মালদার দোকানে ধরা পড়ল পচা ও বাসি মাংস




মালদা, ৫ মে: এবার মালদার দোকানে ধরা পড়ল পচা ও বাসি মাংস। ইংরেজবাজার পৌরসভার অভিযানে শনিবার তা ধরা পড়েছে। ইতিমধ্যেই দুই মাংস ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ইংরেজবাজার থানায় অভিযোগ জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।




মাংসের দোকান সহ শহরের বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টে পৌরসভার হানা দারি বজায় থাকবে বলে জানিয়েছেন পৌরসভার চেয়ারম্যান। তবে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া অনেক সময়সাপেক্ষ বলে মন্তব্য করেছেন কলকাতা কর্পোরেশনের খাদ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নতুন আইন প্রবর্তনের দাবি তুলেছেন তিনি৷

সম্প্রতি কলকাতায় ভাগাড় কাণ্ডের পর রাজ্য জুড়েই মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। সেই ঘটনার পর সারা রাজ্যে মাংসের দোকান, হোটেল ও রেস্টুরেন্টে হানাদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলি। মালদার ইংরেজবাজারও তার ব্যাতিক্রম নয়। শুরু হয়েছে অবৈধ খাদ্য সামগ্রীর বিরুদ্ধে পৌরসভার অভিযান। প্রথম দিনই ধরা পড়েছে দুই অবৈধ মাংস কারবারি।

ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান নীহার রঞ্জন ঘোষ জানিয়েছেন, “মালদা শহরের বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর মাংসের দোকান রয়েছে৷ রয়েছে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট৷ সেসব জায়গায় সঠিক খাদ্য বিক্রি হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে পৌরসভার পক্ষ থেকে একটি দল গঠন করা হয়েছে। ওই দলে রয়েছেন ১৫ থেকে ২০ জন পৌরকর্মী৷ তাঁরা শহরের বিভিন্ন জায়গায় মাংসের দোকান সহ হোটেল ও রেস্ট্যুরেন্টে অভিযান চালাতে শুরু করে দিয়েছেন৷

প্রথম দিনই বাঁশবাড়ি মোড় এলাকায় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে থাকা দুটি মাংসের দোকান থেকে বাসি ও পচা মাংস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে৷ ওই দুই মাংস ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ইংরেজবাজার থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে এই অভিযান জারি থাকবে বলে জানিয়েছেন ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান।

অভিযানকারী দলের এক সদস্য জানিয়েছেন, বাঁশবাড়ি এলাকায় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে থাকা একাধিক মাংসের দোকানে তারা অভিযান চালিয়েছেন৷ সেখানে দুটি দোকান থেকে তারা মোট ১৩ কেজি বাসি ও পচা মাংস বাজেয়াপ্ত করেছেন। এর মধ্যে হরি মণ্ডল নামে এক ব্যবসায়ীর দোকান থেকে বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৯ কিলো পচা মুরগির মাংস। বিসমিল্লা কুরেশি নামে আরেক ব্যবসায়ীর দোকান থেকে মিলেছে ৪ কিলো খাওয়ার অযোগ্য মাংস৷ এছাড়াও বেশ কয়েকটি হোটেলে তারা অভিযান চালান৷ কিছু হোটেলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না করার দৃশ্যও তারা দেখেছেন৷ সেই সব হোটেল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছেন তারা।

কিন্তু এই সব অসাধু কারবারীদের পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মত আইন কী রয়েছে? কলকাতা কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র পারিষদ সদস্য অতীন ঘোষ জানিয়েছেন, “অসাধু খাদ্য ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা শুধু এই রাজ্যে নয়, ভারতবর্ষের কোনও রাজ্যেই নেই৷ তাতেই পোয়া বারো এই সব অসাধু ব্যবসায়ীদের৷ বর্তমানে গোটা দেশে ফুড সেফটি স্ট্যান্ডার্ড অ্যাক্ট চালু রয়েছে। ২০০৬ সালে প্রবর্তিত এই আইন ২০১১ সাল থেকে গোটা দেশে কার্যকর হয়েছে। কিন্তু এই আইন কার্যকর করতে অনেক সময় লাগে৷ অন্তত তিন মাসের আগে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা করা যায় না৷

সেকারণেই তারা দাবি তুলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার এমন একটি আইন প্রবর্তন করুক যাতে অসাধু খাদ্য ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়৷ আরও একটি সমস্যা রাজ্যে রয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের মফঃসল জেলাগুলিতে ফুট সেফটি আধিকারিকের অভাব রয়েছে৷ তবে সাম্প্রতিক ভাগাড় কাণ্ডের পর মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সমস্ত জেলা প্রশাসন ও পৌরসভাগুলিকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন৷ খাদ্য প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অভিযান চালানোরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷





You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!