কুশমণ্ডি গ্রামীণ হাসপাতালে স্বাস্থ্য কর্মীদের কর্মবিরতি







কুশমণ্ডি, ৪ ফেব্রুয়ারিঃ রোগী পরিষেবার নানা বাহানায় বেশ কিছুদিন ধরেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মী হেনস্থার ঘটনা প্রকাশ্যে আসছিল কুশমণ্ডিতে গ্রামীণ হাসপাতালে। অভিযোগ উঠে আসছিল স্থানীয় তৃণমূল মদতপুষ্টদের বিরুদ্ধে। চাপের মুখে অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা করছে পুলিশ প্রশাসন। ফলে শঙ্কিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরা একত্রিত হয়ে এবার সরাসরি পথে নেমেছে নিরপত্তা দাবিতে। পুলিশ বা প্রশাসনে আস্থা না থাকার কারণে এই পদক্ষেপ বলে জানাগেছে।





 

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমণ্ডি ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মী থেকে শুরু করে অনান্য কর্মীরা রবিবার এক আন্দোলন শুরু করে একত্রিত ভাবে। শতাধিক আন্দোলনকারীরা এদিন হাসপাতাল পার্শ্ববর্তী এলাকায় একটি ছোট প্রতিবাদ সভা করেন। এরপর গ্রামীণ হাসপাতাল চত্বর থেকে একটি মৌন মিছিল বের করা হয় কুশমণ্ডি সদর এলাকায়। ব্যানারের মাধ্যমে নিজেদের নিরপত্তার দাবি করেন তারা।




কুশমণ্ডি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক আমিত দাস বলেন, নানা অজুহাতে বাইরের কিছু মানুষ তাদের হুমকি দেওয়ার পাশপাশি শারীরিক ও মানসিক হেনস্থা করছেন। পরিষেবা নিয়ে কোনো সমস্যা না থাকলেও কয়েকদিন যাবৎ এই ঘটনা ঘটছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের সঙ্গে। বাইরের কিছু মানুষের এই আচরণে তারা গরিব ও সাধারণ মানুষের পরিষেবা দিতে মনোবল হারাচ্ছেন। তা স্বত্তেও তারা পরিষেবা এখনও ঠিক রেখেছেন। কিন্তু কতদিন তারা এইভাবে পরিষেবা চালিয়ে যেতে পারবেন তা জানা নেই। রাজনৈতিক দল ও ব্লক প্রশাসনের কাছে তাদের আবেদন নিরপত্তার।




প্রসঙ্গত, ১৮ জানুয়ারি কুশমণ্ডিতে একটি পথ দুর্ঘটনায় আহত হন কাশিনাথ বসাক নামে এক ব্যক্তি। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। কিন্তু মাথায় চোট লাগায় ওই ব্যক্তিকে গঙ্গারামপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রেফার করা হয়। কাশিনাথ বাবুকে তার পরিবারের লোকেরা গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটিতে নিয়ে গিয়ে স্ক্যান ও অনান্য চিকিৎসা করায়। এদিকে ওই রোগীর কাছের লোক হিসেবে পরিচিত, এলাকায় তৃণমূলের প্রভাবশালী কয়েকজন কুশমণ্ডি ব্লক হাসপাতালে যান রাতের বেলায়। তারা চিকিৎসক দেবজ্যোতি ঘোষকে বাইরে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ।এরপরেই থানায় দ্বারস্থ হন ওই চিকিৎসক।




এদিকে অভিযুক্তরা সকলে প্রভাবশালী হওয়াই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। দু’পক্ষকে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ তৈরি হয়। চিকিসকরা সাংগঠনিক ভাবে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছিল। কিন্তু তার রেষ চলছেই ওই গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসকদের উপর। ফলে এবার বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছে ব্লকের সমস্ত স্বাস্থ্য কর্মী ও চিকিৎসকরা।





error: Content is protected !!