জিলিপি বিক্রি করে উচ্চ মাধ্যমিকে অভাবনীয় সাফল্য বিউটির




বংশীহারী, ১০ জুন: পরিবারে আর্থিক অনটন নিত্য সঙ্গী। বাবাকে হাতে হাতে সাহায্য করতে মেলায় হাটে জিলিপি বিক্রি করত একরতি মেয়ে বিউটি প্রামাণিক। সে এবারে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল। সব প্রতিকূলতাকে জয় করে আজ সাফল্যের শিখরে বিউটি। কলা বিভাগে সে এবার ৪৪৫ নম্বর পেয়েছে। আগামী দিনে শিক্ষিকা হওয়ার ইচ্ছে বিউটির। উচ্চ শিক্ষার জন্য বাঁধ সেধেছে আর্থিক অনটন। সরকারি বা সহৃদয়বান ব্যক্তির সাহায্যের আর্জি পরিবারের।




বংশীহারী থানার শেরপুর এলাকায় বাড়ি বলয় প্রামাণিকের। পেশায় জিলিপি বিক্রেতা। স্ত্রী ময়না প্রামাণিক ও দুই মেয়েকে নিয়ে সংশার বলয়বাবুর। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে অনেক দিন আগেই। বলয়বাবুর ছোট মেয়ে বিউটি প্রামাণিক। সে বংশীহারী গার্লস হাই স্কুল থেকে এবারে কলা বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক দিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৪৫। প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি। তিন জনের সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী।

এমত অবস্থায় বাবার হাত শক্ত করতে বিউটি পড়ার সময় বাদ দিয়ে তার বাবার সঙ্গে মেলায় হাটে হাটে জিলিপির বিক্রি করে। এমনকি সে নিজেও জিলিপি তৈরি করতে পারে। অনেক ছোট থেকেই বাবার সঙ্গে জিলিপি বিক্রি করে আসছে সে। জিলিপি বিক্রি শুধু নয় গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিত সে। সব হিসাব রাখে। দোকান বাদ দিয়ে যে সময় টুকু পায় সে পড়ত। তার এই সাফল্যের পেছনে স্কুলের শিক্ষিকা থেকে পরিবার ও বন্ধুরা তাকে সব রকম ভাবে সাহায্য করেছে। আগামী দিনে সে শিক্ষিকা হতে চায় সে।

বিউটির বাবা বলয় প্রামাণিক জানান, মেয়ে এমন ভাল ফলাফল করবে স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। রোজদিন রাত ১১-১২ টা অবধি দোকানেই থাকত মেয়ে। তারপর পড়াশুনা করত। প্রথমে যখন ফোন করে মেয়ে তাকে বলে ভাল রেজাল্ট করেছে কিছুই বুঝতে পারেনি তারা। তারা কোনও দিন পড়াশুনা করেনি। তাই এই সব জানেন না। পরে সকলের মুখে শোনার পর বুঝতে পারেন মেয়ে খুব ভালো ফলাফল করেছে। একটা সময় ভেবেছিলেন মেয়ে হয়ত পাশও করতে পারবে না। তাদের ভাবনাকে পালটে দিয়েছে মেয়ে। খুব খুশি তারা।

বিউটি প্রামাণিক জানায়, বাবার দোকানে সে থাকত। জিলিপির দোকানে বসত সে। সেই সব বিক্রি করে বাকি সময় পড়াশুনা করত। তার এই সাফল্যের পেছনে স্কুলের শিক্ষিকা থেকে সকলে খুব সহযোগিতা করেছে। সবার প্রতি সে কৃতজ্ঞ।





error: Content is protected !!