সরকারি বীজে ধান চাষ করে বিপাকে বালুরঘাটের শতাধিক কৃষক




বালুরঘাট, ২৯ মে: জেলা কৃষি বিভাগের দেওয়া সরকারি বীজে বোরো ধান চাষ করে বিপাকে ৫০০ কৃষক। অধিক ফলন হলেও মহাজন থেকে ব্যবসায়ীরা সেই ধান কিনতে নারাজ। ফলে ধান বিক্রি করতে না পারায় মাথায় হাত চাষিদের। বালুরঘাট ব্লকের বোয়ালদার গ্রাম পঞ্চায়েতের ভারিলা, ভেরেন্ডা ও বড়কাশীপুর এলাকার ঘটনা। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বালুরঘাট ব্লক সহ কৃষি অধিকর্তা পার্থ মুখার্জী।




দক্ষিণ দিনাজপুর কৃষি প্রধান জেলা হিসেবেই পরিচিত। এই জেলায় ধান চাষই সব থেকে বেশি হয়ে থাকে। জেলার মধ্যে বালুরঘাট ব্লকে বোরো ধান(গ্রীষ্মকালীন) চাষ হয় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে। তার মধ্যে ১০০ হেক্টর জমিতে এবার কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে সরকারি ভাবে ধানের বীজ দেওয়া হয়। 6444-GOLD নামের সার্টিফাইড বিজ দেওয়া হয় বালুরঘাট ব্লকের বোয়ালদার গ্রাম পঞ্চায়েতের ভারিলা, ভেরেন্ডা ও বড়কাশীপুর এলাকার কয়েকশো কৃষকদের। উচ্চ ফলন শীল বীজে ধানও খুব ভালো হয়েছে। মাঠে এখন ধান কাঁটা ও ঝাঁরাই প্রক্রিয়া চলছে। লাভের আশায় ধান কাঁটার পরই মাথায় কৃষকদের। কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে দেওয়া ধান কিনতে চাইছে না মহাজন, মিল মালিক থেকে অন্যান্য ব্যবসায়িরা।

কি কারণে এই ধান কিনতে চাইছে না কেউ তা অজানা কৃষকদের কাছে। ধান কাঁটার পর তা জমিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। ধান বিক্রি করতে না পারলে ব্যাপক ক্ষতির সন্মুখিন হতে হবে কৃষকদের। এদিকে এই ধান কেনার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বার বার এলাকার কৃষকরা কৃষি দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এনিয়ে। তবে এখনও কোন সদুত্তর পাননি এই এলাকার কৃষকরা। ফলে একটু বেশি লাভের আশায় সরকারি ধান চাষ করে মাথায় হাত শতাধিক কৃষকদের।

এবিষয়ে সরকারি ধান চাষ করা কৃষক কালিদাস ঘোষ ও সুব্রত রায় জানান, একটু বেশি লাভের আশায় সরকারি বীজে বোরো ধান চাষ করেছিলেন তারা। এমনি অন্য ধানের চেয়ে এই ধান উচ্চ ফলনশীল। ধান কাঁটার পর সরকারি বীজের এই ধান কেউ কিনতে চাইছে না। মিল মালিক থেকে মহাজনদের সঙ্গে কথা বলেছেন কোন লাভ হয়নি। এদিকে সরকারি ভাবেও এই ধান কেনার কোন ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। এমত অবস্থায় তারা ব্যাপক সমস্যায় রয়েছে। কি করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। ধান বিক্রি করতে না পারলে ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন তারা। জেলা প্রশাসন কোন ব্যবস্থা করুক এই আবেদন করেছেন কৃষকরা।

অন্য দিকে বালুরঘাট ব্লক সহ কৃষি অধিকর্তা পার্থ মুখার্জী জানান, গতবারও এই বীজে ধান চাষ করেছিলেন কৃষকরা। গতবার সেই ধান বিক্রির ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হয়নি। এবার কেন হচ্ছে তা তাদেরও জানা নেই। প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন হয়েছে এমনটাও নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তিনি। এবং এবিষয়ে কি করা যায় তাও তিনি দেখছেন বলে পার্থবাবু জানিয়েছেন।




You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!