তদন্তে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে তির ধনুক নিয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ




বালুরঘাট, ৩০ অক্টোবরঃ অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় মাস খানেক পর অভিযোগ নিয়েছে বালুরঘাট থানার পুলিশ। তবে তদন্ত শুরু করে দোষীদের বিরুদ্ধে পুলিশ সক্রিয় কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে দাবী মৃতের পরিবারের। ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবার সকালে বালুরঘাটের খাঁপুর এলাকায় তির ধনুক লাঠি নিয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ করলেন ক্ষুব্ধ কয়েকশো মহিলা। এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পতিরাম ফাঁড়ির পুলিশ ও বালুরঘাট থানার আইসি সঞ্জয় ঘোষ এবং ডিএসপি হেড কোয়ার্টার সৌমজিৎ বড়ুয়া সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। এদিকে গতকাল রাতেই মূল অভিযুক্ত সীমা মাহাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুরো ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে বলে পুলিশ আশ্বাস দিলে ঘন্টা দুয়েক পর পথ অবরোধ তোলেন বিক্ষোভকারীরা। এদিকে জাতীয় সড়ক অবরোধের জেরে আটকে পরে বহু দূর পাল্লার গাড়ি।




[amazon_link asins=’B00RN06DKG,B075M9J6ZD,B01C9OA9E6,B075VNH7K9,B018G8ZWUA,B075M73LP2,B075QMDPM7′ template=’ProductCarousel’ store=’ddnews24x701-21′ marketplace=’IN’ link_id=’3fd68699-bd70-11e7-acf4-afea21259baf’]


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালুরঘাট থানার অন্তর্গত খাঁপুর গ্রামের বাসিন্দা গোপাল মাহাতোর রহস্য মৃত্যুকে ঘিরে ঘটনার সুত্রপাত। গত ১৮ সেপ্টেম্বর গোপাল মাহাতোকে বাড়িতে দেখতে না পেয়ে তার মা খোঁজ খবর শুরু করেন। গোপালের স্ত্রীর কাছে তিনি জানতে চান ছেলে কোথায় গিয়েছে। স্ত্রী সীমা মাহাতো জানান পতিরাম হাটে গিয়েছে তার স্বামী। বেশ কিছু দিন ধরে ছেলে নিখোঁজ থাকায় পুত্রবধূকে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে বলেন। কিন্তু গোপাল বাবুর স্ত্রী বিষয়টি বারবার এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেন। এরপর নিখোঁজ এর স্ত্রী জানান,অভিযোগ এর দরকার নেই গোপাল ভিন রাজ্যে কাজে গিয়েছে। কিন্তু ২৬ সেপ্টেম্বর সিভিক ভলেন্টিয়ার দ্বারা পরিবারের কাছে খবর আসে যে, গোপালের মৃতদেহ মাঠের মাঝে একাটি জলাশয়ে পরে রয়েছে। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। পুলিশ অনুপস্থিতির কথা জানিয়ে ওইদিন থেকে মৃতদেহ আটকে রাখা হয়। শেষে ৩ অক্টোবর পরিবার মৃতদেহ হাতে পেয়ে সৎ কার করেন। এদিকে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় বালুরঘাট থানায় মৃতের স্ত্রীর সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে যায় পরিবারের অন্য সদস্য ও গ্রামবাসীরা। কিন্তু নানান অজুহাতে পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেন বলে দাবী। শেষে গত ২১ অক্টোবর জেলা পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হলে গ্রামবাসী ও পরিবারের অভিযোগ নেয় বালুরঘাট থানা। এর পরেও পুলিশ তদন্তে ঢিলেমি করায় এদিন জাতীয় সড়ক অবরোধ করে এলাকার কয়েকশো মহিলা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পতিরাম ফাঁড়ির পুলিশ।


এবিষয়ে মৃতের দাদা পুলক মাহাতো বলেন, জল থেকে উদ্ধারের সময় তার দাদার হাত, পা বাধা অবস্থায় ছিল। সেসময় পুলিশ না এসে উদ্ধারকারীদের পাঠিয়েছিল। তাদের দৃঢ় অনুমান মৃতের স্ত্রী সীমা মাহাতো খুনের ঘটনায় জড়িত। তিনি কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে কাউকে দিয়ে খুন করিয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে গেলে বালুরঘাট থানা প্রথমে নিচ্ছিল না। শেষে তারা পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয়েছেন। এর পরও ঘটনার তদন্ত শুরু করছিল না পুলিশ। তাই তারা পথ অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের একটাই দাবী তার ভাইএর খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
অন্য দিকে বালুরঘাট থানার পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়না তদন্তের রিপোর্টে অস্বাভাবিক কিছু পাননি তারা। তা ছাড়াও গতকাল মৃতার স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোয়া ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।








You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!