নাতির বিয়ের বৌভাতে সেরা উপহার ঠাকুমার,চোখের প্রখর দৃষ্টি তাই চক্ষু দান করে চির নিদ্রায় বিদায় নিলেন ঠাকুমা




নদিয়া,০৫ ডিসেম্বর:নাতির বিয়ের সেরা উপহার চক্ষু দান করে চির নিদ্রায় বিদায় নিলেন ৯৩ বছর বয়সী ঠাকুমা। এক নজির বিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকলেন দাস পরিবারের সকল সদস্য সহ হাবড়া হাসপাতালের উপস্থিত রোগীর আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে সাধারন পথ চলতি মানুষ। পরিবার ও হাসপাতাল সুএের খবর, নদীয়া জেলার হরিনঘাটা থানার ঝিকরা বটতলা এলাকার বাসিন্দা বছর ৯৩ র পারুল দাস মঙ্গলবার দুপুরে নাতির বৌভাতের অনুষ্ঠানের জন্য তরিঘরি করে ঘরে ফেড়ার পথে হটাৎ মাথা ঘুরে আচমকাই পড়ে যায়।




বাড়িতে তখন নাতি সঞ্জীব দাসের ধুমধাম করে বৌভাতের ‌আয়োজন গ্রামবাসি থেকে আত্মীয় পরিজনদের ভীড়। পরিবারের সদস্য ও উপস্থিত আত্মীয়রা মিলে তরিঘরি হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে আসেন অক্সিজেন ও স্যালাইন দেওয়া হয় দ্রুততর। কিন্তু কিছু সময় বাদে‌ই সব শেষ। দাস পরিবারের নতুন সদস্যের আগমন বাড়িতে নব বধু রুপে আর অন্য দিকে পুরনো সদস্যের চির বিদায়। গোটা হাবড়া হাসপাতাল চত্বর স্তব্ধ কিছু সময়ের জন্য।

পারুল দেবীর মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙ্গে পরলেন পরিবার বর্গ। পারুল দেবী মৃত্যুর আগে রেখে গেলেন দাস বাড়ি আর সম্পত্তি সহ ৯ ছেলে আর ১ মেয়ে ও ১৯ জন নাতি আর নাতনিদের। একান্নবর্তী পরিবারের সদস্যদের সিদ্ধান্ত হয় পারুল দেবীর চেখের আলোয় দেখবে দুটি অন্ধ মানুষের মধ্য দিয়ে। তাই চক্ষু দানের স্বীদ্ধান্ত নেন তারা। খবর দেওয়া হয় ব্যারাকপুর অবস্থিত দিশা আই হাসপাতালে,দ্রুত চিকিৎসকেরা এসে পারুল দাসের চোখের “কর্নিয়া”সংগ্রহ করেন।

পরিবারের এই মহান উদ্দ্যেগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলেই। পুএবধু‌ সুলেখা দাস বলেন,মায়ের এই মৃত্যু সত্যি মানতে কষ্ট হচ্ছে। খুব হাসিখুশি থাকতে ভালোবাসতেন সবসময়। সংসারে আমাদের কোন ঝামেলা নেই আমরা সবাই এক সাথে একই পরিবারে মিলে মিশে থাকি। শাশুড়ি মায়ের চোখের আলো আমাদের থেকেও অনেক বেশি শক্তিশালী ছিলেন।

আমরা চাই সমাজের প্রত্যেকটি মানুষ এভাবে এই ধরনের মহত কাজে এগিয়ে আসলে সমাজ অনেকটাই এগিয়ে যাবে। নাতি প্রদিপ দাস বলেন,কলকাতা অঙ্গদান করছে একের পর এক অনেক মানুষ,আমার ঠাকুমার চোখ দিয়ে যদি কারো খারাপ চোখের আলো ফিরে পায় ওটাই অনেক আনন্দের।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!