জেলা সফরে আজ তৃতীয় দিনে গঙ্গাসাগর থেকে কেন্দ্রকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর




দক্ষিণ ২৪ পরগনা,২৮ ডিসেম্বর:পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেলা সফরে তৃতীয় দিনের উপস্থিতিতে সাগর ব্লকের একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন শিলান্যাস ও পরিষেবা প্রদান হলো। সাতচল্লিশ টি প্রকল্প উদ্বোধন করেন এবং ৫৭ টি শিলান্যাস করেন। মঞ্চ থেকে রিমোটের মাধ্যমে। এ দিন গঙ্গাসাগর K2 বাসস্ট্যান্ড প্রাঙ্গনে সকাল ১১ টা থেকে সভা শুরু হওয়ার কথা ছিল কিন্তু এ দিন শুক্রবার হওয়ায়, পবিত্র জুম্মা থাকায় নামাজের পর মুখ্যমন্ত্রী সভা শুরু করেন।




এদিন মূলমঞ্চ থেকে সুন্দরবন কাপের বিজয়ীদের ২৫ হাজার এবং ৫১ হাজার টাকার চেক, রুপো এবং স্বর্ণপদক ও ট্রফি প্রদান করা হয় সেই সাথে চ্যাম্পিয়নদের স্কুটি ও বাইক প্রদান করেন। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন সুন্দরবন কাপে রানার্স ও চ্যাম্পিয়নদের সিভিকএর  চাকরি দেয়া হবে। বিজেপিকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন কেন্দ্র ও রাজ্য নির্বাচিত দল কেন্দ্রের কাজ রাজ্যকে হেনস্থা করা নয়, এরা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে। 

এদিনের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন- কুম্ভ মেলায় অনেক টাকা দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু গঙ্গাসাগরে একটা টাকাও দেয় না কেন্দ্র। রাজ্যের উদ্যোগে গঙ্গাসাগরে অনেক উন্নতি হয়েছে। কেন্দ্রকে এখানে একটা বন্দর করতে বলেছিলাম। কিন্তু কেন্দ্র সেই উদ্যোগ নেয়নি। বাংলার সাথে অশুভ আচরণ কেন্দ্রের। ১০০ দিনের ২৫,০০০ কোটি টাকা বাকি রয়েছে এখনও। ফলে দুমাস ১০০ দিনের কাজের টাকা পায়নি। কেন্দ্র সরকারের কাজ রাজ্যকে সাহায্য করা রাজ্যকে আগুন দেওয়া নয়। সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়াচ্ছে কেন্দ্র। কিন্তু তাতে কোনও সফল হতে পারবে না। আমরা সব ধর্মকে ভালোবাসি, সম্মান করি। ভেদাভেদ করতে তারা কোনোদিন পারবে না।

ফসল বিমার টাকা রাজ্যের টাকা কেন্দ্রের নয়। রাজ্য সরকার এই বিমার প্রিমিয়াম দেয়। এখনও ৫০ শতাংশ মানুষ ফসল বিমার টাকা পাননি। বহু জায়গায় ব্যাঙ্ক ছিল না রাজ্য সমবায় ব্যাঙ্কের শাখা খুলেছে। সুন্দরবন নামে একটি জেলা তৈরি করেছি। 

মুখ্যমন্ত্রী জানান যাদের জমি রেজিষ্টার করা আছে তাদের বি এল আর অফিসে যেতে হবেনা, জমির খাজনা আর কাটতে হবেনা। পঞ্চায়েত সমিতির উদ্দেশ্যে বলেন ব্লকের যে সমস্ত পরিষেবা আছে যথা সময়ে সাধারণ মানুষকে দিতে হবে। উপস্থিত ছিলেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী, সাগর বিধায়ক বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা, সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মন্টু রাম পাখিরা, বিশিষ্ট সমাজ সেবী আব্দুল কায়েম সাহেব, জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর, চৌধুরী মোহন জাতুয়া,

শুভাশিস চক্রবর্তী, কপিলমুনি মন্দিরের প্রধান পুরোহিত, ভারত সেবাশ্রমের মহারাজ, সহ-সভাধিপতি পূর্ণিমা নস্কর প্রমূখ। কয়েক টা দিন পরেই গঙ্গাসাগর মেলা, মুখ্যমন্ত্রী বলেন মেলায় সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে তবেই মেলা ভালো ভাবে সম্পন্ন হবে। এবং আমি মেলার সময় ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং করব। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ইন্দ্রনীলের কণ্ঠে সঙ্গীত পরিবেশনে সভার সমাপ্তি ঘটে। এদিনের তৃতীয় দিনের জেলা সফর শেষ করে হেলিকপ্টার করে নবান্নে ফিরে যাবেন ।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!