সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির গোয়াস গ্রামের নামযজ্ঞে




নদিয়া, ১৪ জুন : হিন্দুধর্মের মহানামযজ্ঞ যেন মিলিয়ে দিল বিভিন্ন ধর্মপ্রাণ মানুষকে l কবির কথায়”মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু- মুসলমান “-লাইনটির উপযুক্ত দৃষ্টান্ত হয়ে রইল নদিয়ার প্রত্যন্ত একটি গ্রামের মহানামযজ্ঞl মুসলিম ভাইরাও সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন করিমপুরের গোয়াস আনন্দনগরের রজত জয়ন্তীর এক মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠানে l




সারা দেশ যখন সাম্প্রদায়িকতার বিষ বাষ্পে সিক্ত, ঠিক সেই সময় অন্য নজির গড়ল গোয়াসের হিন্দু মুসলিম ভাই l এই ধরনের অনুষ্ঠানের খরচ চালাতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়l রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সকল ভক্তদের জন্য আহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে প্রতিদিনই l আর যে বাড়িতে ভক্তগণ আহার করেন সেই বাড়ির কর্তা আনন্দ বিশ্বাস তার নিজের তিন শতক জমি দান করে দিলেন এই নামযজ্ঞ কমিটিকে l এলাকার মুসলিম ধর্মের কবির মণ্ডল, লালচাঁদ শেখ, রশিদ মালিথা, পিণ্টু শেখ, ইছাব ভাইয়েরা ৫০কেজি ডাল, ৬৫কেজি চাল সহ বেশ পরিমাণ অর্থও দান করলেন কীর্তনগানে l লালচাঁদ শেখের কথায়, ধর্মীয় কোনও অনুষ্ঠান ঘিরে যখন হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন, তখন অনুষ্ঠান আর নির্দিষ্ট ধর্মের মধ্যে আটকে থাকে না l তাছাড়া মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানুষেরই কর্তব্য l নামযজ্ঞ কমিটির কোষাধ্যক্ষ নির্মল চক্রবর্তী বলেন , “আমরা দীর্ঘ দিন হিন্দু মুসলিম পাশাপাশি আছি , আনন্দ- দুঃখে সবসময় একে অপরের পাশে দাঁড়াই “l শুধু তাই নয় ,বিদেশি বেশ কিছু ভিন্ন ধর্মী মানুষ আমাদের আর্থিক সহযোগিতা করেছেন l এলাকার বহু যুবক কর্মসূত্রে দুবাই, কাতার, কুয়েত আছেনl তাঁদের মুখে এই অনুষ্ঠানের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা শুনে সেখানে এদেশের সুদীপ, ভবতোষ, উদয়,বিকাশ, অভিজিৎ,মৃদুলদের হাতে বাংলাদেশ, পাকিস্থান, ভুটান, মিশরের রিয়াজ, হাসমত, অরনাস, উবাদারাও কিছু বিদেশি অর্থ তুলে দিয়েছেন l একই ঘরে বসে মোবাইলে তাঁরা একসঙ্গে হরিনামের ভিডিয়ো দেখেনl আদান প্রদান হয় একদেশের ধর্মীয় সংস্কৃতি অন্য দেশের মানুষের মধ্যে l

চারদিনের এই মহানামযজ্ঞ ঘিরে গোয়াসের সাথে পাশের গ্রাম রহমতপুরেও চলছে উৎসবের মেজাজ l এলাকার প্রতিটি বাড়ি বাড়ি আত্মীয় স্বজনে ভরতি ছাড়া পরিবার নেই বললেই চলে। রবিবার বিকেলে ‘গান-তলায়’ জল ঢেলে কাঁদা-মাটি করা হয় ;আর সেখানে এলাকার আবাল -বৃদ্ধা বনিতা ,ধনী -গরীব নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ কাদায় গড়াগড়ি দিয়ে দুঃখ যন্ত্রণাকে বিসর্জন দেয়l অপেক্ষা করে নতুন বছরের l

এলাকার বাসিন্দা মনমোহন সরকার জানান এই ধরনের নাম সংকীর্তন ঘিরে এলাকার মানুষজনদের মধ্যে একটা আলাদা উৎসবের মেজাজ।আট থেকে আশি সকলে এখন উৎসব মুখর।




You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!