প্রয়োজনীয় রসদ ফুরিয়েছে, হিলি আন্তর্জাতিক স্থল বন্দর অবরোধ করে বিক্ষোভ




হিলি, ৪ জুলাই: বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি করতে গিয়ে মাস খানেক ধরে আটকে রয়েছে ভারতীয় ২০০ লরি। খাওয়ার দাওয়ার থেকে প্রয়োজনীয় রসদ ফুরিয়ে গেছে অনেক দিন আগেই। ফলে সমস্যায় পড়েছে ২৫০ লরির চালক ও খালাসি। দীর্ঘ দিন ধরে সমস্যা থাকায় বুধবার হিলি আন্তর্জাতিক স্থল বন্দর অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় লরির চালক ও খালাসিরা। রপ্তানিকর ২ শতাংশ থেকে ২৮ শতাংশ করায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে ভারতীয় শুল্ক দফতর।




দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে আমদানি রপ্তানি হয়। ভারত থেকে চাল, পাথর, পেঁয়াজ সহ অন্যান্য সামগ্রী রপ্তানি করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ২০০-২৫০ পণ্যবাহী লরি ভারত থেকে বাংলাদেশে যায়। জানা গেছে, গত ৬ জুন ভারত থেকে ২০০টি চাল বোঝায় লরি বাংলাদেশ যায়। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে পানামা পার্কিংএ দাঁড়িয়ে রয়েছে পন্যবাহী ভারতীয় লরি গুলি। অভিযোগ, রপ্তানির উপর কর এক লাফিয়ে ২ শতাংশ থেকে ২৮ শতাংশ করা হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে। রাজস্ব বৃদ্ধি হওয়ায় সমস্যায় পড়েছে আমদানি রপ্তানিকারীরা। পাশাপাশি তাদের ব্যাপক ক্ষতির সন্মুখীন হতে হচ্ছে। এনিয়ে বাংলাদেশে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে মাস খানেক থেকে ভারতী পণ্যবাহী লরি দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশে। প্রয়োজনীয় রসদে টান পড়েছে অনেক দিন আগেই। আধপেটা খেয়ে থাকতে হচ্ছে লরির চালক ও খালাসিদের। এদিকে পণ্য আনলোডিং(খালি করা) না হলে দেশেও ফিরতে পারছে না গাড়ির চালক ও খালাসিরা। এমন গুরুত্বর সমস্যা দেখা দিলেও তা সমাধানের কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বাংলাদেশ সরকার বলে অভিযোগ।

এবিষয়ে লরির চালক পিন্টু উরাও জানান, এক মাস আগে লরি নিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ঢুকেছেন তারা। ওখানে গিয়ে লরির পণ্যসামগ্রী আনলোডিং(খালি করা) হচ্ছে না।। দীর্ঘ দিন ধরে ঘর পরিবার ছেড়ে রয়েছে। পণ্যসামগ্রী কবে আনলোডিং হবে তাও তারা বুঝতে পারছেন না। তাদের দাবী পণ্যসামগ্রী যেদিন ইচ্ছে আনলোডিং হোক তাদের ছেড়ে দেওয়া হোক। সেটাও করতে দেওয়া হচ্ছে না। এর প্রতিবাদে এদিন তারা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান।

লরির মালিক তথা ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কার্তিক সাহা জানান, গত ৬ জুন লরি গুলি বাংলাদেশে ঢোকে। ৭ তারিখ থেকে বাংলাদেশ সরকার রপ্তানি কর বাড়িয়ে দেয়। এর প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা আদালতের দ্বারস্থ হয়। যার ফলে তাদের পণ্যসামগ্রী ফাঁকা করা হচ্ছে না। এক মাসের উপর থেকে ওই পারে আটকে আছে লরির চালক থেকে খালাসিরা। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। আলোচনায় কি উঠে আসছে সেই ভাবে তারাও ব্যবস্থা নেবেন।

অন্য দিকে এবিষয়ে শুলক দফতরের সুপারিটেন্ডন্ট মহম্মদ সাহিদ জানান, ২ শতাংশ থেকে রপ্তানি কর ২৮ শতাংশ করা হয়েছে। যার ফলে বাংলাদেশে গিয়ে আটকে পড়েছে লরির চালক ও খালাসিরা। এর ফলে সরকারি রাজস্বের ক্ষতি হচ্ছে।




You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!