হুগলি জেলাজুড়ে রথযাত্রার উন্মাদনা




হুগলি, ১৪ জুলাই:শ্রীরামপুরের মাহেশ, গুপ্তিপাড়া, চন্দননগর, দশঘড়া, চুঁচুড়া সহ জেলার একাধিক জায়গার রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে উৎসবে মাতল গোটা হুগলি জেলা।শনিবার বিকেলে জয় জগন্নাথ ধ্বনী তুলে ভক্তদের উন্মাদনা ও উদ্দীপনাকে পাথেয় করে সারম্ভরে জগন্নাথদেব বলরাম ও সুভদ্রা গেলেন মাসীর বাড়ি। এদিন বিকেলে রথের টান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভক্তদের ভক্তি আর উহ্লাসের বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল মাহেশের পূর্নাথীদের। লক্ষ্যাধিক ভক্তের উপস্থিতিতে জগ্ননাথদেব এদিন মাসির বাড়ি যাত্রা শুরু করেন। প্রায় এক কিলোমিটার পথ যেতে এদিন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। এদিনের এই রথযাত্রাকে ঘিড়ে মানুষের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মত। শ্রীরামপুরের এই রথযাত্রা দেখতে জেলা ছাড়িয়ে আশেপাশের জেলা থেকে প্রচুর পূর্নাথীরা মাহেশে ভীড় জমিয়েছিলেন। ঐতিহাসিক এই রথযাত্রাকে উৎসাহিত করতে এদিন শ্রীরামপুরে বিভিন্ন গন সংগঠনের পক্ষ্য থেকে বিভিন্য রকম প্রচার অভিযান চালান হয়।




৬২২ বছর ধরে শ্রীরামপুরের মাহেশে জগন্নাথ মন্দিরে এই বিগ্রহ গুলির পুজো হয়ে আসছে। প্রতি বছর এই বিগ্রহগুলির অঙ্গরাগ সংস্কার হয় মাত্র। কিন্তু মূল কাঠামোর কোনও রুপ পরিবর্তন হয়না। পুরীতে প্রতি ১২ বছর অন্তর মুর্তির পরিবর্তন হলেও মাহেশের মুর্তির কোনও পরিবর্তন হয়না।

প্রথম দিকে মাহেশে কাঠের তৈরি রথ থাকলেও সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই রথের আকার আকৃতি বদলে গিয়েছে। ১৩১বছর আগে কলকাতার বাসিন্দা কৃষ্ণকান্ত বসুর আর্থিক ব্যায়ে ১২৫টন ওজনের রথটি মার্কিন কোম্পানীকে তৈরির বরাত দেন। ৫০ফুট উচ্চতার এই রথটির ৯টি চুড়া বর্তমান। রথের সামনে তামার তৈরি নীন ও সাদা রঙের ঘোড়া রয়েছে। ১০০গজের ২টো ম্যনীলা রোফ দরি আছে। এই দরি ২টো রথ রথ টানার কাজে ব্যবহার করা হয়। শ্রীরামপুর রথের দিন সকাল থেকেই মন্দিরে পুজোপাঠ ও ভোগের ব্যবস্থা করা হয়। এদিন দুপুরে জগন্নাথ দেব, মাসির বাড়ি যাবার উদ্যেশ্যে সোনার গহনায় সুসজ্জিত হয়ে ধীরে ধীরে রথে ওঠেন।

কথিত আছে, শ্রীরামপুরের মাহেশের এই জগন্নাথ মন্দিরে চৈতন্যদেব, শ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদার আগমনে এই ভুমি পূর্নভুমিতে পরিনত হয়েছে। রথের রশিতে টান দিতে সয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মাহেশে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন, মাহেশ জিউ টাষ্টি বোর্ডের সম্পাদক সৌমেন অধিকারী।

এদিন রথযাত্রাকে সুষ্ঠভাবে সম্পূর্ন করতে জেলা পুলিশ ব্যাপকভাবে তৎপর ছিল। এদিন বিশেষ নজরদারীর জন্যে পুলিশের তরফে ড্রোন ওড়ানো হয়েছিল। ছিল কয়েকশো পুলিশ কর্মী। যদিও রথ উৎসবকে কেন্দ্র করে কোথাও কোনও অপৃতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

শ্রীরামপুরের পাশাপাশি রথ উৎসবকে ঘিরে উন্মাদনা ছিল চন্দননগর ও গুপ্তিপাড়ায়। ১৭৫৮ খ্রীষ্টাব্দে যাদু ঘোষ নামে এক ব্যাবসায়ী স্বপ্নে আদেশ পেয়ে রথ ও মন্দির দুই তৈরি করেন। প্রথম দিকে এই রথটি কাঠের থাকলেও বর্তমানে রথটি লৌহ দ্বারা নির্মিত।

অন্যদিকে গুপ্তিপাড়ার রথ ২৭৯ বছরে পদার্পন করল। ১৭৪০ সালে এই রথ উৎসব শুরু করেন মধুসুদানন্দ। পুরীর রথের সঙ্গে গুপ্তিপাড়ার রথের পার্থক্য হল, পুরীর রথকে জগন্নাথ দেবের রথ বলে। আর গুপ্তিপাড়ার রথকে বলে বৃন্দাবন জীউর রথ। গুপ্তিপাড়ার রথের বৈশিষ্ঠ হল, এখানে ভান্ডার লুট হয়। ভারতবর্ষের কোথাও এই ভান্ডার লুট হয়না।




You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!