নেতা-নেত্রীরা নিজ নিজ দিকে, সার্কাস থেকেও খারাপ অবস্থায় মালদা জেলা তৃণমূল : মুকুল রায়







মালদা, ১৪মার্চ: “বাংলায় আবার পরিবর্তনের প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে। ব্লকে ব্লকে জোয়ার শুরু হয়ে গেছে। কোনো জেলাতেই তৃণমুলের সংগঠন নেই। মালদা জেলা তৃণমূল সভাপতি মৌয়াজ্জেম হোসেন যদি ডান দিকে যায় তাহলে সাবিত্রী মিত্র বাম দিকে যাবে, আবার কৃষ্ণেন্দু নিজ দিকে হাঁটে, তাহলে দেখবেন নীহার ঘোষ উল্টো দিকে হাঁটছে। এটা দল নয়, সার্কাস থেকেও খারাপ অবস্থায় দাঁড়িয়ে মালদা জেলা তৃণমূল। এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের দুর্নীতির প্রতিটা কাগজ আমার কাছে আছে। কাগজ ছাড়া একটাও কথা বলছি না। বেশি দেরি নেই, সময় আসছে মুখ্যমন্ত্রীকে বলা হবে মৌ দিদি”। মালদা কলেজ অডিটোরিয়ামের মঞ্চ থেকে সরাসরি রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা শাসক দল ও মুখ্যমন্ত্রীকে করা ভাষায় আক্রমণ করেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়।





 

গলায় সবুজের বদলে গেরুয়া উত্তরীয়। গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়ে এই প্রথম মালদাই আসলেন মুকুল রায়। অনশন তোলার পর মালদা কলেজ অডিটোরিয়ামের দলিও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন তিনি। এদিন মালদার ১৫ টি ব্লকের প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী বিভিন্ন দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দান করেন। নবাগতদের হাতে দলিয় পতাকা তুলে দেন মুকুল বাবু।




এদিন মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তার নিশানাই তৃণমূল। তিনি বলেন, রাজ্যে স্বস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প কিছুই নেই। দার্জিলিংয়ে শিল্পের নামে নাটক করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বপ্ন দেখছেন প্রধান মন্ত্রী হওয়ার। বলে রাখি এটা স্বপ্নই থাকবে। যে দল গোটা দেশে ৪০ টার বেশি আসনে প্রার্থী দিতে পারবে না। সেই দলের নেত্রীর এমন স্বপ্ন মানাই না। সরকার ফ্যাসিস্টের ভূমিকা নিয়েছে। মমতা ব্যানারজী সেটা বুঝতে পেরেছেন তাই নিজের ছায়াকেও এখন বিশ্বাস করছেন না। যাকে পছন্দ হচ্ছে না তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই স্বপ্ন দেখুক না কেন, ২০২১ এ রাজ্যে বিজেপি আসছে। তৃণমূল দল এখন পিসি ভাইপোর দল। তা এখন সার্কাস দলে পরিণত হয়েছে। একসময় কথায় কথায় মউ চুক্তি সম্পাদনের জন্য CPI(M) নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে আমরা মউ দাদা বলতাম। আর বেশিদিন নেই, যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবাই মউ দিদি বলবেন সবাই। তিনি সারা রাজ্যের জন্য কিছুই করতে পারলেন না। আর এখন পাহাড়ে নাকি উন্নয়ন করছেন।




শিল্প সম্মেলন প্রসঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন মুকুল রায়। “এরাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৫টি শিল্প সম্মেলন হয়েছে। কত টাকা শিল্প সম্মেলনের আয়োজন করতে খরচ হয়েছে আর কত টাকার শিল্প এসেছে, তা শ্বেতপত্র দিয়ে জানান মুখ্যমন্ত্রী। একজন শিল্পপতিও এরাজ্যে আসবে না, আমি বলি ওরা কি BJP কর্মী, যে পুলিশ দিয়ে জোর করে ধরে আনলে শিল্প তৈরি হয়ে যাবে? ওরা শিল্পপতি। যেদিন সভা করার জন্য মাইক পাব, সেদিন এই সরকারের সব দুর্নীতি সামনে আনব। তার সমস্ত প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে”।

তারপর সভা শেষ করে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে বালুরঘাটের উদ্দ্যেশে রওনা দেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়।




You May Also Like

error: Content is protected !!