মালদা মেডিক্যাল কলেজে জেলাশাসকের অনন্য নজির, জন্মদিল বহু প্রশ্নের







পরিতোষ সরকার, ২২ ফেব্রুয়ারিঃ মালদা মেডিক্যাল কলেজের অমানবিকতার নজির। হাসপাতাল চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন এক মহিলা পরে থাকলেও নজর পড়েনি কর্তৃপক্ষের। অভিযোগ স্থানীয় মানুষ অনুরোধ করলেও হাসপাতালে ভরতি করা হয়নি এই অসহায় হতদরিদ্র মহিলাটিকে। শেষে দুইদিন আগেই মালদা সফরে এসে মালদা মেডিক্যাল কলেজের অপরিচ্ছন্নতা অবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী মালদা ছাড়তেই নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন।




 

বৃহস্পতিবার আসরে নামে জেলাশাসক, ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান সহ অন্যান্য আধিকারিকেরা। শুরু হয় জঞ্জাল সাফাই অভিযান, তখনই অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় হাসপাতাল চত্বরে পরে থাকা এই মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে আবর্জনার পাশেই পরে থাকতে দেখেন জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্য।




জেলাশাসক বলে কথা, নজর পড়তেই ভাগ্য খুলে যায় মহিলার। দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে বিনা চিকিৎসায় আস্তাকুড়ে পরে থাকা এই মহিলাকে তুলে নিয়ে এসে প্রথমে মালদা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা, পরে প্রয়োজন হলে বহরমপুর মানসিক ভারসাম্যহীন হাসপাতালে ভরতির নির্দেশ দেন জেলাশাসক। মৃতপ্রায় এই অসহায় মহিলার শুরু হয় চিকিৎসা। হয়ত উপযুক্ত চিকিৎসা আর কোত্থের জোরে মহিলা একদিন সুস্থ হয়ে ফিরতে পারবেন সমাজের মূলস্রোতে।




নিঃসন্দেহে জেলাশাসকের এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আজ হয়ত তিনি এই নির্দেশের মাধ্যমেই মানবিকতার অনন্য নজির গড়লেন। কিন্তু, পাশাপাশি জেলাশাসকের এই উদ্যোগ তুলে দিল বেশ কয়েকটি প্রশ্নও! মানবিক মুখ্যমন্ত্রীর বারবার আর্ত আর গরিবের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ সত্ত্বেও এতদিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কী করছিলেন? ঝা চকচকে হাসপাতাল, বড়ো বড়ো আলোর নিচে থাকা এই অন্ধকার কী কারও চোখে পড়েনি এতদিন? নাকি দেখেও এই অসহায় মহিলার কপালে জুটেছে অবজ্ঞা আর অবহেলা? আজ জেলাশাসকের নজরে না পড়লে কী এই মহিলা কোনোদিনই চিকিৎসা পরিষেবা পেতেন না? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর কিন্তু এখনও থেকে গেল অধরা।








error: Content is protected !!