অবৈধ্য ভাবে ভারতে প্রবেশ, বাড়ি ফিরল ৪ কিশোর




হিলি, ১৮ জুলাই: অবৈধ্য ভাবে ভারতে ঘুরতে ও কাজের সন্ধানে আসা চার বাংলাদেশি কিশোরকে প্রায় আঠারো মাস পর তাদের পরিবারের হাতে প্রত্যার্পণ করা হল হিলি ইন্দো বাংলাদেশ সীমান্তে। বুধবার ভারত বাংলাদেশ প্রশাসনিক কর্তাদের উপস্থিতিতে হিলি আন্তর্জাতিক ইন্দো বাংলাদেশ সীমান্তে ওই চার বাংলাদেশি কিশোর মহম্মদ শাহ জামাল(১৮), রসিদ ইসলাম(১৩), মহম্মদ সাগর হোসেন(১২) ও ইমন ইসলাম(১৪) নামে ওই চার বাংলাদেশি কিশোরকে পরিবারের হাতে প্রত্যার্পণ করা হয়। আর দীর্ঘদিন পর সন্তানকে কাছে পেয়ে এক গাল হাসি নিয়ে ইন্দো বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা পরিবারের।




চাইল্ড লাইন সূত্রে খবর, বছর দুয়েক আগে বাংলাদেশ থেকে কেউ ঘুরতে আবার কেউ কেউ কাজের সন্ধানে ভারতে আসে ওই চার বাংলাদেশি কিশোর। ওই চার কিশোরের বাড়ি বাংলাদেশের দিনাজপুর, খুলনা,ও নওগাঁ এলাকায়। হিলি সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে ভারতে প্রবেশের চারজনের মধ্যে তিনজন হিলিতেই ধরা পুলিশের হাতে। আর একজনকে মালদাতে ধরা পরে। তারপর তাদের জুভেনাল কোর্ট ও চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটিতে তোলার পর থেকে তার ঠিকানা ছিল বালুরঘাটের শুভায়ন হোম। দীর্ঘদিন সেখানে থাকার পর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা চাইল্ড লাইনের উদ্যোগে ও দুই দেশের হাইকমিশনের সহযোগিতায় এদিন বাংলাদেশি চার কিশোরকে তাদের পরিবারের হাতে প্রত্যার্পণ করা হয়। এই কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করার জন্য হিলি ইন্দো বাংলাদেশ সীমান্তে উপস্থিত ছিলেন ভারতের পক্ষ থেকে হিলি ইমিগ্রেসনের ওসি শিপ্রা রায়, বাংলাদেশের হিলি ইমিগ্রেশনের OC আকতাব হোসেন, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সম্পাদক সৌমেন্দ্রনাথ রায়, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা চাইল্ড লাইনের কো-অর্ডিনেটর সূরজ দাশ ও হিলি থানার পুলিশ ও বিএসএফ সহ দুই দেশের প্রশাসনিক আধিকারিকরা। সূত্রে জানা গিয়েছে সম্ভবত কিছু দিনের ভেতরেই আরও বেশ কিছু বাংলাদেশি কিশোরকে তাদের পরিবারের হাতে প্রত্যার্পণ করা হবে।

এ বিষয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সম্পাদক সৌমেন্দ্রনাথ রায় জানান, ওই চারজন যুবক বে-আইনি ভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল। তিন জন হিলিতে এবং একজন মালদায় ধরা পরে। এরপর ওই চার বাংলাদেশি যুবক থেকে প্রায় আঠারো মাস ধরে শুভায়ন হোমে ছিল। শুভায়ন হোমে আরও ২৪ জন বাংলাদেশি রয়েছে বলে জানান তিনি। তাদেরও দেশে পাঠানোর জন্য তারা সব রকমের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান বিচারপতি।

অন্য দিকে ঠোটে কোনের হাসি থেকে বাংলাদেশি ইমন ইসলামের মা জানান, প্রায় দু বছর পর ছেলেকে ফিরে পেয়ে ভালো লাগছে। এখন ইমন কে নিয়ে বাড়ি ফিরে যাব।




You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!