পথকুকুরদের জন্য ফ্রী এম্বুলেন্স পরিষেবা, অভিনব ভাবনা পশুপ্রেমী অরিন্দমের




জলপাইগুড়ি, ১২জুলাই: কুকুর, বেড়ালদের আমরা সকলেই কম বেশী ভালোবেসে থাকি। তবে আজ এমন একজনের কথা আপনাদের বলব, কুকুর, বেড়ালদের নিয়ে যার ভাবনাচিন্তা একেবারেই ভিন্ন। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তিনি জলপাইগুড়ি শহরে পথকুকুর, বেড়ালদের নিয়ে কাজ করে আসছেন।




 

 

আমরা সাধারণত বাড়ির পোষা কুকুর, বেড়ালদের ভালোবেসে থাকি, আদর করে থাকি। কিন্তু অরিন্দম বিশ্বাস জলপাইগুড়ি শহরের সমস্ত পথ কুকুরদের ভালোবেসে আপন করে নিয়েছেন। তাদের নিয়মিত চিকিৎসা করানো থেকে শুরু করে তাদের খাওয়ার দ্বায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। প্রতিদিন শহরের ৬৫টা কুকুরকে পালা করে খাইয়ে থাকেন অরিন্দম।

 

 

অরিন্দমের বাড়ি জলপাইগুড়ির বৌবাজার এলাকার শরৎপল্লিতে। তিনি পেশায় একজন গাড়ি চালক। খুবই সহজ সরল একজন মানুষ। অরিন্দম অন্যের গাড়ি চালিয়ে সারাদিনে যতটুকু টাকা সঞ্চয় করেন তার অর্ধেক টাকা সংসারের কাজে লাগান এবং বাকি অর্ধেক দিয়ে শহরের পথকুকুরদের খাওয়ান। তিনি তার সাথে সাথে কুকুরদের চিকিৎসাও করে থাকেন। এই কাজের জন্য তিনি তৈরি করেছেন বেঙ্গল হেভেন এনিম্যাল কেয়ার নামের একটি সংস্থা।

 

 

তিনি জানান, এটা করার কারন একটা মানুষ যখন রাস্তায় অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে পড়ে থাকে তখন আমরা সবাই তাকে নিয়ে হাসপাতালে যাই, কিন্তু যখন একটা কুকুর রাস্তায় অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে পড়ে থাকে তখন কেউ তাকে তোলে না। কুকুরেও তো প্রান আছে ওদেরও তো ব্যথা লাগে ওদের জন্য কেউ নেই, ওদের জন্য আমি আছি। পথকুকুর, বেড়ালদের খাওয়ানোর জন্য অরিন্দমের মাথায় আসে ফুড ব্যাঙ্ক তৈরির অভিনব ভাবনা। বর্তমানে অরিন্দম ব্যস্ত সেই কাজে। ফুড ব্যাঙ্কের প্রচারের কাজ শুরু করেছেন তিনি। চলছে শহরের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার লাগানোর কাজ। মাত্র ১০ টাকা মাসে এই ফুড ব্যাঙ্কে সহায়তা দিয়ে যে কেউ এই কাজের অংশীদার হতে পারেন জানালেন অরিন্দম নিজেই। আপাতত বিভিন্ন জনবহুল জায়গায় ফুড ব্যাঙ্ক লেখা দান বাক্স রাখার পরিকল্পনা আছে অরিন্দমের। অরিন্দম বলেন, আপনার সামান্য দান, একটা ক্ষুধার্ত পশুর একদিনের পেট ভরাতে পারে।

 

 

ইতিমধ্যে শহরের পথকুকুর, বেড়ালদের মসীহা হয়ে ওঠা অরিন্দম জানান, আমি ওদের জন্য নিজেকে অভিভাবক মনে করি। আর কিছুদিন পরেই আমি পথকুকুরদের জন্য ফ্রী এম্বুলেন্স পরিষেবা চালু করতে চলেছি এবং ভবিষ্যতে ওদের জন্য বড়ো সেলটার তৈরি করার ইচ্ছে আছে। শহরের বিভিন্ন লোক আমাকে এই কাজে সাহায্য করেন। তাদের সহযোগিতা ছাড়া আমি এসব করতেও পারতাম না।

 

 

অরিন্দমের এই কাজকে সন্মান জানিয়ে শহরের এক পশুপ্রেমী একটি মোটরবাইক দিয়েছেন অরিন্দমকে। তিনি হলেন অরিন্দমের বন্ধু শুভজিতের বাবা। তিনি দুবছর হল মৃত। অরিন্দম মনে করেন, মোটরবাইকটি পেয়ে তাঁর কাজের খুব সুবিধা হয়েছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!