পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু, পুলিশ বনাম স্থানীয়দের খণ্ডযুদ্ধ — উত্তপ্ত কালিয়াচক







মালদা, ২ জানুয়ারি : লরির ধাক্কায় বাইক আরোহীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত মালদা কালিয়াচক। দুর্ঘটনায় পুলিশকে দোষীর কাঠগড়ায় তুলে স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। চলে পুলিশকে মারধর সহ পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর। ক্ষিপ্ত জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ লাঠি চালায়, ছোড়ে কাঁদানো গ্যাস। কালিয়াচকের যদুপুর এলাকার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে পুলিশের সাথে স্থানীয়দের খণ্ড যুদ্ধ চলতে থাকে মঙ্গলবার সকাল থেকেই। পরে র‍্যাফ সহ পুলিশের পদস্থ কর্তারা এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।







স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, মঙ্গলবার ভোর নাগাদ কালিয়াচক থানার উত্তর দারিয়াপুর এলাকার তিন চামড়া ব্যবসায়ী মোটর বাইকে করে চামড়া ক্রয় করতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর যদুপুর এলাকায় বাইকটি একটি ট্রাকে ধাক্কা মারে। সাথে পেছনের একটি ট্রাক বাইকে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বাইক আরোহী নৈমুদ্দিন শেখের(২৮)। তারপরই গুরুতর আহত আরো দুই বাইক আরোহীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। হাসপাতালে ভর্তির ক্ষণিক পরই মৃত্যু হয় আরও এক বাইক আরোহীর। নাম আব্দুল বারেক শেখ(২২)এবং গুরুত্বর আহত সামেদ শেখ(৩৮)কে কলকাতা রেফার করা হয়েছে। মৃত দুই বাইক আরোহী নৈমুদ্দিন শেখ ও আব্দুল বারেক শেখ সম্পর্কে জামাইবাবু শ্যালক।




স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ ট্রাকের চালকদের কাছে প্রতিনিয়ত তোলা তোলেন। সেই মতো আজও টাকা তুলেছিলেন পুলিশ। পুলিশের তারা খেয়ে পালাতে গিয়েই ট্রাক বাইকে ধাক্কা মারে। পুলিশের তলাবাজির কারণে মৃত্যু দুই বাইক আরোহীর বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এরপরই স্থানীয়রা পুলিশের ভূমিকার ক্ষোভে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখতে শুরু করে। পুলিশ অবরোধ তুলতে পৌঁছাতেই ক্ষিপ্ত জনতার রোশের মুখে পড়ে। তারপরই ক্ষিপ্ত জনতা পুলিশকে মারধর শুরু করে। একের পর এক পুলিশের তিনটি গাড়িতে ভাঙচুর করে নয়নজুলিতে ফেলে দেয় ক্ষিপ্ত জনতা। স্থানীয়দের মারে চার পুলিশ কর্মী আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। অতিরিক্ত পুলিশ বাহীনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করেন। অসমর্থিত সূত্রে খবর, ক্ষিপ্ত জনতাকে রুখতে শূন্যে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় পুলিশ।




শহর থেকে পদস্থ পুলিশ কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দীর্ঘ প্রায় চার ঘণ্টা অবরোধ চলার পর জাতীয় সড়কে যান চলাচল শুরু হয়। এলাকা এখনো থমথমে। চলছে পুলিশের টহলদারি।




You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!