আধারের লিঙ্কের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট থেকে সাফ ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা




বালুরঘাট,৬ ডিসেম্বরঃ মাস তিনেক আগে শেষ বার ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে ১ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা দেখেছিলেন বালুরঘাট পতিরাম এলাকার সাইকেল ব্যবসায়ী সুজিত সরকার। মাস তিনেক পর গত সোমবার দিন ব্যাঙ্কে ৫ হাজার টাকা জমা দেওয়ার পর পাশ বই প্রিন্ট করিয়ে দেখেন অ্যাকাউন্টে রয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৬০০ টাকা। মোট ২৯ বারে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা তুলে নেয় দুষ্কৃতীরা। তাও আধার লিঙ্কের মাধ্যমে। যদিও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে কোন দিনও নিজের আধার লিঙ্ক করাননি সুজিতবাবু বলে দাবী করেছেন। তাহলে কে অ্যাকাউন্টে আধার লিঙ্ক করালো আর কি করেই বা সেই টাকা তুললো দুষ্কৃতীরা তার কোন সদুত্তর দিতে পারেননি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। ঘটনায় বুধবার বিকেলে বালুরঘাট থানায়, জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা শাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন সর্বস্বান্ত হওয়া সুজিত মন্ডল। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। যদিও এই বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমের কাছে কিছু বলতে চাননি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। এদিকে আধার লিঙ্ক এর মাধ্যমে টাকা হাতানোর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের মধ্যে।







জানা গেছে, বালুরঘাট থানার পতিরাম এলাকায় বাড়ি সুজিত সরকারের। পেশায় তিনি সাইকেল ব্যবসায়ী। বাড়ির পাশেই ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্কের শাখায় তিনি টাকা জমিয়ে ছিলেন। বিগত আগস্ট মাস পর্যন্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে ১ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা ছিল। এর পর তিনি ব্যাঙ্কে গেলেও কত টাকা রয়েছে অ্যাকাউন্টে তা দেখেননি। এমনকি প্রিন্টার খারাপ থাকায় পাশ বইও তিনি প্রিন্ট করেননি। চলতি মাসের ৪ তারিখ অর্থাৎ সোমবার ফের ব্যাঙ্কে যান তিনি। রেকারিং এর ৪ হাজার টাকা জমা দিয়ে পাশ বই প্রিন্ট করার পর তা চক্ষু চড়ক গাছ হয়ে যাবার যোগান হয়েছিল সুজিতবাবুর। পাশ বই-এ মাত্র ৫ হাজার ৬০০ রয়েছে। মোট ২৯ বারের ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে তোলা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে জানান। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানতে পারেন অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে প্রত্যেক বার টাকাটি তোলা হয়েছে। এছাড়াও অন্য কারও আধার লিঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। যা সুজিতবাবুর নয়। সেই আধার লিঙ্কের ফলেই খুব সহজেই দুষ্কৃতীরা অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নিয়েছে। এর বেশী কিছু বলেননি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। এদিকে ঘটনার পর এদিন বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার, জেলা শাসক ও বালুরঘাট থানার কাছে লিখিত অভিযোগ জানান সুজিতবাবু।




এবিষয়ে সুজিত সরকার জানান, আগস্ট মাসে শেষবার অ্যাকাউন্টে ১ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা দেখেছিলেন। এরপর গত সোমবার পাশ বই প্রিন্ট করার পর দেখেন ব্যাঙ্কে মাত্র ৫ হাজার ৬০০ টাকা রয়েছে। তিনি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার লিঙ্ক করেননি। এমনকি মোবাইল নাম্বারও যুক্ত করা নেই অ্যাকাউন্টের ফলে। অথচ ব্যাঙ্কে গিয়ে দেখেন তার অ্যাকাউন্টের সঙ্গে অন্য কারোর আধার লিঙ্ক করা রয়েছে। সেই আধার লিঙ্ক থেকেই দুষ্কৃতীরা ২৯ বারে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা তুলেছেন। এই বিষয়টি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন এবং এদিন জেলা পুলিশ সুপার, জেলা শাসক ও বালুরঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

বালুরঘাট থানার পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন বলে জানিয়েছেন। অন্য দিকে এবিষয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কিছু বলতে চাননি।









You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!