মহিন্দ্রা শ্রেষ্ঠ মহিলা কৃষকের সম্মান পেলেন চোপড়ার সুশীলা টুডু







চোপড়া, ১০ মার্চ: ২০১৮সালের মহিন্দ্রা শ্রেষ্ঠ মহিলা কৃষকের সম্মান পেলেন উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়ার গোলামীগছের আদিবাসি গৃহবধূ সুশীলা টুডু। চাবাগানে কাজ করে নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যেত সুশীলা টুডুদের মত চোপড়া ব্লকের অসংখ্য পরিবারে। চা বাগানের কাজ একদিন হলে দুই দিন বন্ধ থাকত। ফলে বাগানের কাজে চরম অনিশ্চিয়তা। এই অনিশ্চিয়তা কাটাতেই সুশীলা টুডু বাগানের কাজ ছেড়ে দেবার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু কাজ ছাড়লে কি কাজ করবেন।





 

এই নিয়ে ভাবতে ভাবতেই হাজির হয়েছিলেন চোপড়া কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে। কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র থেকে জানতে পারেন মহিলা স্বনির্ভর দল গড়ে তুললে কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র থেকে তাদের বিভিন্ন রকম সহযোগিতা করবেন। কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে বৈজ্ঞানিকদের বক্তব্যকে বিশ্বাস করে চোপড়া গোলামীগছ এলাকায় মহিলা স্বনির্ভর দল গড়ে তোলেন। সুশীলা টুডু স্বনির্ভর দল তৈরি করে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র থেকে মাসরুম চাষের জন্য প্রশিক্ষণ নেন। ২০১৭ সালে আদিবাসি প্রকল্পে সুশীলা দেবীর বাড়িতে একটি প্রকল্প তৈরি করে দেয় উত্তর দিনাজপুর কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র। এই প্রকল্প তৈরি করে দেবার পর সুশীলাদেবীকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি।




তার তৈরি মাসরুম এখন উত্তর দিনাজপুর জেলার বাজার ছাড়াও শিলিগুড়িতেও সুনামের সঙ্গে বিক্রি হচ্ছে। মাসরুম চাষ করে তার বাড়তি আয় হওয়ায় মুখে হাসি ফুটেছে। এই অল্প দিনেই একজন মহিলা কৃষক কিভাবে বাড়তি আয় করতে পারে এটা তুলে ধরতেই জেলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ২০১৮ মহিন্দ্রা কৃষি সমৃদ্ধি এয়ার্ডের জন্য মনোনীত করেছিল। তাদের মনোনীত মহিলা কৃষককেই এবারে পুরস্কৃত করল মহিন্দ্রা। পুরস্কার হিসেবে সংশাপত্র, কাপ ছাড়াও নগদ ২লক্ষ ১১হাজার টাকা তার হাতে তুলে দিয়েছেন। দিল্লি থেকে এই পুরস্কার নিয়ে আজই তারা চোপড়ার গোলামীগছ এসে পৌঁছেছে। এতবড় সম্মান পেয়ে খুশী আদিবাসি মহিলা সুশীলাদেবী। তিনি জানান একটা সময় সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকত।




আজকে মাসরুম চাষ করে একদিকে সংসারের অভাব দূর যেমন হয়েছে অন্য দিকে যে এত বড় সম্মান পাব জীবনে তা স্বপ্নেও ভাবে নি। টাকার অভাবে একটা সময় বাসে চরে আত্মীয়ের বাড়ি যেতে পারেন নি মাহিন্দ্রা পুরষ্কারের সুবাদে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে বিমানে দিল্লিতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বিমানেই বাগডোগরায় আসেন সুশীলাদেবী ও তার স্বামী। সুশীলাদেবীর সাফল্যেও উজ্জীবিত কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ও গবেষক ধনঞ্জয় মণ্ডল জানান যে চোপড়া এলাকার প্রচুর মানুষ আমাদের এখানে আসে শেখার জন্য। আমরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের চাষের জন্য অনুশীলন দিই। মাসরুম চাষ, ভেষজ আবির তৈরি, স্ট্রবেরী চাষ, হাতের কাজ সহ বিভিন্ন রকমের পরামর্শ দিয়ে থাকি। এর ফলে বর্তমানে অনেক পরিবার সচ্ছল জীবন যাপন করছে।







You May Also Like

error: Content is protected !!