সাধক বামাখ্যাপার বংশধরের হাত ধরে এবারও কালীপুজোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রায়গঞ্জের বন্দর আদি কালি মন্দির

রায়গঞ্জ,১৩ অক্টোবরঃ সাধক বামাখ্যাপার বংশধরের পুজো বলে খ্যাত রায়গঞ্জের বন্দর আদি কালীবাড়ির শ্যামাপুজো। প্রায় পাঁচশো বছরের প্রাচীন এই কালীপুজোকে ঘিরে শুধু রায়গঞ্জ শহর বা উত্তর দিনাজপুর জেলা নয়, রাজ্যের অন্যান্য প্রান্ত এমনকি ওপার বাংলা থেকেও দীপাবলির রাতে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয় বন্দর আদি কালীমন্দিরে।

বন্দর আদি কালীবাড়ির পুজো নিয়ে নানান কাহিনী কথিত আছে। মন্দিরের অনতিদূরে বয়ে যাওয়া কুলিক নদী দিয়ে নৌকা করে বানিজ্য করতে আসতেন বনিকেরা। তারাই এখানে মন্দির তৈরি করে শক্তির দেবীর আরাধনা শুরু করেন বলে জানা যায়।আবার কেউ বলেন এক পাঞ্জাবী সাধু পঞ্চমুন্ডির আসনে প্রথম দেবীর আরাধনা শুরু করেন। সেই সাধুই নাকি ছিলেন সন্ন্যাসী ফকির বিদ্রোহের নেতা রঘুনন্দন গিরি গোঁসাই। তবে এনিয়ে যথেষ্ট মতবিরোধ রয়েছে। আবার এও শোনা যায়, পুরাকালে ডাকাতদল এই বন্দর মন্দিরেই পুজো দিয়ে ডাকাতি করতে বের হতেন। আবার ডাকাতি শেষে মন্দিরে পুজো দিতেন।

তবে ১২১৬ বঙ্গাব্দে ওপার বাংলাদেশের দিনাজপুরের রাজা তারকনাথ রায়চৌধুরীর উদ্যোগেই নির্মান হয়েছিল বন্দর আদি কালীমন্দির। জানা গিয়েছে, সাধক বামাখ্যাপার নির্দেশেই তারই বংশধর জানকীনাথ চট্টোপাধ্যায় আসেন রায়গঞ্জের বন্দর আদি কালীবাড়ি মন্দিরে। শুরু করেন মন্দিরের সেবাইতের কাজ। আজও বন্দর আদি কালীবাড়ির সেবাইত হিসাবে পুজো করে আসছেন সিদ্ধ যোগীপুরুষ তারা মায়ের পুজারী সাধক বামাখ্যাপার বংশধরেরা।
বিজ্ঞাপন

জানকীনাথ চট্টোপাধ্যায়,নবীন ঠাকুর, ভৈরব ঠাকুর, যোগেশ চট্টোপাধ্যায়,নারায়ন চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পর বংশপরম্পরাক্রমে এখন মদনমোহন চট্টোপাধ্যায়ের পুত্র মৃত্যুঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় বন্দর আদি কালী মন্দিরের সেবাইত।

বন্দর আদি কালীবাড়ির দীপাবলির রাতের পুজো নিয়ে মানুষের উন্মাদনা চোখে পরার মতো। হাজার হাজার দর্শনার্থী তাদের মনস্কামনা পুরনের আশায় পুজো দিতে আসেন এই মন্দিরে। বলির প্রথাও প্রচলিত রয়েছে এই মন্দিরে। শুধু দীপাবলিতেই নয় সারা বছরই নিয়ম নিষ্ঠার সাথে বামাখ্যাপার বংশধর মৃত্যুঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় এই মন্দিরের পুজো করেন। বর্তমানে দীপাবলির প্রস্তুতির ব্যস্ততা তুঙ্গে রায়গঞ্জের বন্দর আদি কালি মন্দিরে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *