রাজ্য সরকারের নানা প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ভরসা নেই মাহালি দম্পতির




শিলিগুড়ি, ২৬ মে: রাজ্য সরকারের একাধিক প্রতিশ্রুতিতেও ভরসা নেই মাহালি দম্পতির। আর তাদের দলে ধরে রাখতে তাদের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী তথা দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি গৌতম দেব।




এদিন শিলিগুড়ি সংলগ্ন নকশালবাড়ি ব্লকের দক্ষিণ কোটিয়াজ্যোতে অবস্থিত মাহালি দম্পত্তির সঙ্গে দেখা করে তাদের অভাব অভিযোগ শোনেন মন্ত্রী। আর অভাব অভিযোগ জানতেই ফের একবার আশ্বাসের কথা জানিয়ে আসেন মন্ত্রী।

গত ২৪ মে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ বিজেপির বিস্তারক কর্মসূচিকে শিলিগুড়িতে এসেছিলেন। নিয়মমাফিক সেই কর্মসুচিতে রাজু ও গীতা মাহালির বাড়িতে দুপুরের খাবার সেরেছিলেন তিনি। এরপর অমিত শাহ যেতেই আশ্চর্যজনকভাবে এই মাহালি দম্পতিকে তৃণমূলে যোগদান করতে দেখা গিয়েছিল। আর যোগদানের পরিবর্তে তাদের একাধিক সামাজিক সুরক্ষার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। আর সেই আশ্বাসের একটিরও বিগত এক বছরে পূরণ হয়নি। ফলে এদিন মন্ত্রী আশ্বাস দিলেও খুব একটা সন্তুষ্ট নন মাহালি দম্পতি।

এদিন মন্ত্রী মাহালি দম্পতির সঙ্গে দেখা করে তাদের রাজ্য সরকারের গীতাঞ্জলি আবাস প্রকল্পে ঘর তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি গিতা মাহালিকে ৩-৪ হাজার টাকার একটি সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথাও মন্ত্রী জানান। এছাড়াও তাঁর ছেলেমেয়েদের স্কুলের পুরো পোশাক দেওয়ার কথা জানান। যদিও নির্মল বাংলা প্রকল্পে মাহালির বাড়িতে শৌচাগার নির্মাণ করা হলেও সেই শৌচাগার কিছুদিন পরেই খারাপ হয়ে যাওয়ায় ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে মন্ত্রীকে অভিযোগ করেন রাজুবাবু। সঙ্গে সঙ্গে নকশালবাড়ির বিডিও বাপি ধরকে এই সমস্যার সমাধানের নির্দেশ দেন তিনি।

পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকার চেকও মাহালি দম্পতির হাতে তুলে দেন মন্ত্রী। এদিন মন্ত্রী বলেন, ব্লকে আরও দুঃস্থ পরিবার রয়েছে। তবে মাহালি দম্পতি একটু বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।তবে রাজ্য সরকারেরর ৪৮টি সামাজিক সুরক্ষার প্রকল্পকে নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে ফের একবার যাওয়া শুরু করব। গরীব মানুষের স্বার্থে এইসব প্রকল্পকে নিয়ে সাধারণ মানুষকে অবগত করা হবে।

অন্যদিকে মন্ত্রী যেতেই রাজু মাহালি বলেন, “বিজেপিই ভালো। ওই একদিনই বিজেপি নেতা এসে খাওয়া দাওয়া করে চলে গেছেন। তারপর আসেনি। কিন্তু ওই দিনের পর থেকে প্রায়ই তৃণমূলের নেতাদের আনাগোনা লেগে রয়েছে। আর পারছি না।”





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!