প্রয়াত হলেন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী, শোকের ছায়া দেশ জুড়ে




ওয়েব ডেস্ক, ১৬ আগস্টঃ শারীরিক সংকটজনক অধ্যায় থেকে ফিরে আসতে পারলেন না দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী। আজ বিকেল ৫ টা পাঁচ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৯৩ বছর। দিল্লির এইমস হাসপাতালে বেশ কিছুদিন ভর্তি থাকার পর বুধবার সন্ধ্যে থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। বুধবার বিকেলে ডাক্তাররা জানান, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। ১৪ আগস্ট দুপুর থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। খবর পাওয়া মাত্র ছুটে আসেন নরেন্দ্র মোদী, বিজেপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রী। আজ বিকেলে সেখানে পৌঁছে যান এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা পাঁচ নাগাদ এইমস কর্তৃপক্ষ মেডিকেল বুলেটিনে জানিয়ে দেয়, তিনি আর নেই।




হৃদরোগে ও কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে গত ১১ জুন এইমসে ভর্তি হয়েছিলেন বাজপেয়ী। তখন থেকেই এইমসে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। আজ ৫ টা ৫ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুতে যেন গোটা দেশের নাগরিকের মনে কাল ছায়া নেমে এসেছে।

ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী ১৯২৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে অটলবিহারী বাজপেয়ীর জন্ম হয়। তাঁর মাতা কৃষ্ণা দেবী এবং পিতা কৃষ্ণবিহারী বাজপেয়ী। কৃষ্ণবিহারী ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও কবি। প্রথম জীবনে বাজপেয়ী সরস্বতী শিশু মন্দির স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে স্নাতক হন। স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করেন কানপুরের ওয়াংলো-বেদিক কলেজে। ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। যোগ দেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে। ১৯৫৭ সালে বলরামপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রথম লোকসভায় নির্বাচিত হন। শুরু থেকেই সংসদে সুবক্তা হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৯৮৪ সালে অপারেশন ব্লু স্টারের বিরোধিতা করেছিলেন। ইন্দিরা গান্ধী দুই দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হওয়ার পরে শিখ গণহত্যারও নিন্দা করেছিলেন কঠোর ভাষায়। ১৯৮৪-র লোকসভা ভোটে বিজেপি দুটি আসন পায়।

১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙার পরে শোকপ্রকাশ করেন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের জন্য বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে। তবে তা মাত্র ১৩ দিনের জন্য। ১৯৯৮ সালে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ ফের ক্ষমতায় আসে। বাজপেয়ী ফের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। সেবার পোখরানে ভারত পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করে। ১৯৯৯ সালে বাজপেয়ী পাকিস্তানের সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো করার উদ্যোগ নেন। দিল্লি-লাহোর বাসযাত্রা চালু করেন। কিন্তু কিছুদিন পরেই পাকিস্তানের সেনা গোপনে ভারতে ধুলে পড়ে। কারগিল শহরের আশপাশের পাহাড় চূড়াগুলির দখল নিয়ে নেয়। ভারতীয় সেনা পরিচালনা করে অপারেশন বিজয়। পাকিস্তানি হানাদারেরা পালিয়ে যায়। ১৯৯৯ সালের মাঝামাঝি ডিএমকে সমর্থন তুলে নিলে বাজপেয়ী সরকারের পতন ঘটে। কিন্তু অন্তর্বর্তী নির্বাচনে ফের জয়ী হয় এনডিএ। বাজপেয়ী ফের প্রধানমন্ত্রী হন। প্রথম অকংগ্রেসী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে পাঁচ বছর পূর্ণ করেন।

এই সময় দেশে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের জঙ্গি হানা ঘটে। ১৯৯৯ সালের শেষে আই সি ৮১৪ নামে একটি ভারতীয় বিমানকে জঙ্গিরা ছিনতাই করে। যাত্রীদের মুক্ত করার জন্য তিন জঙ্গিকে জেল থেকে মুক্তি দিতে হয়। ২০০১ সালে জঙ্গিরা সংসদ ভবনে আক্রমণ করে। ২০০৪ সালে এনডিএ লোকসভা ভোটে পরাজিত হওয়ার পরে রাজনীতি থেকে অবসর নেন।শেষ বয়সে ২০১৪ সালে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত হন তিনি। তবে এর আগে থেকেই নিজেকে রেখেছিলেন কিছুটা রাজনীতির আড়ালে। তবুও সকলের কাছে উনি আজও ভালবাসা পাওয়া মানুষ। দেশের মানুষের চোখে আজও অটলবিহারী বাজপেয়ী একজন সৎ-নিষ্ঠাবান-গণতন্ত্রের রচয়িতা।




You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!