গঙ্গারামপুর হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের মারধরের অভিযোগ







গঙ্গারামপুর, ২৩ মার্চ: সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের(১০২ ডায়াল) মারধর করার অভিযোগ উঠল বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের দুই চালক গুরুতর আহত হয়। তাদের হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটে গঙ্গারামপুর হাসপাতাল চত্বরে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকুমার দে। ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের দু’জন মহিলা সহযোগী।





 

চলতি মাসের ৭ মার্চ জিপিএস যুক্ত ১২ টি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স এর শুভ সূচনা করেন বালুরঘাটের সাংসদ অর্পিতা ঘোষ। এর মধ্যে ৫ টি করে বালুরঘাট ও গঙ্গারামপুর হাসপাতালে থাকবে। এদিন গঙ্গারামপুর হাসপাতালে তিনটি জিপিএস যুক্ত অ্যাম্বুলেন্স আসে। এতেই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় অন্য অ্যাম্বুলেন্স চালকদের মধ্যে। অভিযোগ, হাসপাতালে মাতৃযান বা নিশ্চয় যান হিসেবে কাজ করা বে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সকে প্রতি কিলোমিটার আট টাকা করে ভাড়া দেওয়া হয়। সেখানে নতুন এই অ্যাম্বুলেন্সকে প্রতি কিলোমিটার সতেরো টাকার বেশি দেওয়া হচ্ছে। এতেই বচসা বাধে তাদের মধ্যে।




বচসা থেকে হাতাহাতি শুরু হয় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক ও বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালকের। ঘটনায় আহত হয় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের দুই চালক। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অ্যাম্বুলেন্সে থাকা মহিলা সহযোগীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে বাঁচেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ। পুলিশি হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি। এদিকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে কাজ করলে গঙ্গারামপুরের ২০ টি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স অনির্দিষ্ট কালের জন্য কাজ বন্ধ করে দেবেন বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।




এবিষয়ে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক তনয় দাস জানান, তারা আজকে গঙ্গারামপুর হাসপাতালে ৩ টি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আসে। এই সময় তাদের উপর চড়াও হয় কিছু লোক। তারা কারা ঠিক চিনতে পারেননি। তাদের মারধরে দু’জন চালক আহত হয়েছেন। আর তিনজন মহিলা সহযোগী ভয়ে থানায় চলে গেছেন।




অন্যদিকে এবিষয়ে গঙ্গারামপুর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শঙ্কর সরকার জানান, তারা ২০১১ সাল থেকে কাজ করছেন গঙ্গারামপুর হাসপাতালে। মোট ২০টি গাড়ি তাদের হাসপাতালে মাতৃযান ও নিশ্চয়যান হিসেবে কাজ করছে। সেখানে তাদের প্রতি কিলোমিটার ৮ টাকা করে দেওয়া হয়। অথচ নতুন এই অ্যাম্বুলেন্স গুলোকে ১৭ টাকার বেশি দেওয়া হচ্ছে। এমনটা হবে কেন। এমনকি তাদের ৫-৬ মাসের উপর বিল আটকে রাখা হয়। তাদের সাফ দাবি এই অ্যাম্বুলেন্স গুলো চললে তারা অনির্দিষ্ট কালের জন্য গাড়ি বন্ধ রাখবেন।




জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকুমার দে জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। গঙ্গারামপুর পৌরসভা বিষয়টি দেখছে। আগামীকালের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে বলে সুকুমারবাবু জানিয়েছেন।





You May Also Like

error: Content is protected !!