঝড় উঠেছে। পরে প্রতিবেশিদের তৎপরতায় মা ও ছেলেকে ঘরে ফেরান হয়। বেকায়দা বুঝে কার্যত পালিয়ে যান জলপাইগুড়ির চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির দুই সদস্য।





শিলিগুড়ি পুরনিগমের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেঘনাথ সরণিতে ঘটনাটি ঘটে। স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশাতী ভৌমিক সরকার দীর্ঘ তিন বছর ধরে স্বইচ্ছায় নাবালক ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে গৃহবন্দী ছিলেন। স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে ছেলেকে। বিষয়টি সম্প্রতি সমাজসেবি সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় নজরে আসতে তিনি চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির লিখিতভাবে বিষয়টি জানান। সেই চিঠির ভিত্তিতে বেশ কয়েকবার ওই মহিলার সঙ্গে কথাও বলেন ওয়েলফেয়ার কমিটির সদস্যরা। এদিন ওই নাবালককে উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি কোরক হোমে নিয়ে যাবার জন্য পুলিশ নিয়ে বাড়িতে আসেন কমিটির দুই সদস্য। সঙ্গে ছিলেন প্রতিবেশীরাও।


সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে শুরু হয় নাবালক উদ্ধারের চেষ্টা। প্রথমে দরজা খুলতে না চাইলেও পরে প্রতিবেশীদের আশ্বাসে দরজা খোলেন শ্বশাতী দেবী। ওই সময সিডব্লিউসি ম্যাজিস্ট্রেট সুবোধ ভট্টাচার্য পুলিশকে লিখিতভাবে নির্দেশ দেন নাবালককে মায়ের থেকে উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি কোরক হোমে নিয়ে যাবার জন্য। এই শুনে শাশ্বতীদেবী নিজেই ছেলেকে জলপাইগুড়ি নিয়ে যাবার জন্য রাজি হন। বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় আসেন তারা।


প্রশাসনিক টানাপোড়েনের মাঝে প্রায় দেড়ঘণ্টা ঠাঠা রোদের মধ্যেই দাঁড় করিয়ে রাখা হয় মা ও ছেলেকে।
প্রশাসনিক টানাপোড়েনের মাঝে প্রায় দেড়ঘণ্টা ঠাঠা রোদের মধ্যেই দাঁড় করিয়ে রাখা হয় মা ও ছেলেকে।

এরপরই শুরু হয় প্রশাসনিক টানাপোড়েন। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দেন মায়ের কোল থেকে বাচ্চা নিয়ে যাবার অধিকার তাদের নেই। সিডব্লিউসি বাচ্চা উদ্ধার করে নিয়ে গেলে তারপর পুলিশ তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে। এই টানাপোড়েনের মাঝে প্রায় দেড়ঘণ্টা ঠাঠা রোদের মধ্যেই দাঁড় করিয়ে রাখা হয় মা ও ছেলেকে। এভাবে হেনস্থার শিকার হতে দেখে প্রতিবাদ জানান প্রতিবেশীরা। এরপরই প্রতিবেশীরাই রাস্তা থেকে মা ও ছেলেকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে বাড়িতে দিয়ে আসেন। এদিকে প্রতিবাদের আঁচ পেয়েই এলাকা ছাড়েন সিডাব্লিউসির ২ সদস্য। সিডাব্লিউসির ম্যাজিস্ট্রেট সুবোধ ভট্টাচার্য বলেন, ওই নাবালককে শিক্ষা নেওয়ার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা নাবালককে উদ্ধার করতে এসেছিলাম। আমরা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলাম নাবালককে উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি নিয়ে যাবার জন্য। কিন্তু তারা আমাদের নির্দেশ মানেনি। এর কারণ জানতে চেয়ে আমরা পুলিশকে চিঠি করব।


প্রতিবেশী বিশ্বজিৎ রায়, শেখর চৌধুরী বলেন, নাবালককে উদ্ধারের জন্য সিডাব্লিউসি সদস্যরা এসেছিলেন। প্রতিবেশীরা প্রত্যেকেই তাদের সহযোগিতা করেছিল। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতায় ওই নাবালক এবং তার মাকে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছিল। তা দেখেই আমরা তাদের হাত থেকে নাবালক ও মহিলাকে ফিরিয়ে তাদের নিজেদের বাড়িতে রেখে আসি।





You May Also Like

error: Content is protected !!