বালুরঘাটের এক্সিস ব্যাঙ্কে শিক্ষিকার অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও প্রায় ৯ লাখ টাকা







বালুরঘাট, ১৯ জানুয়ারিঃ এক এক করে প্রাক্তন শিক্ষিকার অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও ৮ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা। ছয় মাস ধরে এটিএম থেকে অল্প অল্প করে পুরো টাকা তুলে নেওয়া হয়। প্রায় দেড় বছর পর গতকাল ব্যাঙ্কে পাশ বই প্রিন্ট করতে গিয়ে চক্ষুক চড়ক গাছ হয়ে যায় প্রাক্তন শিক্ষিকা ঝর্ণা লাহা কুলভির(৭০)। এটিএম কার্ড থেকে টাকা তোলা হলেও ঝর্ণাদেবীর দাবি তিনি কোন এটিএম কার্ডই ইস্যু করেননি। ফলে এটিএম থেকে কি করে টাকা তোলা হল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এমনকি এই ঘটনায় ব্যাঙ্ক কর্মী যুক্ত রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। এদিকে ঘটনায় শুক্রবার বালুরঘাট থানায় ও বেসরকারি ওই ব্যাঙ্কে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ঝর্ণা লাহা কুলভি। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস পুলিশ ও ব্যাঙ্ক কর্তাদের।







জানা গেছে, বালুরঘাট খাদিমপুর গালর্স হাই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষিকা ঝর্ণা লাহা কুলভি। বাড়ি বালুরঘাট পৌরসভার চকভবানী এলাকার বাসিন্দা। বছর দশেক আগে তিনি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। এরপর ১ লা জানুয়ারি ২০১৬ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর বালুরঘাটের একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক (এক্সসিস ব্যাঙ্ক) কর্তৃপক্ষ বাড়িতে গিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলেন। সেই সময় তিনি ব্যাঙ্কে ৮ লক্ষ টাকা জমা রাখেন একবারে। এদিকে অ্যাকাউন্ট খোলার পর ব্যাঙ্ক কর্মীরা তার বাড়িতে যায় এটিএম কার্ড করে দেওয়ার জন্য। বয়স হয়ে যাওয়ায় তিনি এটিএম কার্ড নিতে অস্বীকার করেন। এদিকে ব্যাঙ্কে টাকা রাখার পর একবারও তা দেখতে যাননি।

The specified carousel is trashed.





বিশেষ কারণবশত গতকাল ব্যাঙ্কে যান তিনি টাকা তুলতে। কিন্তু যে টাকা তুলবেন বলে কর্তৃপক্ষকে জানান তা তার অ্যাকাউন্টে নেই বলে জানানো হয়। এর পর তিনি বিষয়টি দেখতে ব্যাঙ্কের পাশ বই প্রিন্ট করান। এরপর ব্যাঙ্কের পাশ বই দেখে চক্ষুক চড়ক গাছ হয়ে যায় ওনার। ২১ জুলাই ২০১৭ থেকে ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত তার অ্যাকাউন্ট থেকে ৮ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা তোলা হয় কলকাতার গড়িয়া এলাকা থেকে। এর পর তিনি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ও বালুরঘাট থানার পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান ঝর্ণাদেবী। এই ঘটনায় ব্যাঙ্ক কর্মী যুক্ত রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেছেন। এদিকে অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস পুলিশ ও ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের।




এবিষয়ে প্রাক্তন শিক্ষিকা ঝর্ণা লাহা কুলভি জানান, ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্টটি খোলেন। সেখানে তিনি একবারে ৮ লক্ষ টাকা জমা করেন। বাড়িতে বসেই অ্যাকাউন্টি খুলেছিলেন তিনি। অ্যাকাউন্ট খোলার পর তার কাছে ব্যাঙ্ক কর্মীরা এসেছিল এটিএম কার্ডের জন্য। বয়স হওয়ায় তিনি এটিএম কার্ড নিতে অস্বীকার করেন তিনি। এদিকে দীর্ঘ দিন পর ব্যাঙ্কে টাকা তুলতে গিয়ে জানতে পারেন তারা অ্যাকাউন্টে টাকাই নেই। সব টাকা এটিএম মারফৎ তুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি এটিএম কার্ড না নিলেও কি করে এটিএম কার্ড থেকে টাকা তোলা সম্ভব হল। এতে ব্যাঙ্ক কর্মীরাই যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। ঘটনায় তিনি পুলিশ ও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।




অন্য দিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিযোগ ওঠা ব্যাঙ্কের ম্যানেজার জানান, অভিযোগ পেয়েছেন তারা। ওই গ্রাহককে সবরকম ভাবে সাহায্য করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। যদিও এই বিষয়ে এখুনি সংবাদ মাধ্যমের কাছে কিছু বলতে চাননি বালুরঘাট থানার পুলিশ।







You May Also Like

error: Content is protected !!