গ্রামের মহিলাদের স্বনির্ভর ও কৃষকদের আর্থিক বলিষ্ঠ করার পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার




শিলিগুড়ি, ১২জুলাই: গ্রামের মহিলাদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে উদ্যোগী রাজ্য সরকার। পাশপাশি কৃষকদের আরও বেশি আর্থিকভাবে বলিষ্ঠ করার জন্য পদক্ষেপ শুরু করল রাজ্যে। চাষের পাশাপাশি ১৬টি প্রকল্পর মধ্যে দিয়ে কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের পরিকল্পণা নিয়েছে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের হলে একটি কৃষক প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। রাজ্য সরকারের জেলা উদ্যান পালণ আধিকারিকিকরন ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরন শিল্প ও উদ্যান পালণ বিভাগের তত্ত্বাবধানে এই শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল।




জাতীয় উদ্যান পালন প্রকল্পের আর্থিক সহায়তায় এই ১৬টি প্রকল্পের বিষয়ে মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠি ও কৃষকদের অবগত করা হয়। সরকারি অনুদানের মাধ্যমে এই ১৬টি প্রকল্পর মধ্যে যেকোন প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে পারবেন কৃষক ও স্বনির্ভর গোষ্ঠির মহিলারা। ইতিমধ্যে মূল লক্ষ্য মাত্রার ৬০ শতাংশ পুরোন করেছে সংশ্লিষ্ট দফতর। এছাড়াও এইধরনের প্রশিক্ষন শিবির গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেও করা হবে। প্রতিটি প্রকল্পতেই মিলবে আর্থিক অনুদান। চাষবাসের পাশপাশি অনায়াসে এইসব প্রকল্পর কাজ করতে পারবেন চাষিরা।

এদিন খাদ্য প্রক্রিয়াকরন বিভাগের আধিকারিক অরুণাভ বল ও জেলা উদ্যান পালন আধিকারিক প্রিয়রঞ্জন সন্নিগ্রাহি। শিলিগুড়ি মহকুমা এলাকার বাগডোগরা, নকশালবাড়ি সহ একাধিক এলাকার মোট ৪৮ জন মহিলা ও স্বনির্ভর গোষ্ঠির মহিলারা এদিনের প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেয়। মোট ৭০০টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মিহিলাদের এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এবিষয়ে প্রিয়রঞ্জনবাবু বলেন, “জেলাশাসকের নির্দেশে এই প্রকল্পর মাধ্যমে মহিলা ও কৃষকদের সশক্তিকরণের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। উদ্যান পালনের পাশাপাশি কৃষি কাজের মাধ্যমেও অনুদানের সুযোগ পাবে চাষিরা।

দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৬টি প্রকল্পের মধ্যে চাষিদের জন্য রয়েছে ৬টি প্রকল্প। তার মধ্যে প্রকল্প মূল্য প্রতি বর্গ মিটারে ১৪০ টাকা থেকে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদান রয়েছে। তবে প্রতি ক্ষেত্রেই ৩০% ৫০% অনুদান পাবে চাষি। এগুলির মধ্যে রয়েছে সুসঙ্ঘত উপায়ে রোগ ও পোকা নিয়ন্ত্রণ, জারবেরা চাষ, গ্রীন হাউজ, সবজি চারা ইত্যাদি। স্বনির্ভর গোষ্ঠির জন্য রয়েছে কন্দ জাতীয় মশলার চাষ, তেউড়ের মাধ্যমে আনারস চাষ, টুসু কালচারের মাধ্যমে কলা চাষ, পেঁপে, লেবু, কন্দ জাতীয় ফুল, কাটা ফুল, ঝুরো জাতীয় ফুল চাষ, কেঁচো সার প্রকল্প ও পুকুর খনন। চাষের ক্ষেত্রে প্রতি হেক্টরে ১২ হাজার টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান দেবে রাজ্য সরকার।




You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!