মহাকাশে অসাধ্য সাধনের পথে ভারত




ওয়েব ডেস্ক, ৬জুলাই:মিডিয়া কভারেজ এর থেকে অনেক দূরে থেকে মহাকাশে ভারত এক অসাধ্য সাধন এর দোরগোড়ায় আগত। আমরা জানি যে আর কয়েক মাসের মধ্যেই ভারত চন্দ্রজান-২ নামক অভিজান চালাতে চলেছে চাঁদে। এই অভিযান এ চাঁদ এ যাবে একটি রোভার, অর্থাৎ একটি রোবট সদৃশ যান। এই অবধি সব ই ঠিক ছিল। কারন এসব ই এতদিন করে এসেছে পৃথিবীর বাকি মহাকাশ সংস্থা। কিন্তু ইসরো সবসময় সবার থেকে আলাদা কিছু করে দেখায়। এবারেও তার ব্যাতিক্রম থাকছেনা। ইসরো অভিযান টি করতে চলেছে চাঁদের দক্ষিন মেরু তে। হ্যাঁ, সেই দক্ষিন মেরু তে, যেখানে আমেরিকা ছাড়া শুধুমাত্র রাশিয়া সফল অভিযান চালাতে পেরেছিল।




গণচীন কিছুদিন আগেও রোভার নিয়ে অভিযান চালাতে চেয়েছিল কিন্তু তাদের রোভার সহ মহাকাশ যানটি মহাকাশ এই হারিয়ে যায়। তাঁর পর থেকে চীন এর কোন মহাকাশ অভিযান তালিকায় চাঁদ এর দক্ষিন মেরু নেই। তবে ভারতের চন্দ্রাভিযান টি এই জন্যই জরুরি কারন এই অভিযান টি ভারত হিলিয়াম-০৩ আইসোটোপ এর খনি চিহ্নিত করবে। আর এটি জানিয়েছে ইউরোপিয়ান মহাকাশ সংস্থা কিছু পশ্চিমা মিডিয়ার দ্বারা। ১৯৭২ সালে নাসার অ্যাপোলো মিশনে চাঁদে হিলিয়াম-০৩ এর ভাণ্ডার আবিষ্কৃত হয় । এই আইসোটোপ একটি শক্তির ভান্ডার যা পৃথিবীতে অত্যন্ত কম পাওয়া যায়। হিলিয়াম-০৩ এর সবছেয়ে বড় আধার চাঁদ। প্রায় ২,৫০,০০০টন হিলিয়াম-৩ মজুত আছে চাঁদে মজুত আছে , যার প্রতি টন এর দাম ৫বিলিওন ডলার । এই আইসোটোপ Fusion Reactor এর অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদার্থ। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার বিবৃতি অনুযায়ী “ এই মিশন সফল হলে তা ভারতের বড় প্রাপ্তি।

এই আইসোটোপ আনার জন্য সব সংস্থা প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ”আমাদের দেশ এর নিজস্ব ফিউসন রিয়্যাক্টর এর কাজ শেষের দিকে তাই এই আইসোটোপ আমাদের প্রয়োজন।উল্লেখ্য ভারত এখনো রাশিয়া থেকে রিয়্যাক্টর কেনে । এই আইসোটোপ কোনো রেডিওএ্যক্টিভ বর্জ পদার্থ তৈরি করে না, ফলে অনেক সুবিধাজনক ব্যাবহার এর জন্য । এই অভিযান চালনার জন্য জন্য চাঁদে মহাকাশচারী পাঠাতে হবে, এবং খুব কৌশলে ইসরো জানিয়ে দিল তারা এর জন্যও তৈরি। এখন সরকারের একটা টাকা বরাদ্দ করার অপেক্ষা। এই অভিযান হয়ত খুব গোপনীয় ভাবে হবে তাই ইসরো সরকারী ভাবে এখনো কিছু স্বীকার করেনি।

শুধু ইসরো চেয়ারম্যন কে. সিভান জানিয়েছেন “আমরা তৈরি। এবং অপেক্ষা করছি। বিশ্ব যা করতে চাইছে আমরা তার অংশ হতে চাইনা। বরং আমরা বিশ্বকে লিড করতে চাই লিডার হয়ে।”এই বিপুল আইসোটোপের যদি ১/৩ভাগ আমরা আনতে পারি তবে তা আমাদের দেশের অর্থনীতি ও সবুজ শক্তি উৎপাদন এর ক্ষেত্রে আমরা অগ্রগণ্য হয়ে উঠবো। (ছবিতে ভারতীয় মনুষ্য বহন কারি স্পেস সাটল এর পরিক্ষামুলক স্কেল মডেল যা উৎক্ষেপণ এর জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে । ছবি সৌজন্যে – ইসরো ।)




You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!