অর্থাভাবে ধুঁকছে বিএসএনএল সংস্থা, মাথায় হাত কর্মীদের




কলকাতা,২৯ জুন:অর্থাভাবে ধুঁকছে কেন্দ্র সরকারের অধীনস্থ টেলিযোগাযোগ সংস্থা বিএসএনএল। পরিস্থিতি দিনে দিনে এমন হয়েছে যে সংস্থার নিত্যনৈমিত্তিক কাজ চালানো কঠিন হয়ে গেছে। কার্যত এক প্রকার বাধ্য হয়েই এই অর্থ সংকট মেটাতে কেন্দ্র সরকারের দ্বারস্থ হলো এই সরকারি সংস্থা বিএসএনএল। বিএসএনএল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের দাবি সম্পদের নিরিখে সংস্থাটি আর্থিক অবস্থা মজবুত। সংগঠনের সম্পাদক পি অভিমুন্য জানান, কয়েক বছর আগেও এই সংস্থায় ভালো মুনাফা পাওয়া যেত। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে কেন্দ্র সরকার এই সংস্থাকে কোন প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে দেয়নি। এছাড়া এই সংস্থা এখনো ৪জি স্পেকট্রাম পায়নি। ফলে বর্তমান সংস্থা থেকে এই সংস্থা অনেক পিছিয়ে তাই এত ব্যর্থ।




কিছুদিন আগেও এই সংস্থা থেকে বছরে লাভ হতো ১০ হাজার কোটি টাকা, সেই সংস্থায় এখন ডোবার মুখে। যদিও কেন্দ্র সরকার ও বিএসএনএল সংস্থা তার কর্মীদের আশ্বাস দিয়েছে। এই সংস্থার মোট মাসিক ব্যয়ের পরিমাণ ১৩ হাজার কোটি টাকা। আর কর্মীদের বেতন দিতে প্রয়োজন ৮৫০ কোটি টাকা। বিএসএনএলের ব্যাংকিং এবং বাজেট বিভাগের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার পুরণ চন্দ্রা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, প্রতি মাসে আয় এবং ব্যয়ের মধ্যে বিশাল পার্থক্য হয়ে যাচ্ছে। আর্থিক সাহায্য এখনই না পেলে সংস্থা চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বেতন সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে সংগঠনের কর্মীদের। প্রায় ১ লক্ষ্য ৭৬ হাজার কর্মী সময়মতো বেতন পাচ্ছে না। সাথে আবার মাসে কাজের দিন‌ও কমেছে, ২৬ দিনের বদলে মাসে ২০ দিন কাজ করতে হবে। বিএসএনএল এর ক্যালকাটা টেলিফোন কন্ট্রাকচুয়াল লেবার ফোরামের তরফে বলা হয়, আমরা দৈনিক বেতনে কাজ করি যদি মাসিক কাজের দিন কমে যায় তাহলে আমাদের মাসিক আয় কমে যাবে। আর এমনিতেই গত কয়েক মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় সংসার নিয়ে পথে বসার অবস্থা হয়েছে। ক্যালকাটা টেলিফোন ঠিকা শ্রমিক সংগঠন’-এর সাধারণ সম্পাদক অরূপ সরকার বলেন, “বেতন না পেয়ে ৫ জন ঠিকা শ্রমিক আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।”




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!