ফের প্রশ্ন-পত্র নিয়ে সমস্যা, দুই সেটে পরীক্ষা দিলেন ছাত্রীরা




বালুরঘাট,৪ নভেম্বর: বালুরঘাট রমেশ চন্দ্র দত্ত গার্লস হাইস্কুলের দুই শিক্ষিকার মধ্যে কাজিয়া অব্যাহত। ক্লাস ফাইভ থেকে নাইনের ফাইনাল পরীক্ষায় অঙ্ক বিষয়ে তৈরি হল দুই ধরনের প্রশ্ন-পত্র। দুই প্রশ্ন-পত্রেই চলল পরীক্ষা। কিছু পরিক্ষার্থী স্কুলের বর্তমান প্রধানশিক্ষিকা স্বপ্না চক্রবর্তী ও কর্তৃপক্ষের তৈরি করা প্রশ্ন-পত্রে পরীক্ষায় বসে। অন্যদিকে, নিজেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষিকা হিসেবে দাবী করা সুইটি টুডু ও তাঁর সহযোগী শিক্ষিকাদের তৈরি করা প্রশ্ন-পত্রে পরীক্ষা দেয় বাকি পরীক্ষার্থীরা। একই পরীক্ষায় দুই ধরনের প্রশ্ন-পত্র হওয়ায় শেষে ডিআই -এর দ্বারস্থ হয় পরীক্ষার্থীরা। এদিকে রোজকারের এই ঝামেলা থেকে নিস্তার পেতে স্কুলের অন্যান্য শিক্ষিকারা মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হবেন বলে জানান। অন্যস্কুলে যাতে তাঁদের বদলী করা হয় তার জন্য আবেদন করবেন তারা।







এদিকে খবর পেয়ে স্কুলে আসে ডিআই(হাইস্কুল) সহ বালুরঘাট থানার পুলিশ। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখেন তারা। কয়েকদিন আগেই বালুরঘাট রমেশ চন্দ্র গার্লস হাইস্কুলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এরপর শুরু হয় ক্লাস ফাইভ থেকে নাইনদের ফাইনাল পরীক্ষা। সোমবার অঙ্ক পরীক্ষা ছিল। প্রথমদিকে সমস্যা না হলেও এদিন প্রশ্ন-পত্র নিয়ে ফের সমস্যা বাধে। দুই দিদিমণির তরফ থেকে দুইরকম প্রশ্ন-পত্র করা হয়। এমনকি দুটো প্রশ্ন-পত্র দিয়েই হয় প্রথম হাফের অংক পরীক্ষা। প্রথম হাফে ক্লাস ফাইভ, সেভেন ও নাইনের পরীক্ষা ছিল। সেকেন্ড হাফে ক্লাস সিক্স ও এইটের পরীক্ষা। এদিকে পরীক্ষার জন্য মাঝে-মধ্যেই এমন দুই সেট করে প্রশ্ন-পত্র হওয়ায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের। কোন দিদিমণির প্রশ্ন-পত্রে পরীক্ষা দেবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না তারা। এই নিয়ে শেষে এদিন ডিআই(মাধ্যমিক) দ্বারস্থ হয় স্কুলের ছাত্রীরা। অভিযোগ, স্কুলের পরীক্ষার জন্য বরাবরের মতো এবারও বাইরে থেকে প্রশ্ন-পত্র কেনে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, নিজেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষিকা বলা সুইটি টুডু ও তাঁর সহযোগী শিক্ষিকারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রশ্ন-পত্র তৈরি করে। সেই প্রশ্ন-পত্রে তারা পরীক্ষা নেয়। অন্যদিকে, বাইরে থেকে কেনা প্রশ্ন-পত্রেও পরীক্ষা হয়। কিছু পরীক্ষার্থী বাইরের প্রশ্ন-পত্র আর বাকিজন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষিকার তৈরি প্রশ্ন-পত্রে পরীক্ষা দেয়।

 

এদিকে নিজেকে প্রধানশিক্ষিকা হিসেবে দাবি করা সুইটি টুডু জানান, “এতদিন পর্যন্ত স্কুলের পরীক্ষার প্রশ্ন-পত্র সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষিকারা করতেন। সেই প্রশ্ন-পত্রেই পরীক্ষা হত।” অবৈধভাবে আসা এক শিক্ষিকা বাইরে থেকে প্রশ্নপত্র(এবিটিএ) কিনে পরীক্ষা নিচ্ছেন। তিনি আসার পর হুটহাট সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তিনি বাইরে থেকে রাজনীতি করতে এসেছেন বলে সুইটি টুডু জানান।

অন্যদিকে, স্কুলের সহকারী প্রধানশিক্ষিকা শিলা ঘোষ জানান, ফাইনাল পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষিকাদের প্রশ্ন-পত্র তৈরি করতে বলেছিলেন প্রধানশিক্ষিকা। কিন্তু তারা প্রশ্ন-পত্র তৈরি করে তা জমা দেননি। তাই বাধ্য হয়ে প্রধানশিক্ষিকা বাইরে থেকে প্রশ্ন-পত্র কিনতে বাধ্য হয়েছেন। দুই সেটের প্রশ্ন-পত্রেই পরীক্ষা দিয়েছে পরীক্ষার্থীরা।

জেলা স্কুল পরিদর্শক(মাধ্যমিক) নারায়ণ চন্দ্র সরকার জানান, “স্কুলে গন্ডগোল হচ্ছে শুনে আমি ঘটনাস্থলে এসেছিলাম। ছাত্রীরা প্রশ্ন-পত্র নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে। আজ আবার স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রধানশিক্ষিকার পদে স্বপ্না চক্রবর্তীকেই মেনে নিতে হবে। যারা পরীক্ষা দিল না তাদের জন্য আলাদা একটা দিন স্থির করা হবে। আগামী সোমবার স্কুলে বসে সমস্যা মেটানোর উদ্যোগ নেবে প্রশাসন।”





You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!