বালুরঘাট ফেসবুক ইস্যুতে এবার পাল্টা মিছিল তৃণমূলের




বালুরঘাট, ২৩ অক্টোবর: সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচিকর ও অশ্লীল পোস্টের প্রতিবাদে এবার আসরে তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার দুপুরে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বালুরঘাট শহরে পালটা মিছিল করা হয়। বালুরঘাট হাই স্কুল মাঠ থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি গোটা শহর পরিক্রমা পর বালুরঘাট বাস স্ট্যান্ড এলাকায় পথসভা করে। এদিনের মিছিলের নেতৃত্ব দেন জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক সুনির্মল জ্যোতি বিশ্বাস, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি অতনু রায় সহ অন্যান্য জেলা নেতৃত্ব। এদিকের শেষ বেলায় বাইরে থেকে লোক আনিয়ে প্রশাসনের হয়ে তৃণমূলের এই মিছিল করাকে ঘিরে কটাক্ষ করতেও ছাড়েনি বিরোধীরা। অন্য দিকে পালটা জবাব তৃণমূলও দিয়েছে।






প্রসঙ্গত, এবারের দুর্গা পুজোয় বালুরঘাটের শহরের যান চলাচল নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকজন বির্তকিত পোস্ট করেন। যার প্রত্যেকটি পোস্টেই পুলিশ প্রশাসনকে আক্রমণ করা হয়। এর পরই কিছু টোটো চালক এই সব পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে বালুরঘাট থানায় অভিযোগ জানায়। সেই অভিযোগের ভিতিতে বেশ কয়েকজন ফেসবুকে পোস্টকারীকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। এছাড়াও বেশ কয়েকজনের নামে মামলাও দায়ের করে পুলিশ। পুলিশি হয়রানি সহ্য করতে না পেরে গত ১৮ তারিখ জেলা শাসক সহ অন্যান্য আধিকারিকদের কাছে স্বেচ্ছায় স্বপরিবারে মৃত্যুবরণের আবেদন করেন বালুরঘাটের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করা যুবক দেবজিৎ রায়। এরপর গত ১৯ তারিখ দেবজিৎ রায় ও অনুপম তরফদার নামে আর এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে পাঠায় পুলিশ। সেখানে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সন্ধ্যায় দু’জনকে গ্রেফতার করে। এবং তাদের ৩০ তারিখ আদালতে তোলা হলে ২ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। এর প্রতিবাদেই গত ২০ তারিখে মৌন মিছিল বের করে প্রতিবাদীরা। এদিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনীও। এর পর মিছিল শুরু হতেই আটেক দেওয়া হয় মিছিল। অনুমতি না থাকায় মিছিল করতে বাধা দেয় পুলিশ। অনুমতি ছাড়া কোন ভাবেই মিছিল করা যাবে না বলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। গত শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়া মারফৎ বিষয়টি জানতে পারেন প্রতিবাদী অম্বিকেশ মহাপাত্রও। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর শুরু করেন তিনি। গত শনিবার এনিয়ে গ্রেফতার হওয়া দু’জনের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের আশ্বস্ত করেন তিনি। দল মত নির্বিশেষে বালুরঘাটবাসীদের পথে নামার অনুরোধ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন তিনি। ‘আক্রান্ত আমরা’ও পাশে আছে বলে তিনি জানান। এরপর গতকাল ধৃতদের বালুরঘাটের স্পেশাল সিজিএম কোর্টে তোলা হয়। এদিন পুলিশের তরফ থেকে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার কোন আর্জি জানানো হয়নি। ধৃতদের পক্ষে আইনজীবী শিবতোষ চ্যাট্টার্জী জামিনের আবেদন করলে ব্যক্তি গত ২ হাজার টাকার বন্ডে ধৃতদের জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক হেদায়তুল্লা ভুটিয়া। এর পরই এদিন জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পালটা মিছিল বের করা হয়। ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অশ্লীল বা কুৎসা রটালে তার প্রতিবাদ করবে তৃণমূল বলে সাফ জানিয়ে দেয়। তাই প্রশাসনের হয়ে তৃণমূল পথে নেমেছে। পাশাপাশি ফেসবুক কাণ্ডে বা বিজেপি এক হয়েছে যার তীব্র প্রতিবাদ করেছে তৃণমূল।


এবিষয়ে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক সুনির্মল জ্যোতি বিশ্বাস বলেন, “আমার টোটো ভাইদের শুয়ের বাচ্চা বলবে আর আমরা আপনাদের মাইকে দাঁড়িয়ে রসগোল্লা খাওয়াবো এটা ভাবলে ভুল করবেন”। ফেসবুকে এমন অশ্লীল বা কুৎসা পোস্ট করলে তাদের আমি বদমাশ বলবো, দুশ্চরিত্র বলো! এতে আমার বিরুদ্ধে কেস হলে হবে। বা কেউ চাইলে করতেও পারে। তবে এই ভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলে তৃণমূল তার প্রতিবাদ করবেই বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

বিজ্ঞাপন

অন্য দিকে বাম তথা আরএসপির বর্ষীয়ান নেতা বিমলেন্দু সরকার জানান, একটা দুর্ঘটনা ঘটলে যেমন মানুষ এগিয়ে যায়। ঠিক তেমনি এই ক্ষেত্রে অরাজনৈতিক ভাবে সবাই এগিয়ে এসেছিল। তবে তিনি অবাক হলেন তৃণমূলের মত দায়িত্বশীল পার্টি যারা রাজ্যর শাসন করছে তারা নামবেন কেন উলটে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পুলিশ প্রশাসন যদি ঠিক ভাবে বিষয়টি নিত তাহলে এমনটা হতো না বলে বিমেলেন্দু সরকার জানিয়েছে।



পাশাপাশি তৃণমূলের এই মিছিলের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন বিজেপির জেলা সভাপতি শুভেন্দু সরকার।





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!